somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১৫ ই আগষ্ট-শোকে মূহ্যমান

১৫ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ১০:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“ঘটনাটা ১৯৭৫ সালের জানুয়ারী মাসের, তারিখটা আমার ঠিক মনে পড়ছেনা। তখন বয়স আমার পচিশ ছুঁই ছুঁই, থাকি মিরপুরে। বঙ্গবন্ধু একটা ছোট খাট জনসভায় অংশ নিতে মিরপুর এলেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করার এই সুযোগ আমি কিছুতেই হাত ছাড়া করতে চাইলাম না। মাত্রই কয়েক মাস আগে বাকশাল পাশ হয়ে গেল। কট্টর আওয়ামিলীগার হলে আমি কিছুতেই বাকশাল সমর্থন করতে পারছিলাম না, ভাবলাম যদি সুযোগ পাই বঙ্গবন্ধুকে এই বিষয়ে একটা প্রশ্ন করব। নির্ধারিত সময়ের কীছুটা আগে বঙ্গবন্ধু স্টেযে উঠে নিজের আসনে গিয়ে বসেই মোহনীয় বঙ্গিতে তার চূরুঠে টান দিলেন। চুরুঠ টানা ও কি যে এক শিল্প তা বঙ্গবন্ধুকে না দেখলে বুঝা যেত না। তখন এত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, আর তখনকার নেতারাও এখনকার নেতাদের মত এত রিজার্ভ ছিলেন না, একেবারে গন মানুষের সাথে মিশে যেতেন। বঙ্গবন্ধুর এই গুনের সাথে অন্য কোন গুনের এত তুলনা হয় না। আমি বেশ কয়েকবার বঙ্গবন্ধুর সামনে দিয়ে উঁকি মেরে গালাম যেন তার চোখে পড়ি। অবশেষে আমি সফল হলাম। এভাবে পায়চারি করতে দেখে বঙ্গবন্ধু আমাকে তার কাছে ডেকে নিলেন, একে একে আমার নাম, ঠিকানা, কি করি ইত্যাদি জানলেন। এরপর এখানে কেন এলাম তা জানতে চাইলেন। আমি বললাম আপনাকে একবার ছুঁয়ে দেখতে চাই। আমার কথা শুনে তিনি অট্ট হাসি দিলেন, এরপরে আমাকে তার বুকে টেনে নিলেন। আমার যে সে কি অনুভুতি তা ভাষায় বোঝানো যাবেনা। এরপরে আমি বঙ্গবন্ধুকে বললাম আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই, তিনি সানন্দে তা জানতা চাইলেন। আমি বললাম আপনি কেন বাকশালে সম্মতি দিলেন। প্রশ্নটি শুনে তিনি কিছুক্ষন নীরব থাকলেন। এরপর আমাকে চমতকারেভাবে বাকশালের প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে দিলেন। সেদিন থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমার শ্রদ্ধা আরো বেরে গেল আর আমি বাকশালের অন্ধ ভক্ত হয়ে গেলাম। আজ বঙ্গবন্ধুর মহাপ্রয়ান দিবসে আমি শ্রদ্ধাভরে তাকে স্মরন করছি। বংবন্ধু যদি আজ বেঁচে থাকতেন আর বাকশাল যদি টিকে থকতে আমেরিকার মত দেশ আমাদেরকে নতি স্বীকার করে চলতা হত। ভারত থেকে একটা পিঁপড়া ও যদি আমাদের দেশের উপর দিয়ে যেত চাইত তবে টেক্স দিয়ে যেতে হত। এই জাতির দুর্ভাগ্য তারা নেতা চিনতে পারলনা।”

১৫ ই আগষ্ট আসলে আমারা এরকম অসংখ্য বুলি আওরাতে দেখি, সত্য মিথ্যা যাচাই করবে কে?
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ১০:১০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×