somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দীপাবলী-০৬

২৫ শে নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১২:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকাল দীপাবলীর উপর শারিরীক ও মানসিক যে চাপ গেছে তাতে করে সে এখনো ক্লান্ত। ঠাকুর মার কথা ভেবে ভেবে সারারাত ঘুমাতে পারেনি। যে ঠাকুর মা ছোট বেলা থেকেই তাকে আগলে রেখেছিলে সে একা করে দিয়ে চলে গেলো পরপারে। এটাই জীবনের নিয়ম। জীবনের নিয়মে একাকিত্ব দূর করতে যার সাথে জুটিবদ্ধ হলো সে ও এখন অনেক দূরে। শুধু শহরের দূরত্ব নয় মনের দূরত্বও অনেক। সকলের একই কথা দূরত্ব কমিয়ে কাছে থাকাই জীবনের স্বার্থকতা। কালজয়ী কথা সাহিত্যিক শরৎ চন্দ্র চট্টপাধ্যায় গভীর জীবন বোধ থেকে বলেছেন, “ বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না দূরেও ঠেলে দেয়”। আবার জীবন যুদ্ধের অভিজ্ঞ সৈনিকেরা বলে থাকেন, ‘‘ মাঝে মাঝে প্রিয়জনকে ছেড়ে দূরে থাকলে ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্কের উন্নয়ন ঘট”। তবে যে শিক্ষা মানুষের জীবনকে স্বার্থক না করে অহংকার ও স্বেচ্চাচারিতার মাধ্যমে কাছের মানুষ থেকে দূরে রাখে তাকে সুশিক্ষা বলার যুক্তি নাই। নারীদের চাকরি তাদের স্বাবলম্বী করার থেকে সমাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করে একাকীত্বকে উৎসাহিত করে, যার করুণ পরিনতি দেখা দেয় বৃদ্ধাবয়সে।

অফিসে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে দীপাবলী দুদিন বাসায় থাকবে। মানসিভাবে সুস্থ্য হতে একটু বিশ্রামের প্রয়োজন আছে।
শরীর দূর্বল হলেও খাবার খেতে মন চাইছিলো না তাই দোতলার বউদি এসে কিছু খাবার খাইয়ে দিয়েছে। এখন বিছানায় শুয়ে ভাবছে, একাকী থাকা যে কতো কঠিন তা একাকী না হলে অনুধাবন করা যায় না। গুণীজনে বলে গেছেন,“ অসৎ সঙ্গীর চেয়ে একাকীত্ব ভালো আর একাকীত্বের চেয়ে সৎ সঙ্গী ভালো”। অনন্ত তো একজন সৎ সঙ্গী। সে আমার একাকীত্ব দূর করতে ভালোবেসে কাছে এসেছিলো। এই সময় আমার পাশে থাকলে আমার বোঝাটা হালকা হয়ে যেত। ছোট ছোট কিছু ভুল বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে অভিমান করে চাকরিকে গুরুত্ব দিয়ে অনন্তকে দূরে ঠেলে ভুল করেছি।

ঠাকুর মার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ছোট বেলার বন্ধু খোকন ছুটে এসেছে দীপাবলীর বাসায়। ট্যাক্সী চালক খোকন যাত্রী নিয়ে চা বাগানে গিয়েছিলো সেখান থেকে ঠাকুর মার পরোলোক গমনের খবর জানতে পেরে সকালের ট্রেনে ছুটে আসে বন্ধুর বিপদে পাশে দাড়াতে। বারান্দায় উদাস মনে বসে আছে দীপাবলী। তাই দেখে খোকন বলে উঠলো
একাকী এই বৈরাজ্ঞ সাধনের দরকার কি আছে?
আমাকে কি করতে বলিস?
তুই অনন্তে এর কাছে ফিরে যা। সে তোর জীবনসঙ্গী, ভবনদী পার করার জীবন তরী।
তা কি করে হয়? আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি । তার ডাকে সাড়া না দিয়ে ক্যারিয়ারের পিছনে ছুটে চলছি।
সময় গেলে সাধন হবে না। সময় থাকতে সংসারী হও।
চাকরি আর সংসার এক সাথে করা খুব চ্যালেঞ্জিং।
শোন দীপা যে রাধে সে চুলও বাধে।
সংসারের টানাপোড়ন আর ভালো লাগে না।
সংসার সুখের হয় রমনীর গুনে, এ কথা সত্যি করবি তোর জীবনে।
আমার কথা রাখ, তোর মা ও বৌ ভাল আছে?
হ্যা সবাই ভালো আছে, বউয়ের ভালোবাসায় মা অনেক পাল্টে গিয়েছে। আমার কথা বাদ দে। তুই এখন কি করবি বল?
আজ কাল দুদিন অফিসে যাবো না। তোর সাথে বসে ছোট বেলার গল্প করবো।
ঠিক আছে আমার সাথে না হয় ছোট বেলার গল্প করলি কিন্তু বড় বেলার গল্প করতে তো অনন্ত এর কাছে যাওয়া উচিৎ।
তোর প্রস্তাবটা ভেবে দেখবো

বাঙালী এখন আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দূর্বার গতিতে। তাইতো প্রয়োজনে কেউ কাউকে পাশে পাচ্ছে না। পশ্চিমা বিশ্ব যেখানে বাঙালীর পারিবারিক বন্ধনের প্রশংসায় ব্যস্ত তখন বঙ্গ সন্তানেরা পশ্চিমার খারাপ নিদর্শন গ্রহণ করে ডিভোর্স দিয়ে একা একা থাকতে পছন্দ করা শুরু করছে।
বাঙালীর পারিবারিক ও সামাজিক সম্প্রীতি দিন দিন কমে যাচ্ছে। এখন একমাত্র বিয়ে-শাদী ও কারো মৃত্যু ছাড়া আত্মীয় স্বজনের দেখা পাওয়া যায় না। দীপবলীর আত্মীয়-স্বজন নেই বললেই চলে। কয়েকজন সহপাঠী, হোস্টেল মেট ও অফিস কলিগ এসে সান্তনা দিয়ে গেলে। সকল সান্তনা বাক্যের মধ্যে একটা কথা সবাই বলার চেষ্টা করেছে যে, একা না থেকে অনন্ত এর নিকট গিয়ে থাকলে মঙ্গল হবে।

দীপাবলী Click This Link
দীপাবলী-০১ Click This Link
দীপাবলী-০২ Click This Link
দীপাবলী-০৩ Click This Link
দীপাবলী-০৪ Click This Link
দীপাবলী-০৫ Click This Link



সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১২:৫১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×