somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানফাত শিফিরের স্ট্যাট্যাস সমগ্র - ১ম পর্ব

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দরিদ্রতা আর ক্ষুধা তৃষ্ণার দেবতাদের অভিশপ্ত কৃপায় শৈশবহীন, আদরহীন আর স্নেহহীন শিশুরা গৃহহীন হয়ে যখন " গৃহকর্মী ওরফে আধুনিক দাসত্বের " শিকলে নিজেদের সঁপে দেয় ঠিক তখনই মুখোশ পরিহিত প্রাণহীন পশুদের পাশবিক আদিম বর্বরতার শিকার হয় তারা। " গরম খুন্তি" ব্লেড আর ধারালো ধাতব বস্তুর উপপুর্যপুরি আঘাতে শিশুদের নির্যাতনের যে ভয়াবহতা তার কাছে " হিটলারের গ্যাস চ্যাম্বার" তো দূরে থাক যমদূতও ভয়ে শিওরে উঠবে। সভ্যতা ভব্যতা কিংবা সমাজ ও বিবেকের সমূলে পতনের যে বিকট শব্দ শুনতে পাচ্ছি তা অনিবার্য।আমি নরকের কীট দেখিনি কিন্তু শিশু নির্যাতনকারী পশুদের দেখেছি। এসব দেখে দেখে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের " প্রাগৈতিহাসিক" অবলম্বনে বলিতে হয়,
" মরিব না আমরা মরিব না বনের পশুও যে সমাজে বাস করিতে পারে না আমরা মানুষ সেখানে বাস করিবই।"

আউল বাউল আর লালনের দেশে " ডিজিটাল" নামের একটা উচ্চারণে ভারী শব্দের আগমন হয়েছে।
কারণটা হল জীবনপদ্ধতির আনুসঙ্গিক বিষয়গুলোর ডিজিটালকরণ কিন্তু আমরা যেহেতু " হুজুগে বাঙ্গালি" তাই আমরা আমাদের শৈশব, কৈশোর আর বার্ধক্যের ডিজিটালাইজ করলাম। এর ফলে আমরা কাবুলিকে ঘৃণা করে ধূতি পড়লাম, সকালে মাঠার পরিবর্তে চার বোতল ভদকা, শাড়ির বদলে মাসাককালি আর মাঠাককালি, আর বৈঠকের বদলে জলসা বসিয়ে মাস্তি আনলিমিটেড জাতিতে পরিণত হলাম। অনুকরণপ্রিয় জাতির যদি কোনো পুরস্কার থাকত তাহলে সেটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি হত।
লালনের বারামখানা....
, নজরুলের বাবুদের তালপুকুের....
রবি ঠাকুরের আমাদের ছোটনদী......
জসীমউদ্দিনের সোজন বদিয়ার ঘাট...... কেবলই স্মৃতি।
শৈশব আর কৈশোরের দূরন্ত দিনে হারিয়ে যেতে যেতে শুধুই মনে হচ্ছে,
" এই পথ যদি না শেষ হয়
তবে কেমন হত তুমি বলত?
যদি পৃথিবীটা স্বপ্নের দেশ হয়
তবে কেমন হত তুমি, বলনা.....?"

হিটলারীয় একনায়কতন্ত্র আর ষ্টালিনীয় সমাজতন্ত্রের গোপন অভিসারে লিংকনীয় গণতন্ত্রের গর্ভে
" যুদ্ধতন্ত্র" নামের এক অবৈধ সন্তানের জন্ম হয়েছে। টার্গেট বিশ্বজুড়ে অসহায় নিপীড়িত আবালবৃদ্ধবণিতার জান কবজ করা। জাতিসংঘ হল এই অবৈধ সন্তানের বৈধ " শূণ্যমন্দির"। যেখানে নৈশভোজ আর সার্কাসীয় কথাবার্তার মাধ্যমে পূজা অর্চনা করে মানবতার খোলসে
বিবেকহীন দানবরা। মাওবাদী, ফিলিস্তীনি আর রোহিঙ্গা
নিরপরাদ শিশুদের নিষ্পাপ রক্তের জুস পান করা এসব নেতাদের নরখাদক বললেও কম বলা হবে। জর্জ অরওয়েলের " এনিমেল ফার্ম" এর এনিমেলরা এখন ভ্যাম্পায়ার বা রক্তপিপাসু হয়ে গেছেন। " ভ্যাম্পায়ার ফার্ম " এখন যুদ্ধতন্ত্রের ধারক ও বাহক। মুক্তবিশ্বের যুদ্ধবাজ বারবনিতাদের কুকর্মে মহাপ্লাবন আসবেই।কেননা,
" লোকালয় পুড়িলে কি দেবালয় রক্ষা পায়?"

