বিশ্বকাপ মানেই চরম উত্তেজনা। দীর্ঘ চার বছর পর পর আসে এই মাহেন্দ্রক্ষণ, ঐতিহাসিক মুহূর্ত। বিশ্বকাপকে ঘিরে তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের থাকে অনেক প্রত্যাশা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই তাদের চিন্তা চেতনায় কে হবে চ্যাম্পিয়ন এটা নিয়ে থাকে অনেক জল্পনা-কল্পনা। আর এখন বিশ্বকাপের সময় প্রতিটি ক্ষণে কে জিতবে বা কে জিতল এটা নিয়ে কারো আনন্দ আবার কারো মাঝে হতাশা। খেলা চলাকালীন খেলা দেখা বাদে অন্য কোনো কাজেই যেন মন বসে না। বিশ্বকাপ এখন চায়ের কাপে। এটা নিয়ে আবার কারো কারো রয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। পছন্দের দলের খেলা দেখার সময় তাদের জাতীয় পতাকার রঙ দিয়ে নিজেদেরকে সাজিয়ে রাখা, খেলায় জয়ী হলে পিকনিকের আয়োজন করা, আনন্দ মিছিল বের করা, কোন দল জিতবে এটা নিয়ে বাজি ধরাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রয়েছে ক্রিকেটভক্তরা। বিশ্বকাপের আনন্দ বিরাজ করলেও ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর মনেই বিশ্বকাপ পুরোপুরি উপভোগ করতে না পারার বেদনা। সারাদিন ছুটোছুটি, সকাল থেকে টানা ক্লাশ নানা ব্যস্ততার মাঝেও সময়মত খেলা দেখতে বসে যান তারা। কিন্তু এরই মাঝে আবার কিছু কিছু বিভাগের পরীক্ষা চলায় তারা ঠিকমত বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করতে পারছে না। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে টিভি রুমে গেলে খুব সহজেই এরকম দৃশ্য চোখে পড়বে। পরীক্ষার জন্য নোট হতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা খেলা দেখতে আসে। খেলা দেখার মাঝে যখন বিজ্ঞাপন শুরু হয় চটজলদি একবার নোটের দিকে তাকিয়ে পুরো বিষয়টা শুধু বুঝে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ফুয়ারাকে এমনি একটা দৃশ্যে দেখা গেল। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা তাতে কি! পরীক্ষা দিতে দিতেই তো জীবন পার করলাম। কিন্তু বিশ্বকাপ তো সব সময় পাব না। বিশ্বকাপের আনন্দ পাওয়ার জন্য আবার চার বছর ধরে অপেক্ষা করতে হবে। এবছর বাংলাদেশ বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে। নিজেদের মাটিতেও নিজেদের খেলা যদি উপভোগ করতে না পারি, এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? ফাইনাল পরীক্ষা চলছে তাই নোট হাতে নিয়ে খেলা দেখতে এসেছি। বিশ্বকাপ এবং পরীক্ষা দুটোই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। পরীক্ষার চিন্তা মাথায় না নিয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে তারা বাংলাদেশের খেলা উপভোগ করতে চেয়েছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র মো. আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথম এরকম একটা আয়োজন করেছে, এটা আমাদের সবার জন্য অনেক আনন্দের এবং গৌরবের ব্যাপার। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে খেলায় বাংলাদেশ জিতলে অনেক মজা করেছিলাম। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলার দিন আনন্দ উল্লাসের প্রস্তুতি নিতে নিতেই দেখি খেলা শেষ হয়ে গেল। বাংলাদেশ টিমকে নিয়ে এই আসরে অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে শোচনীয় পরাজয়ের ফলে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে। পরীক্ষার টেনশনে খেলা দেখে শান্তি পাওয়া যায় না। অনেক সময়ও চলে যায় খেলা দেখতে যেয়ে। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ উপভোগ করতে অবশ্য বেশি সময় যায় নি। তবে সমস্যটা হচ্ছে, বাংলাদেশ যদি জিতত তাহলে ওই আনন্দেই পরীক্ষা ভালো হয়ে যেত। উল্টো ম্যাচ হারার বেদনায় পরীক্ষা দিতেই আর ইচ্ছা করছিল না।’ অনেক দিন ধরে খেলা চলবে। সেজন্যই পরীক্ষাগুলো এখন হয়ে যাচ্ছে যেন সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার সময় অন্য কোনো চিন্তা না থাকে। এখন পরীক্ষার মাঝে বিশ্বকাপের আনন্দ খুব একটা বিঘ্নিত হচ্ছে না বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। এদিকে খেলা চলাকালীন সময় পরীক্ষা দিতে সমস্যা বিবেচনায় অনেকে স্যারদের পরীক্ষা পেছানোর কথা বললেও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় নি বলে অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। তাদের মতে খেলা অনেক সময় সাপেক্ষ। তাই পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে খেলায় কী হচ্ছে বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে হয়। এখন যদি পরীক্ষার জন্য বাড়তি প্রেসার না থাকত তাহলে বিশ্বকাপটা আরো বেশি করে উপভোগ করা যেত।
চোখে পড়বে। পরীক্ষার জন্য নোট হতে নিয়ে শিক্ষার্থীরা খেলা দেখতে আসে। খেলা দেখার মাঝে যখন বিজ্ঞাপন শুরু হয় চটজলদি একবার নোটের দিকে তাকিয়ে পুরো বিষয়টা শুধু বুঝে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্নুজান হলের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ফুয়ারাকে এমনি একটা দৃশ্যে দেখা গেল। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা তাতে কি! পরীক্ষা দিতে দিতেই তো জীবন পার করলাম। কিন্তু বিশ্বকাপ তো সব সময় পাব না। বিশ্বকাপের আনন্দ পাওয়ার জন্য আবার চার বছর ধরে অপেক্ষা করতে হবে। এবছর বাংলাদেশ বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে। নিজেদের মাটিতেও নিজেদের খেলা যদি উপভোগ করতে না পারি, এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? ফাইনাল পরীক্ষা চলছে তাই নোট হাতে নিয়ে খেলা দেখতে এসেছি। বিশ্বকাপ এবং পরীক্ষা দুটোই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।’ এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। পরীক্ষার চিন্তা মাথায় না নিয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে তারা বাংলাদেশের খেলা উপভোগ করতে চেয়েছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র মো. আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথম এরকম একটা আয়োজন করেছে, এটা আমাদের সবার জন্য অনেক আনন্দের এবং গৌরবের ব্যাপার। আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে খেলায় বাংলাদেশ জিতলে অনেক মজা করেছিলাম। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলার দিন আনন্দ উল্লাসের প্রস্তুতি নিতে নিতেই দেখি খেলা শেষ হয়ে গেল। বাংলাদেশ টিমকে নিয়ে এই আসরে অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে শোচনীয় পরাজয়ের ফলে স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে গেছে। পরীক্ষার টেনশনে খেলা দেখে শান্তি পাওয়া যায় না। অনেক সময়ও চলে যায় খেলা দেখতে যেয়ে। বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ উপভোগ করতে অবশ্য বেশি সময় যায় নি। তবে সমস্যটা হচ্ছে, বাংলাদেশ যদি জিতত তাহলে ওই আনন্দেই পরীক্ষা ভালো হয়ে যেত। উল্টো ম্যাচ হারার বেদনায় পরীক্ষা দিতেই আর ইচ্ছা করছিল না।’ অনেক দিন ধরে খেলা চলবে। সেজন্যই পরীক্ষাগুলো এখন হয়ে যাচ্ছে যেন সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার সময় অন্য কোনো চিন্তা না থাকে। এখন পরীক্ষার মাঝে বিশ্বকাপের আনন্দ খুব একটা বিঘিœত হচ্ছে না বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। এদিকে খেলা চলাকালীন সময় পরীক্ষা দিতে সমস্যা বিবেচনায় অনেকে স্যারদের পরীক্ষা পেছানোর কথা বললেও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় নি বলে অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন। তাদের মতে খেলা অনেক সময় সাপেক্ষ। তাই পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে খেলায় কী হচ্ছে বন্ধুদের কাছ থেকে জানতে হয়। এখন যদি পরীক্ষার জন্য বাড়তি প্রেসার না থাকত তাহলে বিশ্বকাপটা আরো বেশি করে উপভোগ করা যেত।
লিখেছেন : জিনিয়া খন্দকার, ক্রীড়া প্রতিবেদক, দৈনিক সোনার দেশ, রাজশাহী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


