somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুক্তমনা ব্লগার
আমি বিশ্বাসী, কিন্তু মনের দরজা খুলে রাখাতে বিশ্বাস করি। জীবনে সবথেকে বড় অনুচিত কাজ হল মনের দরজা বন্ধ রাখা। আমি যা জানি সেটাই সত্য, বাকি সব মিথ্যা…এটাই অজ্ঞানতার জন্ম দেয়।

দু:খ বোধ কোথায়?

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ভোর ৪:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ার তান্ডবের ঘটনা যে ছবি পোষ্ট করা দিয়ে শুরু তার কালপ্রিট হিসেবে একজনের নাম মিডিয়ায় আসছে। নাম খুব বড় কথা নয়; একজন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বিহীন জেলে ফটোশপ কারিগরি করে এটা হজম করা বেশ কঠিন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাতেও রোষ পূর্ন হয়নি। কারও কাণ্ডজ্ঞান কাজ করেনি, এমনও নয় যে অভিযোগ আসার পর রসরাজ অন্যান্য বহু মামলার আসামীর মত গায়ে বাতাস লাগিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, পুলিশ তাকে ধরছিল না। হিংস্র হুংকার সহযোগে মিছিল মিটিং করে সত্যের সেনানীরা আহত অনুভূতি চিকিৎসার চেষ্টা করছিলেন, যার ফলশ্রুতি হিসেবে যা ঘটার ঘটেছে। নেপথ্যে সরকারী দলের স্থানীয় রাজনীতির নোংরা খেলা কাজ করেছে। কিন্তু ব্যাবহার করা হয়েছে সেই অতি পরিচিত ধর্মানুভূতি নামক পাশবিকতাকে। হাজার হাজার লোকে প্রকাশ্য দিবালোকে যা করে তাকে অল্প কিছু দুষ্ট লোকের আচরণ বা গোপন ষড়যন্ত্র বলা যায় না। স্থানীয় নোংরা পলিটিক্স পেছনে কাজ করলেও যারা সোৎসাহে সেদিন এই জান্তব উল্লাসে মেতে উঠেছিল তাদের বেশীরভাগই নিঃসন্দেহে ষড়যন্ত্রের খবর জানতো না (ষড়যন্ত্রের খবর কেউ হাজার হাজার লোকের কানে কানে বলে না), তাদের তাড়না ছিল একটাই, মালাউন ঠেঙ্গানো, মুফতে কিছু লুটপাট হল বোনাস। দরকার শুধু ধর্মানুভূতি আহত হবার যে কোন অজুহাত, যা তৈরী করে দেবার লোকের অভাব নেই। ইচ্ছে থাকিলে উপায় হয় বলে কথা।।

আচ্ছা, যারা রসরাজকে জেলে পুরেও মাইক সহকারে মিছিল মিটিং করে লোকজনকে উত্তপ্ত করেছিলেন (তাদের দাবীমত ধরে নিচ্ছি তারা কেউ আক্রমণে ছিলেন না) তাদের মধ্যে কি সামান্যতম কোন অপরাধবোধ এখন জেগেছে? যদি জেগে থাকলে তাহলে তার প্রকাশটা কোথায়? অনুভূতি আহত হবার প্রকাশ তো সারা দুনিয়া হাঁড়ে হাঁড়ে টের পায়। দুঃখিত হবার অনুভূতি জানা যায় না কেন? সেই ইউএনও সাহেব যিনি সরকারী কর্মচারী হয়েও এসব উষ্কানিমূলক সভা সমিতিতে ঈমানী জোশে সশরীরে যোগ দেন তিনিও কি আসল ঘটনা জানার পর ন্যূনতম কোন অপরাধবোধ অনুভব করছেন? ওনারা যদি অপরাধবোধে না ভোগেন তাহলে তার কারণ কি? কোন মসজিদে কি ক্ষতিগ্রস্থ হিন্দু পরিবারগুলির জন্য দোয়া চেয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে? ধর্ম ছাড়া নাকি নৈতিকতাবোধ হয় না। এই ধরনের নৈতিকতাবোধ সম্পর্কে নিরপেক্ষভাবে কেমন মূল্যায়ন করা যায়?

