somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানফাত শিফিরের স্ট্যাট্যাস সমগ্র - ৩য় পর্ব

২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাল্পনিক, নিষ্ঠুর, সর্বগ্রাসী আর অমানবিক নিরাপত্তা বলয়ের যূপকাষ্ঠে উইলস লিটল ফ্লাওয়ারের " লিটল ফ্লাওয়ার" রিশাকে চলে যেতে হল। বাংলাদেশের নিরাপত্তা যেন " ফারাক্কা বাঁধ"। গেট খুললে " অপারেশন থান্ডারবোল্ট" " হিট ষ্ট্রং 27" এর জোয়ারে সন্ত্রাসীরা মারা যায়, আর ভাটার সময় মারা যায় তনু, ফেলানী, আফসানা আর রিশারা।তাই আমরা জোয়ারে ভেসে যেতে চাই।রিশা, তনু, আফসানা কিংবা ফেলানীর লাশের উপর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের যে কাল্পনিক রেখা তার থেকে রামপাল, তিস্তা আর ফারাক্কার পরাধীনতা অনেক উপভোগ্য। অনেকটা " মহাভারত" এর দূর্যোধন আর দুঃশাষণের মত।অপরাধ করে যারা বলত,
" জয়ী আমি আজ।"
রিশার হত্যাকারী "দুঃশাষণের হাতকড়া পরিহিত ক্রসফায়ার চাই"

" তোমাকে অভিবাদন হে প্রিয়তমা"
খ্যাত ক্ষণজন্মা পুরুষ কবি শহীদ কাদরীর মহাপ্রয়াণে যে নক্ষত্রের পতন ঘটল তা অপূরণীয়।যিনি তার দর্শনে রাষ্ট্র মানেই ১৪৪ ধারা, রেসকোর্সের কাঁটাতার, জলপাই রঙ্গের গাড়ি কিংবা লেফট রাইট লেফট বলতেন, সেই মানুষটিই জীবনের লেফট রাইট লেফটের কাছে পরাজিত হলেন।অনেক পরাজয় গৌরবের চেয়ে উজ্জ্বল। শুধুমাত্র বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে নয় রাষ্ট্র ও গণজীবনের সকল স্তরে তার নৈতিক বানী দ্যুতি ছড়াবে। আসলে
" কীর্তিমানের মৃত্যু নেই।"
তিনি ছিলেন, আছেন, এবং থাকবেন যুগ যুগান্তর।তিনি থাকবেন তার সেই পঙ্কতিময় জগতে যেখানে,
" বণ্য শূকর খুঁজে পাবে প্রিয় কাদা,
মাছরাঙা পাবে অণ্বেষণের মাছ,
কালোরাতগুলো মেঘে ধূয়ে হবে শাদা,
ঘনজঙ্গলে ময়ূর দেখাবে নাচ।"

ছোটবেলায় " যেখানে দেখিবে ছাই,
উড়াইয়া দেখ তাই,
পাইলেও পাইতে পার অমূল্য রতন।"
পড়তাম আর ছাই উড়াতাম কিন্তু বিবিধ অমূল্য রতনের দেখা আজও পেলাম না। রামপালে কয়লা পুড়বে ছাই উড়বে ফলে বৈচিত্র্যময় রত্নভান্ডারের ছোয়ায় সুন্দরবন ব্ল্যাকডায়মন্ড হবে, কয়লাদানবের কালোছোয়ায় আমাদের দেশে জন্ম নিবে উসাইন বোল্ট, তাতেন্দা তাইবু কিংবা ষ্টিভ টিকোলোর মত মহাতারকারা। অলিম্পিক পদকের পাশাপাশি কালো টাকার স্পর্শে আমরা পাব কালো জয়ী( কালজয়ী) অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। স্বপ্ন পূরনের স্লোগান হবে, " কালো আসবেই।"
সৌজন্যে "কয়লাফোন"
প্রাপ্তিস্হান- " ব্ল্যাকমার্কেট"
বিদ্রঃ আমার লেখাগুলোও কেন জানি কালো হয়ে যাচ্ছে।
সবাইকে "কালো সালাম "

