الحمد لله رب العلمين والصلاة والسلام على سيد الانبياء والمرسلين محمد وعلى اله الطيبين وازواجه المتطهرين واصحابه المرضين وعلى اولاده الشيح المجدد الاعظم وامام الشريعة والطريقة والاولياء الكاملين .
তামাম নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, তামাম জিন-ইনসান, তামাম মাখলূক্বাতের যিনি নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাকে মুহব্বত করা, উনাকে ইতায়াত করা-উনাকে সন্তুষ্ট করা প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরয, ফরয এবং ফরয।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাকে মুহব্বত করার নামই ঈমান, উনাকে ইতায়াত বা অনুসরণ করার নামই আমলে ছালিহ এবং উনাকে সন্তুষ্ট করার বা উনার সন্তুষ্টির মধ্যেই খালিক্ব, মালিক, রব আল্লাহ পাক জাল্লা শানহু-উনার সন্তুষ্টি নিহিত।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ ফরমান-
احبونى لحب الله .
অর্র্থ: ‘তোমরা আমাকে মুহ্ববত করো আল্লাহ পাক- উনার মুহব্বতের জন্য।’ (তিরমিযী, মিশকাত)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত না করা পর্যন্ত কারো পক্ষে উনাকে ইতায়াত করা সম্ভব হব না। আর উনাকে ইতায়াত না করা পর্যন্ত উনাকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। এ মর্মে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-
والله ورسوله احق ان يرضوه ان كانوا مؤمنين .
অর্র্থ: ‘যদি তারা মু’মিন হয়ে থাকে তাহলে তাদের দায়িত্ব হলো আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাদেরকে সন্তুষ্ট করা। কেননা উনারাই সন্তুষ্টি পাওয়ার সমধিক হক্বদার।’ (সূরা তওবাহ- আয়াত শরীফ- ৬২)
বুঝা গেলো, মুহব্বতের বিষয়টি হলো শুরুতেই। আর এটিই হচ্ছে মূল। তাই হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
عن انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يؤمن احدكم حتى اكون احب اليه من والده وولده والناس اجمعين وفى رواية اخرى من ماله ونفسه .
অর্র্থ: ‘হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে কেউ, ততোক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতোক্ষণ পর্যন্ত না সে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং অন্যান্য সকল মানুষ থেকে আমাকে অধিক মুহব্বত না করবে। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, তার ধন-সম্পদ ও জীবন অপেক্ষা আমাকে বেশি মুহব্বত না করবে।’ (মুসলিম শরীফ)
উল্লেখ্য, যেসব বিষয়াদির মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মুহব্বতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে তš§ধ্যে ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন হলো অন্যতম মাধ্যম।
মোটকথা, ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনকারীদের জন্য বিনা হিসাবে জান্নাত ওয়াজিব।
স্মরণযোগ্য যে, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ইহুদী, অতঃপর মুশরিক, অতঃপর খ্রিস্টান এবং এরপর অন্যান্য বিধর্মীরা। এরা মুসলমানদের থেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মুহব্বতের বিষয়গুলি বিশেষ করে, ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তুলে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এজন্য তারা হাতিয়ার হিসেবে সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীব উলামায়ে ছূদেরকে পছন্দ করে তাদেরকে ব্যবহার করছে। নাঊযুবিল্লাহ!
কিন্তু আল্লাহ পাক-উনার দ্বীনের নূর পূর্ণ করবেনই, যদিও কাফির-মুশরিক ও তাদের স্বগোত্রীয়রা সে নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়। তাই তিনি উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিছাল শরীফ-এর পর উনার ক্বায়িম-মক্বাম (স্থলাভিষিক্ত) হিসেবে ওলী আল্লাহ উনাদেরকে প্রেরণ করেন। উনারা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদী, মুশরিক, নাছারা তথা তাবৎ কাফির মুশরিক এবং তাদের ঘৃণ্য এজেন্ট উলামায়ে ছূ’দের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়ে আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত সেই নূরকে প্রজ্বলিত করে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ!
