দান সদকা উত্তম ইবাদত। আল্লাহ তাওয়ালা মানুষ সৃষ্টি করে দৈনন্দিন কার্যাবলী নির্ধারণ করেছেন পবিত্র কোরআন এর মাধ্যমে। কোরআন শরীফ হচ্ছে মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ২৫৪ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন," হে বিশ্বাসীগণ! আমি যা তোমাদের দিয়েছি, তা থেকে দান কর।"
মহানবী (সঃ) সব সময় দানকে উৎসাহিত করেছেন। আল্লাহ তাওয়ালা সঞ্চয় না করে দান করতে উৎসাহ দেন এবং সুরা হুমাযাহ এর ১ও২ নং আয়াতে বলেন," দূর্ভোগ প্রত্যেকের যে, পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে,যে অর্থ সঞ্চয় করে এবং তা বারবার গননা কর।"
আমাদের যার যে সম্পদ আছে তা থেকেই দান করার নির্দেশনা দিয়ে সুরা বাকারার ৩নং আয়াতে আল্লাহু বলেন," ঐ খোদাভীরুগণ এমন যে, বিশ্বাস স্থাপন করে অদৃশ্য বস্তুসমূহের প্রতি এবং নামাজ কায়েম করে আর আমি তাদেরকে যা দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।"
দান বা সদকায় রয়েছে বহুবিধ উপকারিতা ও অর্থনৈতিক,সামাজিক ও ধর্মীয় ফজিলত। আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ২৭১ নং আয়াতে বলেন, 'যদি তোমরা দান প্রকাশ্যে করো, তবে তা উত্তম; আর যদি তা গোপনে করো এবং অভাবীদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য শ্রেয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের মন্দগুলো মোচন করে দেবেন। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা অবগত আছেন।
আসুন আমরা আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে দান করি নিকট আত্মীয় ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা অসহায়-দরিদ্র তাদের সাহায্য করি।
রমজান মাসে দান করলে সওয়াব বহুগুন বৃদ্ধি পায়। আসুন এই পবিত্র মাসে দানের পরিমাণ বৃদ্ধি করি এবং সম্পদের যাকাত প্রদান করি। সঠিকভাবে যাকাত প্রদান করলে সম্পদ কমে না বরং বৃদ্ধি পায়। কারণ যাকাত দিলে সম্পদ পবিত্র হয় আর পবিত্র সম্পদে আল্লাহ বরকত দান করেন।
ধনীদের সম্পদে থাকে গরিবের অধিকার এবং যাকাত প্রদানের মাধ্যমে গরিবের হক আদায় করা হয়। সঠিকভাবে যাকাত প্রদান করলে সমাজের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা হ্রাস পায় এবং ধীরে ধীরে ধনী-গরীবের বৈষম্য দৃর হয়।
আসুন আমরা সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা গড়তে এবং আখিরাতের পাথেও যোগাড় করতে সাধ্যমত দান সদকা করি, সম্পদের যাকাত দেই। নিজে সৎকর্ম করি এবং অপরকে সৎকাজের পরামর্শ দেই। আল্লাহ্ আমাদের ভালো কাজ করার তৌফিক দিন। আমিন।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০২১ সকাল ১০:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




