somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পেছন ফিরে তাকাই

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ববিদ্যালয়ের আনন্দময় দিন গুলো ফুরিয়ে গেল,এখন একদিন একদিন করে দিন গননা শুরু হয়ে গেছে,কেউ বলে এইত কয়েক মাস মাত্র বাকি,কেউ বলে কয়েক দিন,বন্ধুদের কেউ আবার দিনক্ষণ ঠীক কোড়ে ফেলেছে কবে তল্পিতল্পা গুটাবে।সবার মাঝে যেন অস্থিরতা কবে এই সম্পর্ক চ্ছিন্ন করবে।কেউ বলে আর কত! পাচ বছর পেরিয়ে ছয় বছর হয়ে গেল এখনও তো বের হতেই পারলামনা।এত স্মৃতি ,এত আনন্দ,দুঃখ,হাসি অভিমান ভরা দিনগুলোর সাথে কি নির্মম আচরন করছি।আর আমার জন্য তো এসব কিছুই না,এরকম নিরমম আচরন আমি আরও করেছি,স্কুলের বন্ধু ,সময় ছেরেছি,কলেজ ,হোস্টেলের বন্ধু,সহপাঠীদের ছারতে আমার কষ্ট তেমন হয়নি,শুধু কষ্ট পেয়েছি পরে আমার অতীতচারী মন আমাকে কষ্ট দিয়েছে।তাই এখন ভয় পাই এই দিনগুলোর স্মৃতি আমার বন্ধুদের স্মরণ করিয়ে দেবে যারা হয়তো আমার জীবন থেকে হারিয়ে যাবে।


যখন স্কুল পেরিয়ে কলেজএ প্রথম পা রেখেছিলাম তখন বুঝতে পারিনি সবার থেকে ছিটকে যাচ্ছি,স্কুলএর কোন বন্ধুকে কলেযে সহপাঠী হিসেবে পাইনি,খুব মিস করলেও একসময় অভ্যস্ত হয়ে পরি কলেজের গন্ডীতে আর এখানেও অল্প সময়েই পেয়ে যাই একঝাক প্রানবন্ত বন্ধু যাদেরকে আমি এখন পর্যন্ত সবসময় মিস করি,ভীষণ মিস করি ।কেমন করে একজনের মনের অবস্থাটি সব বন্ধুরা টের পেয়ে যেত,কি করে একজনকে সবাই মিলে খুশি করতাম,একজনের পিছনে সবাই মিলে লেগে থাক্তাম,মিলি আর সোহেলি সারাক্ষণ লেগে থাকত,একজন আর একজনের উপর অভিমান করে থাকত,কেউ দেখে বুঝতে পারত না ওরা দুজন বেষ্ট ফ্রেন্ড,তনু আর সাবিনা এই ভাল ত এই লেগে গেল মারামারি,মারটা,চিমটিটা সাবিনাই বেশি খেত,সারাক্ষণ একসাথে থাকত ওরা।তামান্না,মৌসুমী,হৃদ্মিলা,খুকি,আস্মা,আমি,মিলি,সোহেলী,সাবিনা,তনু সবাই মিলে কত্তো মজা করেছি,আমার রুম মেট ছিল তুলি,মনি,রুপা,জুলেখা আপু আর কাওসার,ওদের নিইয়ে এত্ত স্মৃতি বলে শেষ করা যাবেনা,যখন ভাবতে থাকি নিজেই নিজের ভাবনা নিওন্ত্রন করতে পারিনা,সেলুলয়েডের পর্দার মত মনের পর্দায় চলতে থাকে।


একদিন আমি ,সাবিনা,তনু,তুলি,কাওসার রাত ১২ টা বাজে বসে গেলাম প্ল্যানচেট করতে,তনু আমাদেরকে বলল কিভাবে প্ল্যানচেট করতে হয়,রুপা আমাদেরকে নিষেধ করলেও আমরা প্ল্যানচেট করতে বসে গেলাম এবং রুপার সেদিনের পড়ার ১২ টা বাজিয়ে দিলাম।তারপর রাত ২টা বাজে আমরা সবাই নিজেদের ভীতুর ডীম প্রমান করে সেদিনের মত রুমের লাইট জ্বেলে রেখে দোয়া দরুদ পড়তে পড়তে ঘুমাতে গেলাম আর পরদিন সারাদিন রুপা আমাদের ডরপুক বলে ক্ষেপাতে লাগলো।
পরীক্ষার আগে মিলি আমাকে একটা চিঠিতে লিখেছিল 'আমার হাতে হাত রেখে প্রতিজ্ঞা কর টাইট্রেশনের যেমন শেষ বিন্দু থাকে তেমনি তোর জীবনের শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করে ছাড়বি।'
মিলি !আমার সেই চেষ্টা সফল না হলেও তোর সেই কথা আমাকে সারাজিবন কোন কাজে চেষ্টা করার প্রেরণা যোগাবে।আমি অনেক চেষ্টা করেছি তোকে খুজে পেতে,পাইনি!,আমাদের মাঝে প্রথম মোবাইল ফোন পেয়েছিলি তুই,তোর সাথে ্যোগাযোগ করা ছিল সবচেয়ে সহজ,আর সেই তুই সবার আগে গা ঢাকা দিলি।যে প্রতিজ্ঞা আমরা করেছিলাম তাতে তুইও সফল হসনি যদিও তোরই সফল হবার কথা ছিল কিন্তু তাই বলে এভাবে সবার কাছ থেকে হারিয়ে যেতে হয়?

তুলি,মনি,রুপা কাওসারের কাছ থেকে তোদের খোজ পাই মাঝে মাঝে,তোরা সবাই এখন অনেক ব্যাস্ত, তদের সবার মাঝে আমার রাগ ,অভিমান অনেক বেশী ছিল,আমিই তোদের অনেক দূরে ঠেলে দিএয়েছি,কিন্তু সত্যি এখনও এমনকি সবসময় তোদেরকে অনেক মিস করেছি,অনেক।ধর ,এখন সবার সাথে এখন আবার আমাদের দেখা হল আমাদের আগের মত সেই মুহুর্ত কী ফিরে আসবে?আগের মত কী সবাই আবার কলকল ঝলমল করে উঠতে পারবি?জানিনা,হয়তো পাড়ব ণা, কিন্তু তোদের যখন মিস করি বুকের কাছে কেমন ব্যাথা হয়,গলায় কী যেন আটকে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার প্রথম এবং সবচেয়ে কাছের বন্ধুডের সাথে চলে যাবার অনেক আগেই বিস্তর ব্যাবধান তৈরি হয়ে গেছে,কিন্তু এখনও সুতোর মত একটি অবলম্বন টীকে আছে তা এই ক্যাম্পাস,এই জন্যই তোদের সাথে দেখা হয় ,কথা হয়,আড্ডা হয় আর যখনি মনে হয় এই ক্যাম্পাস ছেড়ে আর কিছুদিন পর চলে যাব,তোদেরকে ছেড়ে চলে যাব তখনই সেই কষ্টটা হয় কারন আমি আবারও বারবার স্মৃতিতাড়িত হব,সেই একই কষ্ট বারবার ফিরে আসবে।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৩:৪০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×