somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশুদের প্রতি দয়া বা স্নেহ

২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তথাকথিত উন্নত বিশ্বে আজ মায়া-মমতা নিঃশেষিত প্রায়। এমনকি যান্ত্রিক সভ্যতার যাতাকলে তারা আজ শিশুদের প্রতিও স্নেহ-মমতা প্রদর্শনে চরম অমানবিকতা প্রদর্শন করে। বিষয়টি ওদের রাষ্ট্র যন্ত্রকে ভাবিয়ে তুলছে। তাই ওরা গাড়ীতে, বিভিন্ন স্থানে “আপনার শিশুকে আজ চুমো খেয়েছেন কি?” এ ধরণের অনেক শ্লোগান দিয়ে শিশুদের প্রতি স্নেহ-মমতা জাগরিত করতে চাইছে। অথচ প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর পূর্বে রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুদের প্রতি অভূতপূর্ব স্নেহ মমতার নজীর স্থাপন করেছেন।

শিশুদের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসার তাক্বীদ দিতে গিয়ে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-“শাফিউল উমাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যারা শিশুদের প্রতি দয়া বা স্নেহ করেনা এবং বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেনা সে আমার উম্মত নয়।” (তিরমিযী, মিশকাত)

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
“রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা সন্তানদের মাঝে সুবিচার প্রতিষ্ঠা কর এবং ইনছাফ কায়েম কর।” (মুসনাদে আহমদ)

হযরত আনাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
“নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন শিশুদের নিকট দিয়ে হেঁটে যেতেন তখন শিশুদের সালাম দিতেন।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)

হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন-
“কোন এক সময় এক বেদুঈন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি শিশুদের চুমু দেন? আমি তো কখনো শিশুদের চুমু দেই না।’ জবাবে খাইরুল আলম, হাবীবাল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ বেদুঈনকে লক্ষ্য করে বললেন, “আল্লাহ পাক যদি তোমার অন্তর থেকে দয়া তুলে নেন তাহলে আমার কি করার আছে।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)

হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন,
“ছহেবে আলক্বাব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যখন কোন নবজাতক শিশু নিয়ে আসা হতো তখন রহমতে আলম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের জন্য দোয়া করতেন এবং তাদের মিষ্টি মুখ করাতেন।” (মুসলিম শরীফ)

হযরত আনাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
“সাইয়্যিদুল বাশার, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তুলনায় সন্তান-সন্ততিদের প্রতি অধিক মুহব্বতকারী দ্বিতীয় আর কাউকে দেখিনি।”

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরওয়ারে কাওনাইন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পুত্র হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মদীনা শরীফ-এর এক উঁচু প্রান্তে ধাত্রী মায়ের নিকট দুধ পান করতেন। সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই সেখানে যেতেন, আমরাও সাথে যেতাম। সাইয়্যিদুল মাখদুম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ঘরে যেতেন অথচ ঐ ঘরটি প্রায়ই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকতো। কারণ হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ধাত্রী মায়ের স্বামী ছিলেন একজন কর্মকার। সুলতানুন নাছির, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে কোলে তুলে নিতেন এবং আদর করে চুমু দিতেন। অতঃপর সেখান থেকে চলে আসতেন।” (বুখারী, মুসলিম)

ছহেবে আসমাউল হুসনা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুদের যে রকম ভালবাসতেন, মুহব্বত করতেন আল্লাহ্ পাক আমাদেরকেও অনুরূপ মুহব্বত করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এগারটি বছর পার হয়ে গেল…. কিছু পরিসংখ্যান নিয়ে একাদশতম বর্ষপূর্তি পোস্ট

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৪১



পূর্বের বর্ষপূর্তি পোস্টের লিঙ্কঃ দশম বর্ষপূর্তি পোস্ট

সামহোয়্যরইনব্লগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ রাত ১১টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম কবিতা, বক্ষমাঝে থাকবে তুমি। বলা যায় খুব দ্রুতই, মাত্র তৃতীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যায়া হুয়া ? হুক্কা হুয়া; হুক্কা হুক্কা হুক্কা হুয়া

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫


২৪ বছর ধরে ঢাবিতে অনার্স পড়ছে; তা-ও নাকি ভাষা শিক্ষা বিভাগে উর্দূ নিয়ে !!! আজতক তার পড়া শেষ হয় নাই !!! এ ভার্সিটিতে নাম লিখালে পন্ডিত মশাই'রা কি কোনও... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুঃখ খচিত পতাকা আমার

লিখেছেন এম ডি মুসা, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র প্রাঙ্গণে
আজ হঠাৎ কার ছায়া নামে?
কার দুঃসাহসী কালো হাত
ইতিহাসের বুকের ওপর আঁকে পরাধীনতার নাম?

যে নাম একদিন ভাষার কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেয়েছিল,
যে শাসন একাত্তরে ছড়িয়েছিল মৃত্যুর অন্ধকার
আজ কেন তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ হতো হায়দ্রাবাদ

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫

।।হায়দারাবাদের নিজাম।।


১৯৪৭ সাল ভারতবর্ষের মুসলমানরা যখন নির্যাতনের শিকার অনেকগুলো গণহত্যা হয়েছিল দাঙ্গা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে বা তারও আগে এই মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রাজনীতি শুরু করেছিল কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তিনি কংগ্রেসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগীটি মারা গেলো

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাংলাদেশে ডাক্তারদের অবহেলায় কি পরিমাণ প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে তা কল্পনাতীত। এবং আমাদের দেশের ডাক্তার এই অপরাধে নূন্যতম অনুশোচনা বোধ করে না।

ডাক্তারদের অবহেলার কারণে দেশের পাঠ্য বই ইংরেজি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×