somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুক্তমনা ব্লগার
আমি বিশ্বাসী, কিন্তু মনের দরজা খুলে রাখাতে বিশ্বাস করি। জীবনে সবথেকে বড় অনুচিত কাজ হল মনের দরজা বন্ধ রাখা। আমি যা জানি সেটাই সত্য, বাকি সব মিথ্যা…এটাই অজ্ঞানতার জন্ম দেয়।

দেশের নাগরিক যখন চায় এভাবেই চলবে; তো কার কি?

১৯ শে মে, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্পষ্টই বুঝতে পারা যাচ্ছে এখন ওদের ফসল তোলার সময়। বাংলাদেশের সবটুকু উর্বর জমি দখলের পর দেশ এখন মৌলবাদের বিষবীজ সৃষ্ট ফসলে পরিপূর্ণ। আবশ্য দেশের মালিক যারা; মানে নাগরিক, তারা খুব একটা মাইন্ড করেনি। ভাবটা এমন যে ‘ধর্মের নামে হচ্ছে, তো হোকনা, খারাপ কি’? আর এই ফাঁকে হাটে, মাঠে, ঘাটে, বাজারে, পুকুরে, নদীতে, আকাশে, বাতাসে এখন ইসলামি মৌলবাদ প্রতিষ্ঠা হয়েই গেছে। ও’দিকে আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন ইসলাম অবমাননা সহ্য করা হবে না। সুযোগ বুঝে অনেক মন্ত্রী, এম পি, আমলা, চামচা, রাজনিতিক, পাণ্ডা, গুন্ডা, বদমাশ, দালাল যারা তারা সবাই আবার আপন মনে, স্বাধীন ভাবেই নিজে নিজে, অনেকটা ইসলামী বিচার আচার করে করে শাস্তি দিয়ে ফেলছে নাগরিকদের। বেবিট্যাক্সি ড্রাইভার থেকে শুরু করে হেডমাষ্টারতক কান ধরে উঠবস করাচ্ছে। খুন-খারাবি, ধর্ষণ, নির্যাতন, গুম ইত্যাদি ইত্যাদি না’হয় না’ই বললাম। বেশি বলাবলি করে কি আর হবে? দেশের নাগরিক যখন চায় এভাবেই চলবে; হালাল, পাক, তো কার কি?

২। বাংলাদেশের এত্তো এত্তো মানুষ হচ্ছে হলো গিয়ে মুসলমান, তা এখন ধরুন শ’য়ে প্রায় নব্বই এর উপর তো হবেই। তো এরা যদি দেশকে ইসলামী দেশ ঘোষণা দেওয়াটা মেনে নেয়, তো কার কি? কিন্তু মুশকিল হচ্ছে যে সাধারণ নাগরিক, নিজেদেরকে যতই মুসলমান মুসলমান বলুক, তারা কিন্তু ধর্ম নিয়ে খুব একটা কিছু মাথা ঘামায় না। সময় কোথায়? এই ধরেন মোল্লা, টকশো কিংবা এর তার কাছে শুনেটুনে একটু জেনে নেয়। কেউ কেউ হয়তো একটু আধটু চেষ্টা করে জানতে, কিন্তু যত যা’ই হোক সৌদিদের মত করে ইসলাম মানে না। দেশের নব্বই ভাগ নাগরিক তো মানে না’ই; পাঁচ ভাগ মানুষ মানে কি না সন্দেহ আছে । শুধু দাঁড়ি’তে মেহেদি বা ফ্যাশনে হিজাব করলেই কি সৌদিদের মত সাচ্চা মুসলমান হওয়া যায়? আর যারা দাঁড়ি হিজাব কেয়ার করেন না, খেয়াল করলে বা কথা বললে দেখবেন তাদের’ও অনেকেই আবার সেই উপর দিয়ে ফিটফাট আর ভেতর ভেতর ঠিকই মৌলবাদী সদরঘাট। ওরা চাপাতি হত্যার বা জবাইয়ের মত ভয়ঙ্কর অপরাধের প্রতিবাদ করে না। তবে যত যা’ই হোক সৌদিদের মত করে কিন্তু ইসলাম মানে না।

