হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
“হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ক্বিয়ামতের দিন তোমাদেরকে
তোমাদের এবং তোমাদের পিতার নাম ধরে ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা তোমাদের সর্বোত্তম নাম রাখবে।” (আহমদ, আবূ দাঊদ, মিশকাত)
মূলতঃ নাম হচ্ছে মনোভাব এর বহিঃপ্রকাশ। প্রচ্ছন্ন মনটির বহিরাবরণ। নাম ব্যক্তির উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। মানুষ তার নামের সৌন্দর্য্য, কদর্যতা, মর্যাদা, অমর্যাদা, নম্রতা ও কাঠিন্যতা দ্বারা অবশ্যই প্রভাবিত হয়। ছহিবে আসমা উল হুসনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের বিভিন্ন নাম রাখতেন এবং অপছন্দনীয় নাম পরিবর্তন করে সর্বোত্তম নাম রাখতেন। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
“উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বর্ণনা করেন, হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুৎসিত নাম পরিবর্তন করে রাখতেন।” (তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
অর্থাৎ কারো নাম কুৎসিত বা মন্দ অর্থবোধক হলে অথবা সেটা থেকে কোন নৈরাশ্যজনক অর্থ প্রকাশের অবকাশ থাকলে রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে নাম পরিবর্তন করে ভাল অর্থবোধক নাম রাখতেন। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে-
“প্রখ্যাত তাবিয়ী হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার দাদাকে তার ‘হাযন’ (কঠোর শক্ত) নাম পরিবর্তন করে ‘সাহল’ রাখতে বললেন। কিন্তু আমার দাদা এরূপ করতে অসম্মতি প্রকাশ করলেন। যার ফলে পরবর্তীতে এ নামের দূর্ভাগ্যজনক প্রতিক্রিয়ায় আমাদের পরিবারে সর্বদা দুঃখ-দৈন্যতা লেগেই রইল।” (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ তাঁদের নবজাত সন্তানকে দোয়া-বরকত লাভের জন্য হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খিদমতে নিয়ে আসতেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে তাহনীক করতেন এবং দোয়া করতেন। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ রয়েছে-
“হযরত সাহল ইবনে সায়াদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুনযির ইবনে আবূ উসাইদ যখন ভূমিষ্ট হলেন তখন তাঁকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আনা হলো। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে নিজের উরু মুবারকের উপর রাখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, “তাঁর নাম কি? উত্তরদাতা বললেন, ‘অমুক’। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘না’ বরং তাঁর নাম ‘মুনযির’। অর্থাৎ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যক্ত নামটি পছন্দ করলেন না এবং বললেন, তোমাদের এ নাম রাখা ঠিক হয়নি। বরং আমি তাঁর নাম রাখলাম ‘মুনযির’। (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
অন্য হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা বলেন, হযরত উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ‘আছিয়া’ নামে এক কন্যা ছিলো। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর নাম পরিবর্তন করে ‘জামিলা’ রাখলেন। (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)
মহান রব্বুল আলামীন আল্লাহ পাক আমাদেরকে সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম রাখার তাওফিক দান করুন। আর যদি নাম বিকৃত অর্থপূর্ণ হয়েই যায় তবে আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নতের সূক্ষাতিসূক্ষ্ম-পূঙ্খানুপূঙ্খ অনুসরণ-অনুকরণে পরিবর্তন করে সুন্দর অর্থপূর্ণ নাম রাখার তাওফিক দান করুন। (আমীন)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



