somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাবধান, এই ফলগুলো খাওয়ার আগে সচেতন হোন।

০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin নামের এক পদার্থ যা রোজাসিয়া গোত্রের উদ্ভিদের বীজে থাকে৷ খটকা সব বৈজ্ঞানিক নাম দিয়ে লেখাকে মাথার উপর দিয়ে নিয়ে যাব এমন লেখক আমি হয়ে উঠতে পারিনি, অতএব, ভয় নেই, পড়ুন।

আপেলের বীজে যে এ্যামিগডেলিন আছে, তা পেটে গিয়ে হাইড্রোজেন সায়নাইড তৈরি করে যা বিষেরই অপর নাম। রোজাসিয়া, মানে গোলাপ গোত্রের সব উদ্ভিদের বীজেই এই এমিগড্যালিন আছে। এই গোলাপ পরিবারে পাঁচ হাজারেরও বেশি উদ্ভিদ আছে, যার মধ্যে আপেল, নাশপাতি, খুরমানি, কাঠবাদাম, আলুবোখারা, স্ট্রবেরি, চেরি প্রভৃতি ফল অন্তর্ভূক্ত, যা আমরা হরহামেশাই খাই। মানে দাঁড়াচ্ছে, এদের যেকোনটার বীজেই এমিগডেলিন আছে, যা পেটে গিয়ে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। তবে ব্যাপারটা হল, এই বীজ অল্প মাত্রায় পেটে গেলে সরাসরি ক্ষতি হয় না, পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে আশঙ্কা আছে। যেমন স্ট্রবেরি ও লিচু দুটো ফলই অধিক খাওয়ার দরুন এদেশে দুই বার বেশ সারা জাগানো প্রাণহানির নিউজ পাওয়া গেছে। আরেকটি কথা প্রসঙ্গত বলতে হচ্ছে যে, এসব বীজ খোলসসহ খেলে অর্থাৎ চিবিয়ে না খেলে খুব একটা সমস্যা হয় না। কিন্তু খাওয়ার সময় চিবানো হচ্ছে না এই নিশ্চয়তা তো দেওয়া কঠিন। এছাড়া ট্রবেরির মত ফলের তো বিচি আলাদা করে বেছে খাওয়া সম্ভবও হয় না।

আশা করছি আপেলগোত্রের বীজের বিষক্রিয়া সংক্রান্ত মূল ব্যাপারটা বোঝাতে পেরেছি।
এই তালিকায় কী কী ফলের বীজ আছে তার আরেকটা রিভিউ দেই—

১. আপেল
২. নাশপাতি (পিয়ার/এ্যাপ্রিকট)
৩. চেরি (এর বীজ চিবিয়ে না খেলে তেমন সমস্যা হয় না)
৪. কাঠবাদাম(তিতা কাঠবাদাম) মিষ্টি কাঠবাদামে সামান্য পরিমাণে থাকে, তাই খাওয়া যায়, তবে অনেক বেশি খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে কাঠবাদাম একবারে দুইটির বেশি না দেওয়াই উচিত।
৫. আলুবোখারা
৬. পীচ (এর বীজ সবচাইতে মারাত্মক, বাংলাদেশে পীচ ফল কেমন জনপ্রিয় তা আমার জানা নেই।)
৭. ব্ল্যাকবেরি, ওয়াইল্ড বেরি, যাবতীয় বেরি এক্সেপ্ট কালোজাম। কালোজামের বীজ মোটামুটি নিরাপদ, তবে রেজিস্টার্ড কবিরাজ বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া না খাওয়াই বেটার। অন্যকোনো জামের বীজ ভুল করেও খাওয়া যাবে না।

এই গোত্রের বাইরে ঝুঁকিপূর্ণ আরো কিছু ফল আছে, যাদের বীজে এ্যামিগডেলিন না থাকলেও অন্য কিছু উপাদান আছে যা একই রকম ভয়ানক। যেমন—

১. লিচু: লিচু খেতে সুস্বাদু হলেও এই ফলে ভিন্ন রকমের ঝুঁকি থাকে যা কেবল কাঁচা ও আধপাকা লিচুর বেলায় থাকে। পাকা লিচুর মাংসে বিষাক্ত উপাদান থাকে না। উপাদানটির নাম হাইপোগ্লাইসিন, এসব খটকা নাম বলে বিব্রত না করি। পাকা লিচুতে সমস্যা হয় না। কিন্তু পাকা লিচু আমরা ঠিকঠাক চিনব না এটাই স্বাভাবিক। লিচুর মত অবিকল আরেকটি ফল আছে রামবুটান নামে। এই দুই ফলের বীজই ভয়ানক ক্ষতিকর। খেয়াল রাখতে হবে বাচ্চা যেন লিচু বা রামবুটান খাওয়ার সময় কোনভাবেই বীজ না চাবায়।