বাঙ্গালি জাতির বর্ণনায় নীরদ সি চৌধুরী বলেছিলেন,
" বাঙ্গালিরা রাজনীতি করে, রাজনীতি খায় আর রাজনীতি নিয়ে ঘুমায়।"
ফলে,
ইদানিংকালে চোখের নোনা জল, ফারাক্কার অশুভ জল, বজ্রসহ বৃষ্টির শুভ্র জল, জলাবদ্ধতার নোংরা জল মিলে রাজনীতির ঘোলা জলে পরিণত হয়েছে। এই ফারাক্কা সভ্যতা, এই রামপাল সভ্যতাও একদিন সিন্ধু সভ্যতার মত ইতিহাসে ঠাঁই নিবে। কয়লাদানব ও জলদানবের রাজনীতির দূর্বিপাকে মৃত্যু কী কম গৌরবের??? রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব আর কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের দালালির ঘেরাটোপে বন্দী জনগন কি কেবলই,

" নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান,
ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।"?????


তিলোত্তমা ঢাকা শহরের সোডিয়াম লাইটের মায়াবী আলো আর "মধ্যম আয়ের দেশ" হওয়ার গোয়েবলসীয় কল্পকাহীনির রগরগে গল্পের ঢাকা শহরে টিউশনি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে আর আবাসিক হলের জন্য হঠকারিতা করবে এ হতে পারে না??? তাই ফ্রাংকেনষ্টাইনের দানবের আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে সাধারণ ছাত্রদের আহত হওয়া এ আর এমন কি!!!!! কারণ বায়ান্ন, বাষট্টি, উনসত্তর কিংবা একাত্তরে শহীদের "রক্তমাখা চেতনা" বইয়ের পৃষ্ঠা এবং যাদুঘরের নীল সিন্ধুকে বন্দী। আসাদের রক্তমাখা শার্ট আর নূর হোসেনের গুলিবিদ্ধ লাশের মূল্য আজ পুলিশের লাঠিচার্জ,টিয়ারশেল,গুলি আর জলকামানের কাছে বড্ড অসহায়।তাইতো স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর বলতে হয়,
" জন্মই আমার আজন্ম পাপ।"

রাজনৈতিক ভাবাদর্শের তফাত সাস্থ্যকর গণতন্ত্রের অন্যতম চাবিকাঠি।স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে মত, ভিন্নমত কিংবা সহমতের একমাত্র মিলন বিন্দু লাল সবুজের পতাকা।মেধাহীন রাজনীতি, " নীতির রাজা" তো নয়ই বরং "দাসত্বের রাজা" বললেও বোধকরি কম বলা হবে।পর্তুগীজ, ফরাসি কিংবা ইংরেজদের প্রভুত্বের বিষধর বীজ মস্তিস্কে ধারণ, লালন, পোষণ এবং চর্চা করে আর যাই হোক " মুক্তি " র প্রশ্নে " দিল্লী হনুজ দূর অস্ত, দিল্লী বহুত দূর।"

ফেলানী, তনু এবং আফসানারা যখন " বিনি সুতোর মালায়" জীবনের ক্যানভাস রাঙ্গানোর স্বপ্নে বিভোর
ঠিক তখনই মানুষরূপী জানোয়ারের ভয়াল থাবায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে লাশ হলেন।এই লাশের ওজন কি ৫৬ হাজার বর্গমাইলের স্বদেশ ধারণ করতে পারবে? যার বুকে বুক চিতিয়ে শুয়ে আছে সালাম, জব্বার আর রফিকের লাশ???

বিবেকহীন, হৃদয়হীন আর বিচারহীনতার যাতাকলে পিষ্ট আমরা,
" মস্তিস্কে ধর্ষিত, আত্মায় মৃত আর বেঁচে থাকায় এক একজন জীবন্ত কংকাল।" ছাড়া কিছুই নই।

ধর্ষিতার অভিশাপ আর ধর্ষকের আস্ফালনে পঙ্গু সমাজের মুক্তির জন্য,
" ধর্ষকের ধর্ষক চাই"

সাধারনের জীবন যেন,

" দুখের দহনে করুন রোদনে তিলে তিলে তার ক্ষয়।"


