somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাক্তারী পেশা হতে পারে জনসেবার এক উত্তম আদর্শ

১৬ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পেশাগত জীবনে ডাক্তারী এক মহান পেশা এবং জনসেবার এক উত্তম আদর্শ। অনেকেরই ছাত্রজীবনে স্বপ্ন থাকে কর্মজীবনে ডাক্তার হওয়ার আবার অনেকের স্বপ্ন থাকে ছেলে-মেয়ে কে ডাক্তার বানাবে। এই উদ্দেশ্য নিঃসন্দেহে মহৎ যদি ডাক্তার হয় মানবিক ডাক্তার যার ব্রত হবে মানুষের সেবা। আবার অনেকে প্রকাশ্যে যাই বলুক মনে মনে নিজেকে টাকা কামানোর মেশিন হিসেবে ডাক্তার হতে চায় যা খুবই অমানবিক। তাই আমাদের চাওয়া যে সবাই মানুষ হোক।
ডাক্তারগণ সামাজিকভাবে উচ্চ স্থানে অবস্থান করেন। প্রতিটি মানুষ তাদের হ্রদয়ের মণিকোঠায় ডাক্তারদের অবস্থান দেন। অসুস্থ্য রোগী জানেন ডাক্তার তার সবচেয়ে দরদী লোক। অনেকে আবার বলে বসেন, উপরে আল্লাহ নিচে ডাক্তার। কতই না মর্যাদা দেওয়া হয় ডাক্তারদের। কিন্তু আজ কাল ডাক্তারগণ তাদের মর্যাদা সংরক্ষনে কতটা দায়িত্বশীল?

ডাক্তার কেঃ ডাক্তার হচ্ছেন এমন এক ব্যক্তি যিনি পেশাগত ডিগ্রী এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষের আচরণ ও শারিরীক বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন উপসর্গ অনুধাবন করে তার শরীরের রোগ ও অসুস্থতার কারন নির্ধারণ করে থাকেন। কোন রোগের জন্য কি ওষধ এবং তার ব্যবহারে মাত্রা কি তা ওষধ কোম্পানীগুলো ফার্মাসিস্টদের মাধ্যমে নির্ধারন করে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিভদের মাধ্যমে ডাক্তারদের নিকট হালনাগাদ তথ্য প্রেরণ করে থাকে। তাহলে ডাক্তারদের মূল দায়িত্ব হলো রোগ নির্ধারণ করা। পেশাগত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও রোগীদের সংস্পর্সে এসে সুচারুভাবে রোগ নির্ধারন করাই ডাক্তারে মূল পেশা। এ কাজে অধিকতর পারদর্শীতার জন্য উচ্চতর ডিগ্রী বা বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সহযোগিতা নিতে পারেন কিন্তু নিজের মূল দায়িত্বকে পাশ কাটিয়ে নয়।

আধুনিক কালে প্রযুক্তির উৎকর্ষে , উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও আধুনিক রোগনির্ণায়ক যন্ত্রপাতির বদৌলদতে অভিজ্ঞ না হয়ে হচ্ছে আনাড়ী ডাক্তার বা হাতুড়ে ডাক্তার। আগে যেখানে রোগীর নাড়ী দেখে (পালস দেখে),চোখ ও জিহবার রং দেখে রোগীর সাথে কথা বলে রোগ ধরে ফেলতেন বর্তমানের ডাক্তারগণ তার ধারের কাছেও নেই। রোগী তার চেম্বারে আসলে অভিজ্ঞাতাকে কাজে না লাগিয়ে ( অভিজ্ঞ হওয়ার চেষ্টাও করে না) বিভিন্ন টেস্ট করার জন্য তাদের নির্ধারীত ডায়াগোনেস্টিক সেন্টার ( যেখান থেকে সকল ধরনের টেস্ট এর কমিশন নিয়ে থাকেন) এ পাঠিয়ে দেন। রোগ নির্ধারণ বা রোগীকে ভালো মন্দ পরামর্শ না দিয়ে নিজের কমিশন আদায়ের রাস্তা উন্মুক্ত করে রোগীর নিকট থেকে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের ফি। পরবর্তীতে ফি নিয়ে রিপোর্ট দেখে রোগ নির্ধারণ করে (অনেক সময় ভুল হয়) ওষধ কোম্পানীর ফর্মুলা মোতাবেক (উৎকোচের বিনিময়ে) প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রয়োজনীয়/অতিরিক্ত ওষধের একটা তালিকা রোগীর হাতে তুলে দেন। এই সেবা ডাক্তারে নিকট থেকে রোগী কখনো আশা করে না। অথচ রিপোর্ট দেখে রোগ নির্ণয় করতে প্যারামেডিকেলের ছাত্র বা ডায়াগোনেস্টিক সেন্টারের টেকনিশিয়ানই যথেষ্ট পারদর্শী। আর নির্ধারিত রোগের জন্য কোন ওষধ কতটুকু সেবন করতে হবে তার পরামর্শের জন্য মেডিকেল রিপ্রেজেনটিভই যথেষ্ট।
দুই চারজন ভালো ডাক্তার বা অভিজ্ঞ ডাক্তার যে নাই তা বলব না। ব্যতিক্রম কখনও উদাহরণ হতে পারে না।
বর্তমান সময়ে ডাক্তারগণ যথেষ্ট অমানবিক। রোগী মৃতশয্যায় কিন্তু অগ্রিম টাকা না দিলে অপারেশন করবে না এটা যে ডাক্তারদের ধর্ম । রোগী মারা গেলেও তাদের সিদ্ধান্তের কোন পরিবর্তন নেই। আবার মৃত রোগী হাসপাতালে আটকে রেখে বিল আদায়, মরার খবর স্বজনকে না জানিয়ে আইসিইউ এর বিল বাড়ানো হাসপাতাল ব্যবসার একটা অংশ হয়ে দাড়িয়েছে।
অন্য পেশার অসৎ লোকজন হয়তো আপনার পকেটের টাকা নিজের করে নিতে পারে কিন্তু একজন ডাক্তার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে আপনার ভিটে-মাটি বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিতে ওস্তাদ।
এটা কোন ডাক্তার বিদ্বেষী কথা নয়। কিছু সত্য কথা তুলে ধরার চেষ্টা । এই কথাগুলোর সত্যতা যাচাই করতে পত্র-পত্রিকা বা টেলিভিশনের রিপোর্টগুলো দেখুন। ডাক্তারদের নিয়ে নচিকেতার গানটি শুনুন। কলকাতার বাংলা সিনেমা “জীবন নিয়ে খেলা” দেখলে বুঝতে পারবেন বর্তমান সময়ের ডাক্তারদের আসল চেহারা।

