somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি

২১ শে মার্চ, ২০১১ বিকাল ৫:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রত্যাশার জাল বোনা ছিল কোয়ার্টার ফইনাল পর্যন্ত। কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই ছিঁড়ে গেলো সে জাল। হতাশা-বিস্ময়-লজ্জা দিয়ে শেষ হলো ঘরের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ। হতাশা-লজ্জা দিয়ে শেষ হলেও কোয়ার্টার ফইনালের সম্ভাবনা ও সুযোগ দুটোই তৈরি করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ যে তিনটি ম্যাচ জিতেছিল তা দিয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া যেতো যদি ইংল্যান্ডের কাছে ক্যারিবীয়রা না হারত। কোয়ার্টার ফইনালে না হয় যাওয়া হলো না, মেনে নেয়া যেতো সেটা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৭৮ রানে অলআউটের লজ্জা মেনে নেয়া কি সম্ভব! এর চেয়েও বড় লজ্জা পেতে হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট হয়ে। এ বিশ্বকাপে একমাত্র বাংলাদেশই একাধিকবার ১০০-এর নিচে অলআউট হয়েছে। কেনিয়া-কানাডাকেও এদিক দিয়ে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড দুইবার তিন শতাধিক রান তাড়া করে জিতেছে। বিশ্বকাপে তিন শতাধিক রান তাড়া করে জেতার ৪টি রেকর্ডের দুটিই এ বিশ্বকাপে করেছে আয়ারল্যান্ড। একটি আবার ইংলান্ডের মতো শিরোপা প্রত্যাশীর বিপক্ষে ৩২৭ রান তাড়া করে। এদিক দিয়ে আইসিসি সহযোগী দেশগুলোর থেকেও তাই পিছিয়ে ছিলো বাংলাদেশ। এবার ছিল বাংলাদেশের চতুর্থ বিশ্বকাপ। আগের তিন বিশ্বকাপে ছিলো না কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানেসর সেঞ্চুরি। এবারও হলো না। ওদিকে নেদারল্যান্ডসের রায়ান টেন ডোয়েশ্চেট এবারের বিশ্বকাপে তুলে নিয়েছেন দুটি সেঞ্চুরি। এখানেও আইসিসি সহযোগী দেশগুলোর ক্রিকেটারদের থেকে পিছিয়ে ছিলো বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এর মধ্যেও প্রাপ্তি আছে বাংলাদেশের। চাপের মুখে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট হয়ে পরের ম্যাচেই আবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় অনেক বড় প্রাপ্তি। এ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে করা ২৮৩ রান বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দলীয় রান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখাও বড় প্রাপ্তি। নিজেদের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রেখে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ এমনকি ভারতের কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনাকে সংশয়ে ফেলে দেয়াও কম প্রাপ্তি নয়!
সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় বাংলাদেশের ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং কোনো বিভাগই সেভাবে চোখে পড়ার মতো কিছু করে নি। তারপরও বোলিং-ফিল্ডিং কে এগিয়ে রাখতে হয়। ব্যাটিংটাই সবচেয়ে বেশি হতাশায় ডুবিয়েছে। উপমহাদেশে এবারের বিশ্বকাপে বেশ ভালো রান পাচ্ছেন ব্যাটসম্যানরা। সেখানে ৬ ম্যাচে ১৮৮ রান করে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানসংগ্রহকারী ইমরুল কায়েস। সব মিলিয়ে একশো রান পার করেছেন আর মাত্র তিন ব্যাটসম্যান। তামিম দুটো শূন্য ও ১টি হাফ সেঞ্চুরিতে করেছেন ১৫৭ রান। সাকিব ১৪২ এবং জুনায়েদ করেছেন ১১৪ রান। এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানও ইমরুলের, নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৭৩। ৬ ম্যাচে মাত্র ৪টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। এর মধ্যে ইমরুল করেছেন দুটি। তামিম ছাড়া অপরটি করেছেন সাকিব। সবচেয়ে বড় পার্টনারশিপ ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় উইকেটে ইমরুল-জুনায়েদের ৭৩ রান। উপমহাদেশের উইকেট যেখানে স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য সেখানে বাংলাদেশের স্পিনাররাও বড় কিছু করতে পারে নি। উল্টো ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা-আয়ারল্যান্ডের স্পিনে ধুঁকেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ৬ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। স্পিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র রাজ্জাক ৬ ম্যাচে নিয়েছেন ৭ উইকেট। নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ছাড়া সব ম্যাচেই রাজ্জাক ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের প্রধান নায়ক শফিউল পেয়েছেন ৬ উইকেট। সেরা বোলিংও তার। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২১ রানে ৪ উইকেট। এভারেজে ফিল্ডিং ভালোই হয়েছে বলা যায়।
চারটি কোয়ার্টার ফাইনালের দুটো হবে ঢাকায়। যার একটিতে দেখা যেতে পারত বাংলাদেশকে। এখন এ দুটো ম্যাচ কিছুটা শূন্যতা ছড়াবে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রাণে। এবারের মতো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ। অপেক্ষা এখন ২০১৫ বিশ্বকাপের। প্রত্যাশা এ বিশ্বকাপের প্রাপ্তিগুলোকে পরেরবার আরো বড় করা এবং অপ্রাপ্তির শূন্যতা পূরণ করে দেয়া।