"জীবন নামের রেলগাড়িটা পায় না খুঁজে ইষ্টিষন"

প্রত্যাশা,প্রাপ্তি কিংবা সুখ- দুঃখের ভাগাভাগিতে ব্যস্ত
জীবনের জমকালো আয়োজনে খেই হারিয়ে আমরা নানান লক্ষ্য নির্ধারণ করি।কিন্তু মৃত্যুর অনিবার্য আলিঙ্গনে ঘুচে যায় হিসাবের খাতা।অকালে চলে যাওয়া যেন লালনের,
" খাঁচা ভেঙ্গে উড়ে গেলে কিছুই রবে না"
করুণ সুরেরই প্রতিধ্বনি তবুও জীবন পরিপূর্ণ করার প্রচেষ্টায় নিরন্তর ছুটে চলছি আমরা। এ যেন,

" আমি দেখিনি, আমি শুনিনি, আমি বলিনি অনেক কিছু
আমি বুঝিনি, আমি জানিনি তবু ছুটেছি তোমার পিছু"

" গুরুজনে কর ভক্তি"
কথাটির অতীত আছে,বর্তমান নেই, ভবিষ্যৎ থাকার প্রশ্নই আসেনা।অর্থ ও পেশীশক্তির মহড়ায় শিক্ষক ধারণাটিই বিলুপ্তপ্রায়।তাইতো টাকা দিয়ে কেনা মোবাইলফোনের সম্মান রক্ষায় শিক্ষকের অসম্মানে এই সমাজ এই রাস্ট্র নীরব দর্শক।নীতিনির্ধারকদের কেউ কোনোদিন " শিক্ষাগুরুর মর্যাদা" কিংবা ছেলের শিক্ষকের কাছে লেখা আব্রাহাম লিংকনের চিঠিটি পড়েননি কোনদিন? তাদের অর্থলিপ্সু চরিত্র দেখে মনে হয়.....
" টাকা গয়া, টাকা কাশী, টাকা বৃন্দাবন।
টাকা কালী, টাকা দূর্গা, টাকাই নারায়ণ।"


" অতীকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে,
তেলাপোকা টিকিয়া আছে।"
প্রমথবাবুর কথাটির ব্যাখ্যা করুন।
উৎস......ভারতের আসাম রাজ্য।

প্রসঙ্গ......রঙ্গভরা বঙ্গদেশের কতিপয় জেলার বিস্তৃর্ণ জনপথ যখন বন্ধুবৎসল প্রতিবেশির বর্ষাযাপনের উপহারে ডুবন্ত, ঠিক তখনই রাজকীয়তার প্রতীক হাতির আগমনবার্তায় কতিপয় নির্ভীক সাংবাদিকের বস্তুনিষ্ট " হাতি ওরফে বঙ্গবাহাদুর সমাচার"।আস্তাবলের আদি নিবাস হাতিরঝিল আসাই ছিল হাতিটির লক্ষ্য।

বিশ্লেষণ...... যেখানে " টিকিয়া থাকাই চরম স্বার্থকতা"।সেখানে হাতির না আছে কোনো বুদ্ধি না আছে রাজনৈতিক পরিচয়।অতএব মৃত্যুই তার যথার্থ গন্তব্য।

মন্তব্যঃফেলানী বা তনু হত্যার মতোই হাতি হত্যার যথার্থ নিরপেক্ষ, বিচার বিভাগীয় ও অংশগ্রহণমূলক তদন্ত দাবি করছি।

অপরিমিত আবেগের দংশন যখন বিবেকবোধ এর উপর চড়াও হয় তখন জাতি তার স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে।তখন আমরা সুখে কাঁদি, শোকে হাসি,নিরাশায় বুক বাঁধি আর আশায় মূর্ছা যাই।আবেগী ঝড়ো হাওয়ার মাতাল স্পর্শে রক্ষক ভক্ষক হয়ে যায়,ডাক্তার কসাই হয়ে যায় আর মানুষ মানহুশ হয়ে সফদার ডাক্তারের মত,
"খিদে পেলে পানি খায় চিবিয়ে
আর, বই পড়ে আলোটারে নিভিয়ে"।



সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×