৩। প্রধান শিক্ষক শ্যমল কান্তি’কে কান ধরে উঠবস করানো হয়েছে ইসলাম অবমাননা করবার মিথ্যা রটনায়। অভিযোগকারী নিজেই বলেছে ইসলাম অবমাননাকর কোন ব্যপার ঘটেনি। তা’হলে? গত বছরের মার্চে, সাতাশ বছর বয়সী তরতাজা আফগানি মেয়েকে শত শত মৌলবাদী মুসলমান সবার চোখের সামনে পিটিয়ে, আছড়িয়ে, ছেঁচড়ে, পুড়িয়ে খুন করে ফেললো; মিথ্যা অভিযোগে, অপবাদে। সে নাকি কোরান পুড়িয়েছিল, যা মিথ্যা মিথ্যা এবং সর্বৈব মিথ্যা, কিন্তু উৎসব করে, সত্য মিথ্যা যাচাই না করেই তক্ষনি খুন করা হয়েছিলো মেয়েটিকে। আসলে ধারের টাকা উদ্ধারে গিয়েছিলো সে এক মোল্লার কাছে। চতুর মোল্লা টাকা না দিয়ে দিলো কোরান পোড়ানোর অপবাদ আর মুমিনরা মেয়েটাকেই পুড়িয়ে মেরে ফেললো। ফারকুন্দা’কে খুনের হামলা চলাকালীন শুরুর সময়টাতে যেমন উল্লাস করেছিলো মৌলবাদী ধর্মান্ধ জনতা, হেডমাস্টারকে কান ধরে উঠবস করাবার সময় ঠিক তেমনি উল্লাস করেছিলো বাংলাদেশের জনতা। তবে এক্ষেত্রে হেডমাস্টারকে সবার চোখের সামনে পিটিয়ে, আছড়িয়ে, ছেঁচড়ে, পুড়িয়ে খুন করা হয়নি, বেঁচে গেছে শুধু প্রাণে, মানে নয়।

৪। এটা এখন প্রমাণ হয়ে গেছে যে ইসলামী কোন দেশে যদি কাউকে বাদ অপবাদ দেওয়া যায় যে সে ইসলামের অবমাননা করেছে তা’হলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে মেরে ফেলতে পারে। আর সেখানে যদি হর্তাকর্তা গোছের কারো কোন যোগসাজস থাকে তা’হলে তো কথাই নেই। অপছন্দের কাউকে নিধন করতে হলে তো এই ফর্মুলা অব্যর্থ। উৎসব, উৎসব আর উৎসব, শাস্তির উৎসব, হত্যার উৎসব । অন্য যে কোন অতি বদ উদ্দেশ্যে পুরনেও, যেমন ধর্ষণ ইত্যাদিতেও এই ফর্মুলা অব্যর্থ। ধরেন যদি ধর্ষকদের ইচ্ছে জাগে একটি হিজাবিকে ধর্ষণ করতে; তাকে মিথ্যামিথ্যি খারাপ মেয়ে বলে ধর্ষণ করে ফেলতে কি কোন অসুবিধা আছে? নেই। ইসলামী দেশ, এইসব পুরাই হালাল। চারটা লোক সাক্ষী দিলেই শেষ; এক্কেবারে কোরানের কথা। আহা বেশ বেশ বেশ । এবং, এবার একখানা কথা, ইসলামী দেশে ইসলামী উৎসব হলে কার কি? দেশের মানুষ, টুপি দাঁড়ি হিজাবিরা যদি এমন বিচার সমর্থন করে, চায়; তো কার কি? কার জ্বলে কি? যতো সব যন্ত্রণা কোথাকার।

