তথাকথিত উন্নত বিশ্বে আজ মায়া-মমতা নিঃশেষিত প্রায়। এমনকি যান্ত্রিক সভ্যতার যাতাকলে তারা আজ শিশুদের প্রতিও স্নেহ-মমতা প্রদর্শনে চরম অমানবিকতা প্রদর্শন করে। বিষয়টি ওদের রাষ্ট্র যন্ত্রকে ভাবিয়ে তুলছে। তাই ওরা গাড়ীতে, বিভিন্ন স্থানে “আপনার শিশুকে আজ চুমো খেয়েছেন কি?” এ ধরণের অনেক শ্লোগান দিয়ে শিশুদের প্রতি স্নেহ-মমতা জাগরিত করতে চাইছে। অথচ প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর পূর্বে রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুদের প্রতি অভূতপূর্ব স্নেহ মমতার নজীর স্থাপন করেছেন।
শিশুদের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসার তাক্বীদ দিতে গিয়ে হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-“শাফিউল উমাম, হাবীবুল্লাহ্, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যারা শিশুদের প্রতি দয়া বা স্নেহ করেনা এবং বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেনা সে আমার উম্মত নয়।” (তিরমিযী, মিশকাত)
হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
“রহমতুল্লিল আলামীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমরা সন্তানদের মাঝে সুবিচার প্রতিষ্ঠা কর এবং ইনছাফ কায়েম কর।” (মুসনাদে আহমদ)
হযরত আনাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
“নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন শিশুদের নিকট দিয়ে হেঁটে যেতেন তখন শিশুদের সালাম দিতেন।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)
হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন-
“কোন এক সময় এক বেদুঈন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, ‘ইয়া রসূলাল্লাহ্, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি শিশুদের চুমু দেন? আমি তো কখনো শিশুদের চুমু দেই না।’ জবাবে খাইরুল আলম, হাবীবাল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ বেদুঈনকে লক্ষ্য করে বললেন, “আল্লাহ পাক যদি তোমার অন্তর থেকে দয়া তুলে নেন তাহলে আমার কি করার আছে।” (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত)
হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা বলেন,
“ছহেবে আলক্বাব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যখন কোন নবজাতক শিশু নিয়ে আসা হতো তখন রহমতে আলম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের জন্য দোয়া করতেন এবং তাদের মিষ্টি মুখ করাতেন।” (মুসলিম শরীফ)
হযরত আনাছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
“সাইয়্যিদুল বাশার, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তুলনায় সন্তান-সন্ততিদের প্রতি অধিক মুহব্বতকারী দ্বিতীয় আর কাউকে দেখিনি।”
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরওয়ারে কাওনাইন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পুত্র হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মদীনা শরীফ-এর এক উঁচু প্রান্তে ধাত্রী মায়ের নিকট দুধ পান করতেন। সাইয়্যিদুল আম্বিয়া, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই সেখানে যেতেন, আমরাও সাথে যেতাম। সাইয়্যিদুল মাখদুম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ঘরে যেতেন অথচ ঐ ঘরটি প্রায়ই ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকতো। কারণ হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর ধাত্রী মায়ের স্বামী ছিলেন একজন কর্মকার। সুলতানুন নাছির, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইব্রাহীম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে কোলে তুলে নিতেন এবং আদর করে চুমু দিতেন। অতঃপর সেখান থেকে চলে আসতেন।” (বুখারী, মুসলিম)
ছহেবে আসমাউল হুসনা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিশুদের যে রকম ভালবাসতেন, মুহব্বত করতেন আল্লাহ্ পাক আমাদেরকেও অনুরূপ মুহব্বত করার তৌফিক দান করুন। (আমীন)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