এক সময় ইউরোপ আমেরিকায় উইচ হান্টিং এর নামে অসংখ্য নিরীহ মানুষ নির্মম অত্যাচার করে মারা হয়েছে। আধুনিক যুগে বিশেষ কিছু সমাজে একই কায়দায় উইচ হান্টিং চলছে। দরকার শুধু অভিযোগের (ডাহা মিছে হলেও কিছু যায় আসে না) ব্যাস, বাকি সব আপনা আপনিই ঘটতে থাকে। মধ্যযুগের উইচ হান্টিং এ অন্তত পরিবারের সদস্য বা পাড়া প্রতিবেশীর সাজা পেতে হত না, প্রহসনের হলেও একটা কেতাবি বিচার হত। আধুনিক যুগের উইচ হান্টিং এ ভুগতে হয় হাজারো মানুষকে। সবচেয়ে বিস্ময়কর হল যারা এসব ঘটায় কিংবা সমর্থন করে তাদের কোন রকম বিবেকবোধের পরিচয় পাওয়া যায় না, এবসোলিউটলি নো রিমোর্স। শুনতে খারাপ লাগলেও মূল কারণ হল তারা নিজেদের ঈশ্বর মনোনীত শ্রেষ্ঠ জাতির সদস্য হিসেবেদৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বেহেশতে যাদের স্থান নির্দিষ্ট। দুই চার মালাউন বাই মিস্টেক ভুগলে তাদের দূঃখবোধের কোন প্রশ্ন সংগত কারনেই আসে না। হিংস্রভাবে ধর্মানূভূতির প্রকাশ ঘটিয়ে আল্লাহর অলি হওয়া দিয়ে কথা। হাঁকডাকের সাথে কাফের মুশরিকের সাথে জংগ জিহাদে সামিল না হলে আল্লাহপাক বান্দার অস্তিত্ব টের পাবেন কি করে? কাফের মুশরিকও চালাক হয়ে গেছে, তারা যে সব সময় যুদ্ধ করতে চাইবে এমন তো নয়, তাই নিজ দায়িত্বে যুদ্ধময় পরিস্থিতি বানিয়ে না নিলে উপায় কি?

যুদ্ধের যে মূল কাঁচামাল, অর্থাৎ শ্রেষ্ঠত্ববাদে ভোগার ধর্মীয় জোশ তা গোটা সমাজই ভালভাবে লালন পালন প্রচার পরিবেশনা করে, যদিও যুতমত যেভাবে বিলকুল কিছুই জানি না অভিনয় করতে পারে সেও এক দেখার মত দৃশ্য। ’৬৪ সালে ভারতের হযরতবাল মসজিদ থেকে নবীজির এক চুল চুরি যাওয়ার সংবাদে হাজার মাইল দুরের বাংলার মোমিনদের অনুভূতি আহত হওয়ায় প্রান যায় কয়েক হাজার হিন্দুর, ধর্ষিতা, নিরাশ্রয় হয় কত হাজার নিশ্চিত বলা যায় না – কারন হল ১৪০০ বছর আগে বিগত একজন মানুষের চুল চুরির সংবাদ। ভাবা যায়? এই অনুভূতিকে কিন্তু সম্মান জানাতে হবে, এই অনুভূতির বিরুদ্ধে কোন কথা বলা যাবে না। হাজার হাজার লোকে এভাবে ছূতা বেছূতায় দিনে দুপুরে তান্ডব করতে পারে, কিন্তু এসবের মাঝে ধর্ম বা ধার্মিক কারোই কোন দায় খোঁজা যাবে না। সহি ইসলামে কোথাও কিছু নাই……সহি ধার্মিক এইসব করতেই পারে না। দূষ্ট লোকে নাস্তিক হয়ে গিয়ে লুটপাট চালায়। ব্যাস, মামলা খারিজ। যাবতীয় দায় রাজনীতির, সম্পদের লোভের, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের। ভাগ্য ভাল খুব বেশী দেশে নবীজির চুল নেই।

ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা এবং কুপিয়ে মানুষ মারার মাঝে কোন তফাত নেই জাতীয় বক্তব্য যারা নানান কায়দায় দিয়ে এই হিংস্র অনুভূতি বাড়াতে অজ্ঞাতসারেই ভূমিকা রেখেছিলেন তারাও কি কখনো বিবেকের তাড়না অনুভব করেন? নাকি এখনো শুধু ইহা সহি ইসলাম নহে, কোরানে এই লেখা নেই এই লেখা আছে, বিদায় হজ্জ্বের বানী কত মধুর এইসব বলে বলে বিবেকের দায় এড়াবেন এবং সাথে মুফতে জনপ্রিয়তাও কুড়াবেন? নির্মম সত্য হল অশিক্ষিত ধর্মব্যাবসায়ী, কাঠমোল্লা, মৌলবাদী হেনতেন বলে যাদের ওপর যাবতীয় দায় চাপানো হয় সেই শ্রেনীকে লালন পালন করেন এই এলিট ইন্টেলেক্ট শ্রেনীই। পাপ বাপকেও ছাড়ে না, এক সময় দেখা যাবে।

এই যুগ যে উইচ হান্টিং যুগ নয়, আধুনিক সভ্য জগতে এই রকম তুচ্ছ ছূতা বেছূতায় তান্ডব ঘটানো যে অসভ্য বর্বরতা সেটা কি ওনারা বোঝেন? গোটা দুনিয়া যেখানে জাত, পাত, বর্ন ধর্মের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ কমাতে সচেষ্ট সেখানে ওনারা আবেগ অনুভূতির আতিশায্যে মধ্যযুগীয় মূল্যবোধের যে জগত ফিরিয়ে আনার পায়তারা করেন তার পরিনতি কি কোনদিন চিন্তা করেন?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ ভোর ৪:৪৬
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×