somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দীপাবলী-০১

০৩ রা নভেম্বর, ২০২৪ বিকাল ৫:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে আলো প্রবেশ করায় সকাল ছয়টার দিকে ঘুম ভেঙ্গে গেলো দীপাবলীর। ঠাকুর মা তখন ঘুমে মশগুল। ঘুমোবে না কেন তার তো এখন অফুরন্ত সময়। জেগে থাকলে সময় কাটতেই চায় না। সারাজীবন কষ্ট করে নাতির বদৌলতে জীবনের শেষ বয়সে একটুখানী সুখের নাগাল পেলেন অশীতিপর বৃদ্ধা। বিছানা ছেড়ে বারান্দায় দাড়িয়ে কিছু সময় নির্মল হাওয়ায় দাড়িয়ে রইলো। সকাল বেলার হাওয়া যেন হাজার টাকার দাওয়া। অতপর হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘরদুয়ার পরিস্কার করে সকালের নাস্তা তৈরিতে মনোযোগ দিলো দীপাবলী।
সবজি রুটিই সকালের জন্য উত্তম রাস্তা। সাথে ডিম মামলেট হলে তো কথাই নাই। ঢেঁড়শ ভাজি ও কিছু রুটি বানিয়ে খাবার টেবিলে রেখে গোছল করতে বাথরুমে গেলে দীপাবলী। গোছল শেষ করে দেখে ঠাকুর মা ঘুম থেকে উঠেছেন।
ঠাকুর মা হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেস হয়ে নাস্তার টেবিলে আস একসঙ্গে নাস্তা করি।
তুমি শুরু করো আমি আসছি।
নাস্তা করতে করতে ঠাকুর মা জিজ্ঞেস করে, অনন্ত কি গতকাল রাতেই চট্টগ্রাম চলে গেছে? যদি ঢাকায় থাকে তবে অফিসে গিয়ে ফোন করে বাসায় আসতে বলবি।
তার বাসায় আসার কি দরকার?
তোর দরকার না থাকতে পারে আমার আছে। নাত জামাই ঢাকায় আসবে আর আমার সাথে দেখা করে যাবে না তা কি হয়?
ইশ! নিজের জামাইকে দূর দূর করে তাড়িয়ে এখন নাত জামাইকে বাসায় দাওয়াত করতে চাও?
অতো কথা বলিশ না। তোর দাদা মশাইয়ের একটা ভুলের কারনে আমি একটা ভুল করে বিধবা সেজে সারা জীবন পস্তাইলাম। আমি চাই না তুই ভুল আমার মতো একাকিত্বের কষ্ট নিয়ে সোনার জীবন অঙ্গার করে দে।
আমি একা কোথায় তুমি আছো না?
আমি আর কতোদিন? তারপর একাকীত্বের ভর বইতে পারবি?
দীপাবলী কথা না বাড়িয়ে নাস্তা শেষ করে অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ঠাকুর মা আমি যাচ্ছি তুমি সাবধানে থেকো আর কাজের বুয়া এলে তাকে ঘরটা মুছতে এবং নোংড়া কাপরগুলো ধুতে বলবে।
আচ্ছ ঠিক আছে, আমার কথা মনে রাখিস, অফিসে পৌছে ফোন করে অনন্ত এর খোজ নিস।
আচ্ছা দেখা যাক।
কিছুটা পায়ে হেটে বাসস্ট্যান্ডে পৌছালো দীপাবলী। অফিসগামী বাসে উঠে নির্ধারিত ছিটে বসে ভাবতে লাগলো, এইভাবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ ও অফিসের ব্যস্তার কারনে ব্যক্তিগত জীবনে একাকী থাকার স্বার্থকতা কতটুকু।

চা-বাগানের কোয়ার্টারে জীবনের শৈশব কেটেছে একটা ঘোরের মধ্যে। পরিবারের আর্থিক সংকট ও সদস্যদের মাঝে দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন না থাকা দীপাবলীর জীবনে একটা গভীর প্রভাব ফেলেছে। ছোট বেলা থেকে স্বেচ্ছায় বৈধব্যবরণকিারিনী ঠাকুর মা সাথে থাকতে থাকতে জীবনের ফল্গুধারায় অবগাহনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। একটু বড় হয়ে হোস্টেলে থেকে পড়ালেখা করতে গিয়ে একাকী থাকতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আবার বাম ঘরনার রাজনৈতিক কর্মীদের সাথে উঠাবসা, নাটক-সিনেমা কর্মীদের মূক্ত জীবন কাছ থেকে দেখা জীবনের একটা দিক তার নিকট বেশি বেশি ধরা দিয়েছে। আর তা হলো মুক্ত বিহঙ্গের মতো স্বাধীনভাবে আকাশে বিচরণ তথা সংসারের বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে পশ্চিমা সাংস্কৃতির ধারায় জীবন যাপনে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্য সংক্রামক নয় রোগই সংক্রামক এই প্রবাদ বঙালী তাদের কাজের মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করে। ভালো মানুষ বা ভালো মানুষের সংস্পর্শে এসে তাদের ভালো বৈশিষ্ট্যগুলো ধারন না করে খারাপ আচরণগুলো আয়ত্ব করছে।

ভার্সিটিতে পড়ার সময় দীপাবলীর সাথে এক নারী নেত্রীর সাথে পরিচয় ছিলো যে সারাজীবন স্বামী সংসার বাদ দিয়ে একাকী থাকার পক্ষে মত দিয়ে গেছেনে তিনি মাঝ বয়সে এসে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। তাই সময়ের সাথে সব কিছু পরিবর্তনশীল । ইতিবাচক পরিবর্তনের সাথে সবাইকে মানিয়ে নেওয়াই সবার কর্তব্য।

দীপাবলীর কাছের বান্ধবী মায়া জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈনিক। আধুনিক জীবনে অব্যস্ত হয়ে একাকী থাকতে পছন্দ করতে শুরু করে অবশেষে বাস্তবতার সাথে তালমিলাতে না পেরে হাপিয়ে ওঠে। সর্বশেষ দার্জিলিং এর পাহাড়ের পাদদেশে অভিনয়ের ফাঁকে খাদে ঝাঁপ দিয়ে আত্মা হত্যা করে ইহকালীন জীবন যন্ত্রনা থেকে মুক্ত হয়ে নীল আকাশের তারা হয়ে যায়। এটাই জীবনের নির্মম বাস্তবতা।




চলবে.....।


সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০২৪ বিকাল ৩:০৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×