somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অবনি মণি
অনেক বছর হলো ; তবুও নিঃসঙ্গ বৃক্ষের মতো নির্জন নিস্তব্ধ মৌন পাহাড়ের মতোই একা পড়ে আছি আজও। একাই আছি এই দীর্ঘশ্বাসের মতো! তোমারও কি শুধু দীর্ঘশ্বাস,গ্রীলে বিষন্ন গোধূলী?

"হিজাব ফ্যশনের জন্য নয় ; এটা একটা ধর্মীয় পোশাক"

০৩ রা মে, ২০১৫ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিজাব এক ধরনের কাপড় যা মাথা, বুক কিংবা পুরো শরীর আবৃত রাখে।একজন মুসলমান হিসেবে আমাদের মধ্যে এই পোশাক পড়ার প্রচলন রয়েছে। আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুল (সাঃ) প্রদর্শিত নিয়ম অনুসারে নিজের আব্রু রক্ষার্থে আমরা মুসলিম নারীরা এ পোষাক পড়ে থাকি। মূলত পুরুষের প্রত্যক্ষতা এড়াতে এটি পরিধান করে থাকি আমরা মুসলিম নারীরা। কারণ পুরুষের প্রত্যক্ষতা এড়াতে পারলে, সমাজে নারীঘটিত অনেক অপরাধ অনেকাংশেই কম হয়।

তবে হিজাবের চর্চা কেবল ইসলামে আছে তা নয়। ভিন্ন নামে, ভিন্ন পরিসরে তা জারি আছে অন্যান্য ধর্ম বিশ্বাসীদের মধ্যেও।
“বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী খ্রীষ্টপূর্ব ১৩’শ শতাব্দি থেকে হিজাব বা চুল আবৃত করার পোশাক ব্যবহৃত হয়ে আসছে । সনাতন ধর্মে বিশ্বাসী হিন্দুদের ধর্ম ধর্মগ্রন্থ গীতাতেও শরীর কিংবা মাথা আবৃত রাখার কথা বলা আছে। ঋগবেদ-এর ১৯-২০ মন্ত্রে বলা হয়েছে, পুরুষদের নারীদের বস্ত্র পরিধান করা উচিত নয়। রামায়ন থেকে জানা যায়, সীতার প্রতি রামের নির্দেশ ছিলো নিজেকে ঢেকে রাখার ।”(সংগৃহীত)

"পর্দা নারীর মর্যাদার প্রতীক"। বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী । একটা সময়ে শুধু পর্দা করার জন্যই হিজাব পরা হতো। কিন্তু বর্তমানে সব বয়সী নারী ও তরুণীদের কাছে হিজাবের ব্যবহার দারুণ এক ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিজাবে পর্দা করা ছাড়াও রয়েছে নানা উপকারী দিক। বাইরের ধুলাবালি থেকে ত্বক ও চুলের সুরক্ষা দিতেও হিজাব কার্যকর ।

আগে যতটা না চোখে পড়তো টাইট,পাতলা,শরীর দেখানো জামা পড়ুয়াদের বর্তমানে তার থেকেও বেশী চোখে পড়ে হিজাবের ফ্যাশন । জিন্স পেন্ট আর শার্ট পড়ে হিজাব পড়া নারীদেরও অভাব নেই এ সমাজে । পাতলা জামা ; আপাদমস্তক শরীর দেখা যাচ্ছে আর এদিকে মাথায় হিজাব পড়া ; স্লিভলেস জামা পড়া কিন্তু মাথায় হিজাব ।এমন কিছু ফ্যাশনেবল হিজাবধারীদের দেখা যায় যা সহজেই যে কাউকে আকর্ষিত করবেই । হিজাব পড়ে পার্কে বয়ফ্রেন্ড এর বুকের উপর শুয়ে থেকে হিজাবের এ অবমাননা না করলেই কি নয় ! বলছিনা হিজাব পড়ে প্রেম করতে নেই কিংবা প্রেম করা যাবেনা ; কেন হবে সেটা পাবলিক প্লেসে !

আবার এমনও নারীর অভাব নেই যারা নিয়মিত হিজাব পড়ে থাকে কিন্তু অকেশনালি হিজাবের ধরা ছুয়ার বাইরে থাকেন । কোন বিশেষ অনুষ্ঠান যেমন বিয়ে,জন্মদিন,কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়া এমন দিনে হিজাবের আওতামুক্ত থাকার চেষ্টা করেন । অনেককে অনেক সময় প্রশ্ন করেছি এটা কেন ? অনেকেই উত্তরে বলেছেন একদিনই তো ; একদিন না পড়লে কি আর হয় ! আর এমন অনুষ্ঠানে হিজাব পড়লে কেমন যেন খেত দেখায় ! অনেকে আবার এও বলে থাকেন আজ প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে তাই পড়তে ইচ্ছে করলোনা । যদি পর্দা করার জন্য হিজাব পড়ে থাকেন এই মানুষ গুলো তবে বলবো আল্লাহর এমন কোন বিধানের মধ্যে আছে কি কোন বিশেষ দিনে পর্দা না করলে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন? আর যদি ফ্যাশন হিসেবে পড়ে থাকেন তবে বলবো হিজাবের এই অবমাননা না করলেই কি নয় ?