ডাক্তারদের নিয়ে নচিকেতার বিখ্যাত গান

ও ডাক্তার, ও ডাক্তার
ও ডাক্তার, ও ডাক্তার
তুমি কতশত পাস করে
এসেছ বিলেত ঘুরে
মানুষের যন্ত্রণা ভোলাতে
ও ডাক্তার, ও ডাক্তার
তোমার এম.বি.বি.এস না না এফ.আর.সি.এস
বোধহয় এ টু জেড ডিগ্রী ঝোলাতে
ও ডাক্তার, ও ডাক্তার
ডাক্তার মানে সে তো মানুষ নয়
আমাদের চোখে সে তো ভগবান
কসাই আর ডাক্তার একইতো নয়
কিন্তু দুটোই আজ প্রফেশান
কসাই জবাই করে প্রকাশ্য দিবালোকে
তোমার আছে ক্লিনিক আর চেম্বার
ও ডাক্তার, ও ডাক্তার
ডাক্তার চাইবেন রক্ত রিপোর্ট
ক্লিনিকের সন্ধানও তিনিই দেবেন
একশত টাকা যদি ক্লিনিকের বিল হয়
অর্ধেক দালালী তিনিই নেবেন
রোগীরা তো রোগী নয় খদ্দের এখন
খদ্দের পাঠালেই কমিশান
ক্লিনিক আর ডাক্তার কী টুপি পড়াচ্ছে
বুঝছেনা গর্দভ জনগণ
কসাই জবাই করে প্রকাশ্য দিবালোকে
ওদের আছে ক্লিনিক আর চেম্বার
ও ডাক্তার, ও ডাক্তার
নিজেদের ডাক্তার বল কেন?
তার চেয়ে বল নাকো ব্ল্যাকমেলার
রোগীর আত্মীয়দের ঘটি বাটি চাটি করে
করো সুযোগের সৎব্যবহার
সরকারী হাসপাতালের পরিবেশ
আসলে তো তোমরাই করেছো শেষ
হাসপাতাল না থাকলে জনগণ
নার্সিং হোম এ যাবে অবশেষ
সেখানে জবাই হবে উপড়ি কামাই হবে
মানুষের সেবার কি দরকার
ও ডাক্তার... ও ডাক্তার...
বাঁচানোর ক্ষমতা তো তোমারই হাতে
তুমি যদি মারো তবে কোথা যাই
অসহায় মানুষের তুমিই তো সবকিছু
করোজরে নিবেদন করছি তাই
তোমার গৃহিনী যে গয়না পড়েন
দেখেছো কি তাতে কতো রক্ত
তোমার ছেলের চোখে দেখেছো কি
কতো ঘৃনা জমা অঃভক্ত
তোমারও অসুক হবে, তোমারি দেখানো পথে
যদি তোমাকেই দেখে কোনো ডাক্তার

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মে, ২০২১ বিকাল ৩:১৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কত ভেবেছি, আমাদের একদিন দেখা হবেই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৯

কত ভেবেছি,
আমাদের একদিন দেখা হবেই।
হয়তো হঠাৎ সামনে এসে
আমাকে চমকে দেবে।
হায়,
ওরা কেন জানালো,
পৃথিবীতে
তুমি আর বেঁচে নেই!

কত ভেবেছি,
চলতে চলতে পথে
সামনে একটা রিকশা থেমে যাবে।
কী মোহন ভঙ্গিমায়
রাজাসনে বসে আছো তুমি,
রোদে ভেজা মুখ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পি ভি নরসিমা রাও - ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের জনক

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৪৩



পি ভি নরসিমা রাও ১৯৯১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৎকালীন ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যে ঐতিহাসিক সংস্কারনীতি গ্রহণ করেন, তা "এলপিজি সংস্কার" (LPG Reforms - Liberalisation,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×