২০১১ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স
ব্যাটিং
নাম ম্যাচ ইনিংস অপ. রান ৫০ এভারেজ সেরা
তামিম ইকবাল ৬ ৬ ০ ১৫৭ ১ ২৬.১৭ ৭০
ইমরুল কায়েস ৬ ৬ ১ ১৮৮ ২ ৩৭.৬০ ৭৩*
জুনায়েদ সিদ্দিকী ৬ ৬ ০ ১১৪ ০ ১৯.০০ ৩৭
সাকিব আল হাসান ৬ ৬ ০ ১৪২ ১ ২৩.৬০ ৫৫
মুশফিকুর রহিম ৬ ৬ ১ ৮১ ০ ১৬.২০ ৩৬
রকিবুল হাসান ৪ ৪ ১ ৭০ ০ ২৩.৩৩ ৩৮
মাহমুদউল্লাহ ৪ ৩ ১ ৩২ ০ ১৬.০০ ২১*
নাঈম ইসলাম ৫ ৫ ০ ৪০ ০ ৮.০০ ২৯
শাহরিয়ার নাফিস ২ ২ ০ ৪২ ০ ২১.০০ ৩৭
মোহাম্মদ আশরাফুল ২ ২ ০ ১২ ০ ৬.০০ ১১
আবদুর রাজ্জাক ৬ ৫ ১ ১৫ ০ ৩.৭৫ ১১
শফিউল ইসলাম ৬ ৫ ১ ২৬ ০ ৮.৬৭ ২৪*
রুবেল হোসেন ৬ ৪ ৩ ১১ ০ ১১.০০ ৮*
সোহরাওয়ার্দী শুভ ১ ০ - - - - -
নাজমুল হোসেন - - - - - - -

বোলিং
নাম ওভার মেডেন রান উইকেট ইকোনমি এভারেজ সেরা
শফিউল ইসলাম ৩৯.২ ৪ ২০৩ ৬ ৫.১৮ ৩৩.৮৩ ৪/২১
রুবেল হোসেন ৩৯.৪ ০ ২১৬ ৫ ৫.৪৮ ৪৩.২০ ৩/৫৬
আবদুর রাজ্জাক ৪৮ ৫ ২১৭ ৭ ৪.৫২ ৩১.০০ ৩/২৯
সাকিব আল হাসান ৪৬.২ ০ ২২৩ ৮ ৪.৮৩ ২৭.৮৮ ২/২৮
নাঈম ইসলাম ৩৭ ২ ১৭৫ ৪ ৪.৭৩ ৪৩.৭৫ ২/২৯
মাহমুদউল্লাহ ২২ ০ ১২৫ ৩ ৫.৬৮ ৪১.৬৭ ১/৩০
সোহরাওয়ার্দী শুভ ১০ ১ ৩৩ ১ ৩.৩০ ৩৩.০০ ১/৩৩
মোহাম্মদ আশরাফুল ১১ ০ ৫৩ ২ ৪.৮২ ২৬.৫ ২/৪২

২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×