somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আহ ! আফ্রিকা!! ঃ আফ্রিকার দারিদ্র্য, এখনও আছে কালোদের সংগ্রাম!

১৯ শে জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


৬ জুন ২০১৭


বিষয়টা খুব অদ্ভুত! মাইলের পর মাইল খালি পড়ে আছে, কিন্তু গরিব মানুষ বসবাস করছে, অল্প একটা জায়গায়, এক সঙ্গে অনেক পরিবার অনেকগুলো ছোট ছোট ঘর বানিয়ে! অধিকাংশ জমিতেই তাদের প্রবেশাধিকার নেই। শুনেছি, দক্ষিণ আফ্রিকার ৮০% এর উপর ভূমি বেসরকারি মালিকানায়, এর মধ্যে নাকি ৮০%ই আবার ৪০ হাজার সাদা পরিবারের! এই তথ্য নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, কালো মানুষরা যে এখনও বেশ পিছিয়ে, সেটা বেশ ভালভাবেই টের পাওয়া যায়!
পৃথিবীর সব গরিব মানুষই আসলে গরিব!

দক্ষিণ আফ্রিকার শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ কালোদেরকে কিভাবে মাত্র ১০ ভাগেরও কম সাদা লোকজন শাসন করে গেছে তার একটা নমুনা পেলাম একটু আগে। দেশটিতে পেশা হিসাবে মৎস্যজীবীদের কোন স্বীকৃতি নেই, যেখানে কালোরাই মূলত জড়িত । মাছ ধরার জন্য অনেক কালো জেলেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে, শাস্তি পেতে হয়েছে। জীবিকার জন্য মাছ ধরাকে এখানে দেখা হতো অপরাধ হিসেবে। তবে শৌখিন মাছ ধরা অনুমোদিত, যাতে সাদা মানুষরা জড়িত! ২০১২ সালে নতুন নীতিমালা করার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু এখনও সেটা হয়নি।

আজ আমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ভেন্ডারক্লুফ বাঁধ দেখতে। দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় নদী অরেঞ্জ নদীতে বাঁধ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই জলবিদ্যুত কেন্দ্র। এটি দেশটির প্রায় ৩ হাজার বাঁধের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম ( ৩ হাজার বাঁধ! আমাদের মনে হয় আছে ২টি)। বাঁধের এই পাশে যে পানি জমা থাকে তাতে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা চলে প্রায় ১২০ জেলে পরিবারের। কিছুদিন আগেও এখানে মাছ ধরা ছিল নিষিদ্ধ, জেলেরা জীবিকার তাগিদে রাতের বেলায়, ঝুঁকি নিয়ে, গোপনে বড় বড় পাথর পাড় হয়ে নেমে মাছ ধরতেন। কয়েকটি পাহাড়ের নিচে, মাঝখানে হওয়ায় নদীতে গিয়ে মাছ ধরতে হলে কস্ট করে অনেক নিচে নেমে যেতে হয়। আমরা নিচে গিয়ে ছবি তুলেছি বলে গভীরতা ঠিক বোঝা যাচ্ছে না । এখন প্রকাশ্যে মাছ ধরা যায়, কিন্তু বাধা রয়েছে অনেক।

সংবাদপত্র? নাকি যৌন বাণিজ্যের লিফলেট!?

প্রায় ২৪ টাকা দিয়ে Sun নামের যে পত্রিকাটি কিনলাম তাতে প্রেসিডেন্ট পুত্রের দুবাইতে বুরজ খলিফায় কোটি ডলার দিয়ে এপার্টমেন্ট কেনার খবর অনেক ভিতরের পাতায়! প্রথম পাতায় বাইবেল হাতে এক খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারকের ছবি দিয়ে যে সংবাদ ছেপেছে তার শিরোনাম এখানে প্রকাশযোগ্য নয়। খবরটির বিষয়বস্তু হলো, এই ধর্ম প্রচারকের বান্ধবীরা তাঁকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে, একটা সময় তাঁকে প্রতিমাসেই তার বান্ধবী বেছে নিতে হয়েছে। এখন কেউ তার বান্ধবী হচ্ছে না! তাঁর এক সাবেক বান্ধবীর সাক্ষাৎকারও আছে, যেখানে তিনি অন্য মেয়েদেরকে তাঁর বান্ধবী না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন! কেন তাঁর সম্পর্ক টিকছে না সেটাও এখানে প্রকাশ অযোগ্য!
পুরো এক পাতা বরাদ্দ আছে এন্টারটেইনমেন্ট এন্ড রেলেকশেশান শিরোনামে। এখানে আছে কল গার্ল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন! আছে হট ম্যাসেজের বজ্ঞাপন, আরও কত কি?
(এখানে এই সান পত্রিকা দেখলাম বিমা ব্যবসা করে, বিজ্ঞাপনে লেখা ডেইলি সান বিমা সেবা!

৮ জুন ২০১৭ঃ সরকারি অফিস!
আজ গিয়েছিলাম এখানকার পানি ও পরিবেশ দপ্তরে। রিসেপশান এলাকাটা বেশ সুন্দর করে সাজানো, দাঁড়িয়ে আছি জাতীয় মৎস্য নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সমন্বয়কারি কিষানের সঙ্গে। অফিসটাতে নতুন একটা জিনিস চোখে পড়লো, সবগুলো দরজায় কিছু নাম্বার লেখা, আবার শেষে দেয়া বর্গমিটারের চিহ্ন! কৌতূহল দমাতে পারিনি। একটু খুঁজতে গিয়েই একটা বেশ বড় রুমে দেখলাম বেশ বড়সড় (!) এই মহিলা কর্মকর্তা বসে আছেন! অনুমতি নিয়ে রুমে ঢুকে দরজার সামনে কেন এইরকম বর্গমিটার লেখা জানতে চাইলে কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেন। এক গাল হেসে বললেন, তাই তো! আমিও তো জানি না!! কাকে যেন ফোন করলেন, হাসতে হাসতে জানালেন, দরজার সামনে প্রত্যেকটা রুমের আয়তন লেখা আছে। এটা অফিসের সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটা অংশ।
এখানে যে সভায় অংশ নিয়েছি, তা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১০ টায়, সঞ্চালক সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এলেন ৯.৩৫ এ, বাকি সবাই চলে আসলেন ৯.৪ এর মধ্যেই!
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৭ সকাল ১০:৩৭
৮টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২





হিজিবিজি নদী চলে মন উদাসের দেশে !

...................................................................
মানচিত্রের আঁকাবাঁকা রেখায় তারে পাবেনা,
সে নদী তো চেনা কোনো ঠিকানায় যাবে না।
তার কোনো কূল নেই, নেই কোনো ঘাট,
সে বয়ে চলে একা, বুক জুড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×