উলামায়ে ছূ’দের ঈদে মীলাদুন নবী-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে, সর্বোপরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে মিথ্যা, মনগড়া, বিভ্রান্তিকর, দলীলবিহীন, এবং কুরআন ও সুন্নাহ তথা শরীয়তবিরোধী ও কুফরী বক্তব্যসমূহের দলীলভিত্তিক জাওয়াব প্রকাশ করা হলো। যাতে মুসলমানগণ উলামায়ে ছূ’দের ঈমান-আক্বীদা বিধ্বংসী ও কুফরী বক্তব্য থেকে বেঁচে থেকে নিজেদের ঈমান-আক্বীদা হিফাযত করতে পারে।
(১) সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবার, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে আশাদ্দুদ দরজার জাহিল, ধর্মব্যবসায়ী, উলামায়ে ছূ’দের মিথ্যা, মনগড়া, দলীলবিহীন, শরীয়তবিরোধী ও কুফরী বক্তব্য হলো- ‘মীলাদুন নবী’ শব্দের শরয়ী কোন ভিত্তি নেই, তাই এটি পরিত্যাজ্য। নাঊযুবিল্লাহ!
এর ঈমানী জাওয়াব হলো:
উলামায়ে ছূ’রা তাদের উপরোক্ত বক্তব্যে ‘ঈদ’ শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু ‘মীলাদুন নবী’ শব্দ ব্যবহার করে প্রমাণ করেছে যে, তারা খোদ ইবলিসেরই একান্ত অনুসারী। কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার যমীনে আগমন উপলক্ষে কেবল ইবলিস ও তার চেলারাই নাখুশি বা নারাজী প্রকাশ করেছিল। অথচ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার আগমন উপলক্ষে স্বয়ং আল্লাহ পাক- উনার নির্দেশে খুশি প্রকাশ করেছিলেন ফেরেশতাকুল, জান্নাতের অধিবাসীগণ এবং বনের পশু-পাখিরা পর্যন্ত। খুশি প্রকাশ করে উনারা ছানা-ছিফত বর্ণনা করেছিলেন এবং পাঠ করেছিলেন ছলাত-সালাম। সুবহানাল্লাহ!
আর তাই মুসলমানগণ শুধু ‘মীলাদুন নবী’ নয় বরং উনারা ‘ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পরিভাষা ব্যবহার করে থাকেন।
মূলতঃ ‘ঈদ’ অর্র্থ হচ্ছে খুশি বা আনন্দ প্রকাশ করা। আর ‘মীলাদ’ ও ‘নবী’ দুটি শব্দ একত্রে মিলিয়ে ‘মীলাদুন নবী’ বলা হয়। ‘মীলাদ’-এর তিনটি শব্দ রয়েছে- ميلادমীলাদ, مولد মাওলিদ ও مولود মাওলূদ। ميلاد‘মীলাদ’ অর্র্থ জন্মের সময়, مولد ‘মাওলিদ’ অর্র্থ জন্মের স্থান, مولود ‘মাওলূদ’ অর্র্থ সদ্যপ্রসূত সন্তান। আর النبى ‘নবী’ শব্দ দ্বারা বুঝায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাকে।
অর্র্থাৎ আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থে ميلاد النبى ‘মীলাদুন নবী’ বলতে নূরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার বিলাদত শরীফকে বুঝানো হয়ে থাকে। আর পারিভাষিক বা ব্যবহারিক অর্থে ميلاد النبى ‘মীলাদুন নবী’ বলতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে উনার ছানা-ছিফত বর্ণনা করা, উনার প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করা, উনার পুতঃপবিত্র জীবনী মুবারকের সামগ্রিক বিষয়ের আলোচনা বুঝানো হয়।
অতএব, ‘মীলাদুন নবী’ শব্দটি যদিও খাছ, কিন্তু মাফহূম বা ভাবার্থ হিসেবে এটি আম বা এর অর্র্থ ব্যাপক। কেননা, ‘মীলাদুন নবী’-এর উদ্দেশ্য হলো, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা-উনার আহকাম বা নির্দেশাবলী খাছভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। যার মাধ্যমে মানুষ তাদের সৃষ্টি, তাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। আরো অবহিত হয়েছে তাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে। অর্র্থাৎ তারা যদি আল্লাহ তায়ালা-উনার সেই আহকাম মেনে চলে, তাহলে তারা আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাদের মুহব্বত-মা’রিফাত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দী লাভ করবে।
কাজেই, যে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ওসীলায় সেই আহকাম বা নির্দেশাবলী এই উম্মত লাভ করলো সেই হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার মুবারক আগমন উপলক্ষে উনার স্মরণের জন্য এই উম্মতের আবশ্যিকভাবে উচিত তথা উম্মতের জন্য ফরয হলো খুশি প্রকাশ করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-
قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو خير مما يجمعون .
