ধর্মীয় অনুভূতি নিতান্তই বিশ্বাসের ব্যাপার এটা বিশ্বাস ছাড়া অন্য আর কিছুই নয়।
মানুষের বিশ্বাস এক যায়গায় স্থির নাও থাকতে পারে সেই জন্য মানুষ অনেকসময় ধর্মান্তরিত হয় এবং প্রচলিত আইনসমূহ বিশেষ করে বাংলাদেশের সর্বোচচ আইন,আমাদের সংবিধান এর সমর্থন দিয়েছে।
ধর্মীয় অনুভূতি ব্যাপারটা অতিমাত্রায় নাজুক,এতে আঘাত হানলে চট করে যুদ্ধের দামামা বেজে যেতে পারে এ বিষয়ে আইনি তর্কে যাওয়ার আগে অনেক ভাবা উচিৎ।
আমি মুসলমান এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো প্রভুকে বিশ্বাস করিনা।
আমার এই লেখা"এক ধর্ম থেকে অন্য ধর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার ব্যাপারে"
আমি কাউকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছিনা মুসলমান থেকে হিন্দু হতে।
যখন কেউ প্রশ্ন করে বসেন,মুসলমান থেকে হিন্দু হওয়া যায় কিনা?তাহলে বলতে বাধ্য"নির্দ্বিধায় যায়"
আমি আইনের ছাত্র,আইন একটা বিশ্লেষণমূলক বিষয় আর বিশ্লেষণ যদি করতেই হয় তবে সেটা অবশ্যই আইনের ভেতরে থেকে করতে হবে;আইনের বাইরে যেয়ে বিশ্লেষণ করার অধিকার আমার আপনার আমাদের কারুরই নেই।
ধর্মীয় স্বাধীনতা সাংবিধানিক অধিকার।
[বাংলাদেশ সংবিধান অনুচ্ছেদ ৪১(১)ক] যদি কেউ এরকম বলেন হিন্দু থেকে মুসলমান হওয়া যায় কিন্তু মুসলমান থেকে হিন্দু হওয়া যায়না সেটা হিন্দু ধর্মালম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত হানবে নিশ্চিত।
পৃথিবীর কোনো ধর্মই অনুমোদন দেবেনা ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য।
প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো ধর্ম প্রচার বা পালনের অধিকার সংবিধান দিয়েছে,
এক দিকে দিয়েছে প্রচারের অধিকার আরেক দিকে দিয়েছে পালনের অধিকার।
এটা কোথাও লেখা নেই যে মুসলমান থেকে হিন্দু হওয়া যাবেনা,যদি সেটা হতো তবে সেটা হয়ে যেতো বিচার যাই হউক তাল গাছ আমার।
এ বিষয়ে তর্ক করার সময় অনেকেই দেখান কুরআন-সুন্নাহর রেফারেন্স;যারাই এটা দেখান তাদের বলছি আপনি সেটা পারেননা,এই অনুমোদন আপনার নেই।
প্রচলিত আইনের বাইরে গিয়ে আপনি একটা
শব্দও বলতে পারেননা,আপনি পারেননা সংবিধানের বাইরে যেতে,যদি কিছু বলতেই হয় এ ব্যাপারে তাহলে অবশ্যই আপনাকে এমন রেফারেন্স দেখাতে হবে সংবিধান যেটাকে সমর্থন করে।
এফিডেভিট শব্দের অর্থ হলোও স্বজ্ঞানে কোনো কিছু স্বীকার করা অথবা মেনে নেয়া অথবা অঙ্গীকার করা,ফৌজদারী কার্যবিধি ধারা ৫৩৯ এ অঙ্গীকার এবং শপথের কথা বলা হয়েছে।
এই ধারার সকল বিধানাবলী মেনে যে কেউ এফিডেভিটের ম্যাধ্যমে ধর্মান্তরিত হতে পারবে এবং যেকোনো ধর্ম থেকে যেকোনো ধর্মে।
ধরি ক নামের এক ব্যাক্তি মুসলমান ছিলো একটা এফিডেভিটের ম্যাধ্যমে স্বেচ্ছায় হিন্দু হয়ে গেছে তখন ঐ ব্যাক্তির ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা বলতে হিন্দু ধর্মের উপর আঘাত হানাকে বোঝাবে,যদি ঐ ব্যাক্তিকে কেউ বিদ্বেষমূলক মনোভাব নিয়ে লিখিত অথবা কথিত শব্দাবলীর সাহায্যে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন অথবা ওর বর্তমান ধর্মে আঘাত হানার চেষ্টা করেন তাহলে দণ্ডবিধি ধারা ২৯৫ক অনুযায়ী যে ব্যাক্তি এরকমটা করবেন তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করবেন যা সশ্রম অথবা বিনাশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে যার মেয়াদ হতে পারে জরিমানা সহকারে সর্বোচচ দুই বছরের কারাদণ্ড।
যদি কেউ এরকম ভয় ভীতি প্রদর্শন করেন যে আপনিতো এখন মুরতাদ হয়ে গেছেন,এখন আপনার শাস্তি হবে কতল অথবা মৃত্যুদন্ড।
তাহলে যিনি এরূপ বলবেন তিনি দুইটা অপরাধ করবেন;একটা হচ্ছে দণ্ডবিধি ২৯৫ক এর অধীনে আরেকটা সংবিধান লঙ্ঘন।
ইসলাম এটা সমর্থন করেনা ইসলাম তখনই এই ধরনের কতলের বিধান সমর্থন করে যখন কোনো রাষ্ট্রব্যাবস্থায় পুরোটাতে ইসলামী শাসন ব্যাবস্থা কায়েম থাকবে।
বিঃদ্র: দয়া করে কেউ ত্যানা পেচাবেননা। যদি পারেন তবে প্রচলিত আইনের রেফারেন্স দেখিয়ে গঠনমূলক তর্কে লিপ্ত হবেন।
কুরআন হাদিসের রেফারেন্স দেখাবেননা কারণ এটা পুরোটাই প্রচলিত আইনের উপর ভিত্তি করে লেখা আর আমাদের দেশের আইন ব্যাবস্থায় প্রচলিত আইনটা প্রাধান্য পাবে নিশ্চয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