আমার কাছের অনেকেই আছে যারা হিজাব পড়ে দেখে তাদের প্রতি আমার একটা শ্রদ্ধাবোধ জন্ম নিয়েছে । তাঁকে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি ।তার থেকে হিজাব পড়ার উৎসাহ পেয়ে অনুপ্রাণিত হয়েছি হঠাৎ যখন তাঁকে আবার হিজাব ছাড়া দেখতে হয় তখন সেই শ্রদ্ধাবোধ কোথায় এসে নামে ধারণা করুন !

হিজাব নিয়ে কথা বলার মতো অতটা ধার্মিক এখনো হতে পারিনি । আল্লাহ কে ভয় করে আর পর্দা করার জন্যেই হিজাব পড়তে শুরু করেছি । কিন্তু প্রতিটা পদে পদে কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হতেই হয় “তুমি কি ফ্যাশন হিসেবে হিজাব পড়া শুরু করেছ? আচ্ছা , তুমি কি হিজাব প্রতিদিনই পড়বা নাকি অকেশনালি বাদ দিবা ? হিজাব কি কয়দিন পর ছেড়ে দেয়ার ইচ্ছে আছে ? কোন বিয়ে কিংবা কোন অনুষ্ঠানে হিজাব পড়ার ইচ্ছে আছে নাকি পড়বানা ?” এখানে প্রশ্নকারীর কোনো দোষ নেই ; তিনি নিয়মিত এমন পরিস্থিতি দেখে অভ্যস্ত তাই হয়তো প্রশ্ন করছেন । কিন্তু যারা এসব করছে তাদের অনেকেই ধর্মীয় পোশাক হিসেবেই ব্যবহার করছে কিন্তু অকেশনালি হিজাবের আওতামুক্ত থাকার যে কোন বিধান কোন ধর্মেই নেই এ কথা হয়তো তারা জানেনা । অথবা সঙ্গ দোষে হয়ে যাচ্ছে । বন্ধু,কলিগ কিংবা কাছের কোন একজন বলছে আজ হিজাব না পড়লেই কি নয় ? আজকে বাদ দাও ; কিছু হবেনা । ঐ কথা শুনেই হয়তো বাদ দিয়ে দিয়েছেন । কিন্তু তিনি তখন তার ব্যক্তিগত মতামত কেও যে অসম্মান করছেন এটা তিনি নিজেও বুঝেননি । এমন প্রস্তাব আমিও অনেক পেয়েছি । কিন্তু এ বিষয়ে আমি আমার কথার বাইরে কখনো যাইনি ।

আশা করি আমরা যারা পর্দার জন্য হিজাব ব্যবহার করছি তারা একটু জানার চেষ্টা করবো ইসলামে নারীর পর্দা করার মর্যাদা কতটুকু ! হিজাবের অবমাননা না করে আসুন আমরা হিজাবের সঠিক ব্যবহার করার চেষ্টা করি ।

ইসলামের পর্দা-ব্যবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে না বুঝার কারণে কেউ কেউ একে পশ্চাৎপদতা, সেকেলে, নারীকে শৃঙ্খলিতকরণের পন্থা, উন্নয়নের অন্তরায় এবং নারী ও পুরুষের মধ্যে একটি বৈষম্য সৃষ্টির প্রয়াস বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। মূলত এই ভুল বুঝাবুঝির জন্য মুসলিম-বিশ্বের কতিপয় এলাকায় ইসলামের সত্যিকার শিক্ষার অপপ্রয়োগ আর পাশ্চাত্য গণমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকাই দায়ী। পাশ্চাত্য গণমাধ্যমের এটা একটা নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ইসলামের কথা উঠলেই তার প্রতি একটা কুৎসিৎ আচরণ প্রদর্শন করা হয়। আর তাঁদের এই অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে আমাদের এই অঞ্চলেও অনেকে পর্দা-প্রথা সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করে থাকেন। একজন খ্রীষ্টান 'নান' বা ধর্মজাজিকা যখন লম্বা গাউন আর মাথা-ঢাকা পোশাক পড়ে থাকেন তখন তা আর পশ্চাৎপদতা, উন্নয়নের অন্তরায় বা নারীকে শৃঙ্খলিতকরণের প্রয়াস বলে বিবেচিত হয় না। বরং তা শ্রদ্ধা, ভক্তি বা মাতৃত্বের প্রতীক রূপেই বিবেচিত হয়।(সংগৃহীত)

অতএব, ইসলামের পর্দা-ব্যবস্থা বা ক্ষেত্র-বিশেষে নারী-পুরুষের পৃথকীকরণ নারীকে শৃঙ্খলিত করার পরিবর্তে তাঁকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, সমাজে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ-ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১৫ রাত ১১:৩১
১২টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×