অর্র্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, আল্লাহ পাক ফযল-করম হিসেবে তাদেরকে যে দ্বীন ইসলাম দিয়েছেন এবং রহমত হিসেবে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেনো খুশি প্রকাশ করে। এই খুশি প্রকাশ করাটা সেসবকিছু থেকে উত্তম, যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” (সূরা ইউনুস-৫৮)
এ প্রসঙ্গে বিশ্ব সমাদৃত ও সুপ্রসিদ্ধ ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
قال على رضى الله تعالى عنه وكرم الله وجهه من عظم مولد النبى صلى الله عليه وسلم وكان سببا لقرائته لايخرج من الدنيا الا بالايمان ويدخل الجنة بغير حساب .
অর্র্থ: “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করলো, এবং তাতে সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী খুশি প্রকাশ করলো সে অবশ্যই ঈমানের সাথে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” সুবহানাল্লাহ!
অতএব, ‘মীলাদুন নবী শব্দের শরয়ী কোন ভিত্তি নেই’- উলামায়ে ছূ’দের এ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, মনগড়া, দলীলবিহীন এবং কুরআন ও সুন্নাহর খিলাফ তথা কুফরী বলে প্রমাণিত হলো। .
তামাম নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম, তামাম জিন-ইনসান, তামাম মাখলূক্বাতের যিনি নবী ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাকে মুহব্বত করা, উনাকে ইতায়াত করা-উনাকে সন্তুষ্ট করা প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরয, ফরয এবং ফরয।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাকে মুহব্বত করার নামই ঈমান, উনাকে ইতায়াত বা অনুসরণ করার নামই আমলে ছালিহ এবং উনাকে সন্তুষ্ট করার বা উনার সন্তুষ্টির মধ্যেই খালিক্ব, মালিক, রব আল্লাহ পাক জাল্লা শানহু-উনার সন্তুষ্টি নিহিত।
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ ফরমান-
احبونى لحب الله .
অর্র্থ: ‘তোমরা আমাকে মুহ্ববত করো আল্লাহ পাক- উনার মুহব্বতের জন্য।’ (তিরমিযী, মিশকাত)
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত না করা পর্যন্ত কারো পক্ষে উনাকে ইতায়াত করা সম্ভব হব না। আর উনাকে ইতায়াত না করা পর্যন্ত উনাকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। এ মর্মে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-
والله ورسوله احق ان يرضوه ان كانوا مؤمنين .
অর্র্থ: ‘যদি তারা মু’মিন হয়ে থাকে তাহলে তাদের দায়িত্ব হলো আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাদেরকে সন্তুষ্ট করা। কেননা উনারাই সন্তুষ্টি পাওয়ার সমধিক হক্বদার।’ (সূরা তওবাহ- আয়াত শরীফ- ৬২)
বুঝা গেলো, মুহব্বতের বিষয়টি হলো শুরুতেই। আর এটিই হচ্ছে মূল। তাই হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-
عن انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يؤمن احدكم حتى اكون احب اليه من والده وولده والناس اجمعين وفى رواية اخرى من ماله ونفسه .