৫। ইসলামী দেশে মুসলমান; এরা নিশ্চয়ই হাদিস কোরান মেনেই মুসলমান। তো মুসলমান হতে হলে আল্লা, নবী কোরান তো মানতেই হবে, নাকি? আল্লা মানবে, কোরান মানবে না, নবী মানবে না, তা তো হবে না; না’কি? মুসলমানের প্রাণের নবীর দেশ, ক্বাবা’র দেশ, কোরানের দেশ, মক্কা মদিনার দেশ, সৌদি আরব দেশ, এ তো মানতেই হবে, না’কি? সৌদি নিয়ম তো মানতেই হবে, না’কি?

৬। একটা গেরস্তের ঘরে একটা ধাড়ি শেয়াল আর অনেক মুরগি, তারা নাকি আবার খুব বন্ধু; বিশ্বাস হয়? বন্ধু যতই হোক তারা, শেয়াল কিন্তু মুরগির ওপর হামলে পড়বেই, স্বাভাবিক সেটা, নয় কি? বিশ্বাস হয়? নেকাবি হিজাবীদের জন্য সত্যিই ভাবনার কথা।

৭। বাংলাদেশের পুরুষ মানুষ তো বীর বাঙ্গালি; ওরেব্বাস, ভেরি স্ট্রং, ওদের নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই। মেয়েরা? ভেরি স্ট্রং মানেন বা না মানেন, আয় রোজগার করে পুরো সংসার চালায় এমন মেয়েদের অভাব নেই। মানেন বা না মানেন, এটাই সত্য। ব্যাডাগুলা এইসব কয়দিন সহ্য করে দেখা যাক।

৮। কোরান না মানলে কি মুসলমান হওয়া যায়? যায় না। তো বাংলাদেশের মানুষ কোরান পড়েন, খোলা মনে পড়েন। ওজু করে পড়েন। পড়ে দেখেন আপনি ঠিক না’কি লালা ঝরানো, ঝাণ্ডা ওড়ানো তেঁতুল শফি ঠিক।

৯। তনু হত্যা তদন্তে শোনা গেলো ধর্ষণ হয়নি, এখন শোনা যাচ্ছে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে । ধর্ষণকারীদের ধরা হবে নিশ্চয়! বিচার যদি হয়, তা’হলে দেশের আইনে হলেই ভালো, শরিয়া কোরানই আইনে হলে বিপদ আছে। ওই আইনে আবার চারজন পুরুষ মানুষের সাক্ষী লাগবে ধর্ষকদের ভালো মানুষ বা ধর্ষক সাব্যাস্ত করতে। মহা মুশকিল।

১০। বাংলাদেশে এখন কড়া আইন। ভয় লাগে। এখন ধর্ম অবমাননার অপবাদ দিলেই কেল্লা ফতে। এরসাথে জয় বাংলা ধ্বনি; এক্কেবারে নিশ্চিত জয়। পাণ্ডাগুলোর আচরণ অনেকটা যেন ৭১ এর দালাল রাজাকার আলবদরদের মত। যা ইচ্ছে তা’ই করতে পারতো যারা। সাধারণ নাগরিকরা তখন শুধুমাত্র ওদের ধমক খেয়েই ভয়ে চুপসে যেতে বাধ্য হত। আজকের মন্ত্রী এমপি চামচা পান্ডা ও চাটুকারের দল আইন নিজ হাতে তুলে নিয়ে যাকে ইচ্ছে, যেভাবে ইচ্ছে শাস্তি নির্যাতন করে চলেছে। অপমান করে, ধমক দিয়েই স্বার্থোদ্ধার। না’হলে খুন নির্যাতন। ৭২-৭৪ এর পান্ডাদের চেয়েও অনেক গুন ভয়াবহ এরা। প্রতিরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা না নিলে নাগরিক কি ওই অন্ধগলি থেকে বের হতে পারবে?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×