বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার দরুন হটাৎ করেই মনে পড়লো নানু বাড়িতে বিদ্যুৎবিহীন সময়ের কথা,বিশেষ করে সন্ধ্যার সময়টার কথা।
গৃহস্থকন্যারা(আমার মেয়েগুলো) লণ্ঠন জ্বালিয়ে দিতো আর আমি এর সলতে ধরে উঠাতাম আর নামাতাম;ড্রইং রূম ডাইনিং রূম বলতে কোনও শব্দের প্রচলন ছিলোনা তখন।
ওরা বলতো সামনের ঘর,মাঝের ঘর, পাঁকের ঘর।
মাঝের ঘর থেকে নানু বলতেন ওই শয়তান কী আরম্ভ করেছিস?লণ্ঠনে হাত দিবিতো কান মলে দেবো বলে দিচ্ছি!
শৈশবের ভয়ানক সুন্দর দিনগুলো কাটিয়েছি নানু বাড়িতেই,মামাতো ভাই, খালাতো ভাইয়েরা ছিলো শয়তানের অস্থিমজ্জা।আমিও মাশাল্লাহ্ ইবলিশ ছিলাম একটা।
শতো হোক;সঙ্গ গুণে লোহা জলে ভাসেতো। :3
আমার ইবলিস মামাটির নাম সরোয়ার,নামের শুরুটাই শ দিয়ে,আর শয়তানের নামের আরম্ভ শ দিয়ে। :p এই হারামজাদা আর আমি এক হয়ে গেলে পৃথিবী বদলে যেতো!সবাই আতংকে থাকতো!
শয়তানি করতে করতে একবার পানিতে পড়ে গিয়েছিলাম।
এতো গভীর জল ছিলো ওখানে!আমাকে খোঁজে পাওয়া প্রায় দুরূহ ছিলো।
উপস্থিত ছিলেন হাজি সাহেবের নাতি
(এডভোকেট মাসুম) ভাই জীবন বাজি রেখে তুলে এনেছিলো।
একটুখানি বাঁচ-বিচারও ছিলোনা;যখন তখন যার তার রান্না ঘরে ঢুকে পড়তাম।
ছোটগুলোর মধ্যে বেসম্ভব প্রিয় ভাইটি ছিলো আল-আমিন।
ওদের ঘরেই বেশী সময় কাটাতাম।
এখন ওরা দেশের বাইরে।
বাড়িও খালি পড়ে আছে।
বিদ্যুৎ এসে গেছে,এসে গেছে ডিশ নামের মহা সংযোগও।
বিশ্ববিখ্যাত চ্যানেল ষ্টার জলসার উপর দিয়ে মাশাল্লাহ বাদার্সি(দখল) চলে :p
পাল্টে গেছে সবকিছু,কতদিন যাওয়া হয়না,কেন জানি যেতে ইচ্ছেও করেনা তেমন একটা।
আসলে দিন যতো যাচ্ছে ততোই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি,জীবন হারাচ্ছে তাঁর আবেদন।
স্বার্থের পেছনে ছুটে চলাটা আমাদের ধর্মে পরিনত হয়েছে।
আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম।
গ্রামের নওজোয়ান,হিন্দু মুসলমান।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