অর্র্থ: ‘হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে কেউ, ততোক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না যতোক্ষণ পর্যন্ত না সে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং অন্যান্য সকল মানুষ থেকে আমাকে অধিক মুহব্বত না করবে। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, তার ধন-সম্পদ ও জীবন অপেক্ষা আমাকে বেশি মুহব্বত না করবে।’ (মুসলিম শরীফ)
উল্লেখ্য, যেসব বিষয়াদির মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মুহব্বতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে তš§ধ্যে ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন হলো অন্যতম মাধ্যম।
মোটকথা, ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনকারীদের জন্য বিনা হিসাবে জান্নাত ওয়াজিব।
স্মরণযোগ্য যে, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো ইহুদী, অতঃপর মুশরিক, অতঃপর খ্রিস্টান এবং এরপর অন্যান্য বিধর্মীরা। এরা মুসলমানদের থেকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার মুহব্বতের বিষয়গুলি বিশেষ করে, ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তুলে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এজন্য তারা হাতিয়ার হিসেবে সৃষ্টির নিকৃষ্ট জীব উলামায়ে ছূদেরকে পছন্দ করে তাদেরকে ব্যবহার করছে। নাঊযুবিল্লাহ!
কিন্তু আল্লাহ পাক-উনার দ্বীনের নূর পূর্ণ করবেনই, যদিও কাফির-মুশরিক ও তাদের স্বগোত্রীয়রা সে নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়। তাই তিনি উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার বিছাল শরীফ-এর পর উনার ক্বায়িম-মক্বাম (স্থলাভিষিক্ত) হিসেবে ওলী আল্লাহ উনাদেরকে প্রেরণ করেন। উনারা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদী, মুশরিক, নাছারা তথা তাবৎ কাফির মুশরিক এবং তাদের ঘৃণ্য এজেন্ট উলামায়ে ছূ’দের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়ে আল্লাহ তায়ালার প্রদত্ত সেই নূরকে প্রজ্বলিত করে রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ!
উলামায়ে ছূ’দের ঈদে মীলাদুন নবী-ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে, সর্বোপরি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে মিথ্যা, মনগড়া, বিভ্রান্তিকর, দলীলবিহীন, এবং কুরআন ও সুন্নাহ তথা শরীয়তবিরোধী ও কুফরী বক্তব্যসমূহের দলীলভিত্তিক জাওয়াব প্রকাশ করা হলো। যাতে মুসলমানগণ উলামায়ে ছূ’দের ঈমান-আক্বীদা বিধ্বংসী ও কুফরী বক্তব্য থেকে বেঁচে থেকে নিজেদের ঈমান-আক্বীদা হিফাযত করতে পারে।
(১) সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবার, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে আশাদ্দুদ দরজার জাহিল, ধর্মব্যবসায়ী, উলামায়ে ছূ’দের মিথ্যা, মনগড়া, দলীলবিহীন, শরীয়তবিরোধী ও কুফরী বক্তব্য হলো- ‘মীলাদুন নবী’ শব্দের শরয়ী কোন ভিত্তি নেই, তাই এটি পরিত্যাজ্য। নাঊযুবিল্লাহ!
এর ঈমানী জাওয়াব হলো:
উলামায়ে ছূ’রা তাদের উপরোক্ত বক্তব্যে ‘ঈদ’ শব্দটি বাদ দিয়ে শুধু ‘মীলাদুন নবী’ শব্দ ব্যবহার করে প্রমাণ করেছে যে, তারা খোদ ইবলিসেরই একান্ত অনুসারী। কারণ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার যমীনে আগমন উপলক্ষে কেবল ইবলিস ও তার চেলারাই নাখুশি বা নারাজী প্রকাশ করেছিল। অথচ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার আগমন উপলক্ষে স্বয়ং আল্লাহ পাক- উনার নির্দেশে খুশি প্রকাশ করেছিলেন ফেরেশতাকুল, জান্নাতের অধিবাসীগণ এবং বনের পশু-পাখিরা পর্যন্ত। খুশি প্রকাশ করে উনারা ছানা-ছিফত বর্ণনা করেছিলেন এবং পাঠ করেছিলেন ছলাত-সালাম। সুবহানাল্লাহ!
