somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নিয়াজ মোরশেদ (নিয়াজ)
জীবনটাই তো একটা ফিল্ম।রিল খতম তো সব শেষ। হা হা হা......

ছোট গল্প “গাড়ি”

১০ ই আগস্ট, ২০১২ ভোর ৪:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাস্তায় নামলেই হাজার হাজার গাড়ির ভির। মামুনের গাড়ির খুব শখ। এই শখ কোনদিন পূর্ণ হবে কিনা মামুন তা জানে না। একটি সুন্দর গাড়ি চোখে পড়লেই সে তাকিয়ে থাকে। আরও ভাল করে দেখার আশায় এগিয়ে যায়।
আড়ং এর পাশের একটি মাঠে গাড়ি বিক্রি হয়। সেখানে ঘুরতে ওর খুব ভাল লাগে। গাড়িগুলোকে খুব কাছ থেকে দেখা যায়, ছোঁয়া যায়, দামদর করা যায়। মামুনকে অবশ্য কেউ গাড়ির দাম বলেনা। ওকে দেখলেই বোঝা যায় ফকিরা পার্টি। যারা গাড়ি কিনতে আসে তাদের কাছে দাড়িয়ে গাড়ি বিষয়ক সমস্ত তথ্য গেলে ও। মামুন সব গাড়ির নামও ঠিক ঠাক ভাবে জানে না। কিন্তু দেখলে বুঝতে পারে কোনটা কেমন।
এত এত গাড়ি দেখে মামুন একটা মজার জিনিস আবিস্কার করেছে। সবথেকে দামি গাড়িগুলো বুড়োদের দখলে। গাড়ির মধ্যে বসে তারা গম্ভীর গলায় কথা বার্তা বলে, মিটিং ফিটিং করে। মামুনের খুব রাগ হয়। আরে গাধারা এত সুন্দর গাড়ি কি মিটিং আর গম্ভীরভাবে কথা বার্তা বলার জন্যে কিনেছিস? বাড়িতে যা। গিয়ে বউকে বল, “ বউ একটা লাল শাড়ি পরে আসো। আজ তোমাকে নিয়ে লং ড্রাইভে যাব। বাচ্চারা কই? তাদেরও ডাকো।”
মামুনের মন খারাপ হয়। আদৌ তার কি কখনো গাড়ি হবে? ইশ তার যদি একটা গাড়ি থাকত! নীলাকে নিয়ে গাড়ি চালাতে চালাতে সোজা গ্রামের দিকে চলে যেত। ধানক্ষেতের পাশে গাড়ি দাড় করিয়ে নিলার হাতে হাত রেখে সূর্য ডোবা দেখত। গাড়িতে নিশ্চয়ই ফ্লাক্স থাকত আর সেই ফ্লাক্সে চা। চা খেতে খেতে নীলা নিশ্চয়ই মজার মজার সব গল্প বলত। মেয়েটা এত সুন্দর করে কথা বলা কোথায় শিখেছে?
সন্ধার পর নিশ্চয়ই আকাশে ইয়া বড় একটা চাঁদ উঠত। আর নীলা কিন্নর কণ্ঠে গান জুড়ে দিত।
একটু রাত হলে ওরা ঢাকার দিকে ব্যাক করত। গাড়ির সাথে চাঁদটাও পাল্লা দিয়ে দৌড় লাগাত। নীলা নিশ্চয়ই বলত, “ দ্যাখো দ্যাখো। চাঁদটা আমাদের সাথে সাথে আসছে। আমাদের বসার রুমে কি ওর জায়গা হবে? আমারা চাঁদকে কি খতে দেব?”
মামুনের বুকটা হাহাকার করে ওঠে। নীলা কি আসলেই ওর মত একটা উজবুক বেকার ছেলেকে বিয়ে করবে?

ত্রিশ বছর পরের কথা।
নীলা মামুনকেই বিয়ে করেছে। ওদের দুটো ছেলে মেয়েও আছে। ছোট মেয়েটির বিয়ের কথা চলছে। মামুনের গাড়ির শখও পূর্ণ হয়েছে। যেন তেন গাড়ি না। রীতিমত দামি গাড়ি। কিন্তু মজার ব্যাপার হল নীলাকে নিয়ে তার কখনো গ্রামের দিকে লং ড্রাইভে যাওয়া হয় নি। চা খেতে খেতে সূর্য ডোবা দেখা হয় নি। চাঁদকে পাশে রেখে ঘরে ফেরা হয় নি।
নীলাকে নিয়ে হাসপাতালেই বেশি যেতে হয় ওর। বুড়ো হওয়ার সাথে সাথে দুনিয়ার রোগ শোক পেয়ে বসেছে নীলাকে। ফালতু সময় কোথায় নষ্ট করবার? মামুনকে এখন ভীষণ ব্যাস্ত থাকতে হয়। এতটাই ব্যাস্ত যে গাড়িতে বসেই গম্ভীরভাবে মিটিং করতে হয়।

মামুনের গাড়িটা দেখতে দেখতে একজন যুবক হেঁটে যাচ্ছে। তার নাম রাতুল। রাতুলের খুবই মেজাজ খারাপ। তার সারাদিন হাঁটতে হাঁটতে জান খারাপ অবস্থা । রাতুল মনে মনে ভাবছে, “ শালার দুনিয়া। এত সুন্দর সুন্দর গাড়ি, সব কেন বুড়োদের দখলে? এরা গাড়ির মধ্যে বসে শুধু গজ গজ করে। আহা! তার যদি একটা গাড়ি থাকত!”
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১২ দুপুর ১:৫৮
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×