দরিদ্রতা আর ক্ষুধা তৃষ্ণার দেবতাদের অভিশপ্ত কৃপায় শৈশবহীন, আদরহীন আর স্নেহহীন শিশুরা গৃহহীন হয়ে যখন " গৃহকর্মী ওরফে আধুনিক দাসত্বের " শিকলে নিজেদের সঁপে দেয় ঠিক তখনই মুখোশ পরিহিত প্রাণহীন পশুদের পাশবিক আদিম বর্বরতার শিকার হয় তারা। " গরম খুন্তি" ব্লেড আর ধারালো ধাতব বস্তুর উপপুর্যপুরি আঘাতে শিশুদের নির্যাতনের যে ভয়াবহতা তার কাছে " হিটলারের গ্যাস চ্যাম্বার" তো দূরে থাক যমদূতও ভয়ে শিওরে উঠবে। সভ্যতা ভব্যতা কিংবা সমাজ ও বিবেকের সমূলে পতনের যে বিকট শব্দ শুনতে পাচ্ছি তা অনিবার্য।আমি নরকের কীট দেখিনি কিন্তু শিশু নির্যাতনকারী পশুদের দেখেছি। এসব দেখে দেখে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের " প্রাগৈতিহাসিক" অবলম্বনে বলিতে হয়,
" মরিব না আমরা মরিব না বনের পশুও যে সমাজে বাস করিতে পারে না আমরা মানুষ সেখানে বাস করিবই।"

সাগরে সলিল সমাধি, সড়ক দূর্ঘটনা কিংবা লেলিহান আগুনে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে জীবন নামের " প্রাণপাখি" টা যখন খাঁচা ভেঙ্গে দূর অজানায় হারিয়ে যায় তখন স্বাভাবিক মৃত্যুকে মনে হয় " স্বপ্ন"।
জীবনের মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় কিন্তু যৌবনের মৃত্যুর কোনো প্রতিকার নেই। নানাবিধ দূর্ঘটনায় আমাদের উদ্দাম যৌবন এখন বার্ধক্যের কংকাল মূর্তি। ৭১ সালের " মুক্তিযুদ্ধ" ২০১৬ সালে এসে " মৃত্যুযুদ্ধে" পরিণত হয়েছে। মহাযাত্রা কিংবা অকালমৃত্যুর হাতছানিতে বিপর্যস্ত জনজীবন কেবলই নচিকেতার,
" যখন সময় থমকে দাঁড়ায়
হতাশার পাখি দু' হাত বাড়ায়
খুঁজে নিয়ে মন নির্জন কোণ
কি আর করে তখন?
"স্বপ্ন স্বপ্ন স্বপ্ন" স্বপ্ন দেখে মন।"
দুঃস্বপ্ন হলেও ক্যালেন্ডারের তারিখের পাতায় অন্তত একটি দূর্ঘটনাহীন দিন চাই। এটাই আপাতত স্বপ্ন।কেননা,
" A journey of thousand miles begins with a single step."

চোখে যাহা "উৎসবের লাল" চেতনায় তাহাই " বেদনার নীল"।লক্ষ কোটি চোখ থাকার চেয়ে গুটিকয়েক চেতনা থাকা উত্তম। এই চেতনার ভাঙ্গা তরীতে ভর করেই ১৯৫২, ১৯৭১, এবং ১৯৯০ কে পাড়ি দেয়া হয়েছিল। তাইতো অন্ধ লেখক জন মিল্টন " প্যারাডাইস লষ্ট" এর মত অমর সৃষ্টতে তুষ্ট না হয়ে " প্যারাডাইস রিগেইনড" এ থামলেন। আমরা ১৬ কোটি মানুষের হয়ত প্রায় ৩২ কোটি চোখ থাকলেও চেতনার পরিসংখ্যানে আমরা দেউলিয়া হয়ে গেছি। ফলে কোরবানিতে আমরা হয়ত চিকনাইযুক্ত গরুর মসলাযুক্ত স্বাদ পাচ্ছি কিন্তু অসহায় নিপীড়িত, আর ভাগ্যাহত মানুষের অশ্রুর নোনাজলের যে গভীর বেদনা তা বুজতে পারছি না।এজন্যই কবি বলেছিলেন,
" চিরসুখীজন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিত বেদনা বুঝিতে পারে।"

" মাঝ রাতে বাঁকা চাঁদ আকাশে,
চুপি চুপি বাঁশি বাজে বাতাসে।"
অনাবিল আনন্দের ঈদের চাঁদ "বাঁকা" হলেও তার জাদুকরী " বাঁশির" সুরের তালে আমরা জীবনের নানাবিধ দুঃখ, বিড়ম্বনা ভুলে যাই। সম্ভবত মৃত্যুর আলিঙ্গন আর ঈদ উদযাপনেই আমরা কিঞ্চিৎ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করি। ঈদ পূর্ববর্তী " হলি আর্টিজান" ও " ট্যাম্পাকোর আগুন" এর ঘটনায় মৃত্যু ও ঈদের মধ্যে একটা গোপন আঁতাত লক্ষ্য করা যায়। এ ঘটনা চলতে থাকলে এটা নিয়েও একটা " তদন্ত কমিটি " করা যায়।
" ঈদ পূর্ববর্তী মৃত্যুর মিছিলে আর কোন অকাল মৃত্যু নয়।" কর্পোরেশনের " নগর পিতা" হয়ত জবাই হওয়া পশুর রক্ত কয়েক ঘন্টায় ধূয়ে ফেলতে পারবেন, কিন্তু অজ্ঞাতপরিচিত পুড়ে যাওয়া পিতার লাশের স্মৃতিচিহ্ন তার সন্তানদের কাছে অমোচনীয়।
তবুও " ঈদ মোবারক"
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৪৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×