২. আতা ফল, শরীফা ফল, নোনা ফল: এই ফলগুলো খাওয়া ভালো, কিন্তু এর বীজে আছে শক্তিশালী স্নায়ুবিষ (নিউরোটক্সিন)। অধিক পরিমাণে এর বীজ খেলে পেট খারাপ হয়, স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া আতাফলের বীজ চোখে লাগলে অন্ধ হয়ে যাবার ঝুঁকি থাকে।

৩. কামরাঙ্গা ফল: কয়েক বছর আগেই সম্ভবত কোন একটা ডাক্তারের ইন্টারভিউতে বলা হয়েছিল এই ফলটাকে এদেশে নিষিদ্ধ করা উচিত। এই ফল ও এর বীজ কিডনির তীব্র ক্ষতি করে। এটি মস্তিষ্কে খিঁচুনি ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

৪. প্যাশন ফ্রুট বা ট্যাং ফল: এই জিনিস কক্সবাজারে বেশ দাম দিয়ে বিক্রি হয়। একজন খেতে চেয়েছিলেন, তখন ম্যানেজ করে দিতে পারি নাই। পরে দেখলাম, না দিয়েই বরং ভালো করেছি। রোজাসিয়া গোত্রের যে প্রধান বিষাক্ত উপাদান, সেই সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড এই ফলে সরাসরি আছে। এই ফল পাকা অবস্থায় খাওয়া মোটামুটি নিরাপদ কিন্তু কাঁচা বা আধপাকা খেলে এটি পেটে তীব্র বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। এখন কাঁচা পাকার তফাৎ তো আমরা বুঝব না স্বাভাবিক।
রোজাসিয়া প্রসঙ্গে আবার একটু বলি, গোলাপের বীজও এই সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড ধারন করে। তবে গোলাপের পরিপক্ব পাপড়ি দিয়ে চা বানিয়ে খাওয়াটা নিরাপদ বলেই স্বীকৃত।

৫. কাঁচা কাজু বাদাম: গাছ থেকে সরাসরি তোলা কাজুবাদাম বিষাক্ত হয়। এটি ত্বকে মারাত্মক এলার্জি ও চর্মরোগ সৃষ্টি করে এবং পেটে গেলে বিষক্রিয়া ঘটায়। আমরা যে কাজু বাদাম বাজার হতে কিনে খাই, তা উচ্চ তাপে প্রোসেস করা বিধায় এর মধ্যে ক্ষতিকারক উপাদান উরুশিওল নষ্ট হয়ে যায় এবং ভক্ষণীয় হয়। বাড়তি সচেতনতা হিসেবে আপনিও এটিকে খাবার আগে ভেজে নিতে পারেন।

৬. ডালিম/ আনার/ বেদানা:ডালিম নিরাপদ, পথ্য হিসেবে উচ্চতর স্বাস্থ্যকর বিবেচনা করা হয়। তবে ডালিমের খোসা কিন্তু বিপজ্জনক ও বিষাক্ত। এটি কোনভাবেই খাওয়া যাবে না। মুখে লাগলেই ক্ষতি হয়ে যাবে এমন নয়, তবে আমরা অনেকেই ডালিমের দানা সরাসরি কামড়ে মুখে নিতে চেষ্টা করে থাকি, এজন্যই সতর্কতা।

৭. চীনাবাদাম: চীনাবাদাম ত্বকের সজীবতা বাড়ায় বলা হয়। কিন্তু এটা বলা হয় না যে এটি বিশ্বের প্রধানতম এলার্জিক খাবারের একটি। এলার্জি না থাকলে খাবারটি বেশ নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর।
কিন্তু সমস্যা অন্যখানে, আমরা চীনাবাদাম খাওয়ার সময় প্রায়ই যে পঁচা বাদাম পাই, তা ভীষণ ক্ষতিকর। বাদামে যে ছত্রাক হয় তা ক্যান্সার সৃষ্টি করে এবং লিভারের ক্ষতি করে।

৮. বাঁশকোরল: লেখা অনেক বড় করার জন্য দুঃখিত, এটা বলেই শেষ করি। বাঁশকোরল পাহাড়ি অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয় এবং তারই হাত ধরে এর চমৎকার স্বাদের কারণে দেশের ভেতরও ছড়িয়ে পড়েছে এই জনপ্রিয়তা। তবে মনে রাখার বিষয় হল, রোজাসিয়া গোত্রের না হলেও এর মধ্যে সায়ানোজেনিক গ্লাইকোসাইড ভালো পরিমাণেই আছে। ফলে কাঁচা তো খাওয়া যাবেই না, এটিকে সঠিক নিয়মে প্রোসেস করে তবেই রান্না করে খেতে হয়। নিয়মটি হল, কাঁচা বাঁশকোরল আট ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি ফেলে দিতে হয়, এরপর সেদ্ধ করে আরেকবার পানি ফেলে দিয়ে তারপর রান্না করতে হয়।

ধৈর্য নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৬
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×