আর তাই মুসলমানগণ শুধু ‘মীলাদুন নবী’ নয় বরং উনারা ‘ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পরিভাষা ব্যবহার করে থাকেন।
মূলতঃ ‘ঈদ’ অর্র্থ হচ্ছে খুশি বা আনন্দ প্রকাশ করা। আর ‘মীলাদ’ ও ‘নবী’ দুটি শব্দ একত্রে মিলিয়ে ‘মীলাদুন নবী’ বলা হয়। ‘মীলাদ’-এর তিনটি শব্দ রয়েছে- ميلادমীলাদ, مولد মাওলিদ ও مولود মাওলূদ। ميلاد‘মীলাদ’ অর্র্থ জন্মের সময়, مولد ‘মাওলিদ’ অর্র্থ জন্মের স্থান, مولود ‘মাওলূদ’ অর্র্থ সদ্যপ্রসূত সন্তান। আর النبى ‘নবী’ শব্দ দ্বারা বুঝায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাকে।
অর্র্থাৎ আভিধানিক বা শাব্দিক অর্থে ميلاد النبى ‘মীলাদুন নবী’ বলতে নূরে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার বিলাদত শরীফকে বুঝানো হয়ে থাকে। আর পারিভাষিক বা ব্যবহারিক অর্থে ميلاد النبى ‘মীলাদুন নবী’ বলতে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে উনার ছানা-ছিফত বর্ণনা করা, উনার প্রতি ছলাত-সালাম পাঠ করা, উনার পুতঃপবিত্র জীবনী মুবারকের সামগ্রিক বিষয়ের আলোচনা বুঝানো হয়।
অতএব, ‘মীলাদুন নবী’ শব্দটি যদিও খাছ, কিন্তু মাফহূম বা ভাবার্থ হিসেবে এটি আম বা এর অর্র্থ ব্যাপক। কেননা, ‘মীলাদুন নবী’-এর উদ্দেশ্য হলো, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা-উনার আহকাম বা নির্দেশাবলী খাছভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া। যার মাধ্যমে মানুষ তাদের সৃষ্টি, তাদের সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা সম্পর্কে অবহিত হয়েছে। আরো অবহিত হয়েছে তাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে। অর্র্থাৎ তারা যদি আল্লাহ তায়ালা-উনার সেই আহকাম মেনে চলে, তাহলে তারা আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাদের মুহব্বত-মা’রিফাত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দী লাভ করবে।
কাজেই, যে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার ওসীলায় সেই আহকাম বা নির্দেশাবলী এই উম্মত লাভ করলো সেই হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনার মুবারক আগমন উপলক্ষে উনার স্মরণের জন্য এই উম্মতের আবশ্যিকভাবে উচিত তথা উম্মতের জন্য ফরয হলো খুশি প্রকাশ করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-
قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو خير مما يجمعون .
অর্র্থ: “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মাহকে জানিয়ে দিন, আল্লাহ পাক ফযল-করম হিসেবে তাদেরকে যে দ্বীন ইসলাম দিয়েছেন এবং রহমত হিসেবে উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেনো খুশি প্রকাশ করে। এই খুশি প্রকাশ করাটা সেসবকিছু থেকে উত্তম, যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” (সূরা ইউনুস-৫৮)
এ প্রসঙ্গে বিশ্ব সমাদৃত ও সুপ্রসিদ্ধ ‘আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
قال على رضى الله تعالى عنه وكرم الله وجهه من عظم مولد النبى صلى الله عليه وسلم وكان سببا لقرائته لايخرج من الدنيا الا بالايمان ويدخل الجنة بغير حساب .
অর্র্থ: “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, যে ব্যক্তি মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করলো, এবং তাতে সাধ্য-সামর্থ্য অনুযায়ী খুশি প্রকাশ করলো সে অবশ্যই ঈমানের সাথে দুনিয়া থেকে বিদায় নিবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” সুবহানাল্লাহ!
অতএব, ‘মীলাদুন নবী শব্দের শরয়ী কোন ভিত্তি নেই’- উলামায়ে ছূ’দের এ বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা, মনগড়া, দলীলবিহীন এবং কুরআন ও সুন্নাহর খিলাফ তথা কুফরী বলে প্রমাণিত হলো।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



