একজন মানুষ যখন যে কোন উপায়ে আরেকজনের অনিষ্ট সাধন করে তখন তার পরিচয় হয়ে দাঁড়ায় অপরাধি হিসেবে;
এই অপরাধী কে দমন করার স্বার্থে আইন তখন এগিয়ে আসে,আইন বিজ্ঞান অনুসারে কাউকে শাস্তি দেয়ার মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে একজন অপরাধি যাতে বার বার অপরাধ করার সুযোগ না পায় সেটা নিশ্চিত করা;
আসলে এটা ধরে নেয়া হয়;যে মানুষটা একবার অনিষ্ট সাধন করে অপরাধীর তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছে সে যে আবারও অপরাধ করবেনা তার তো কোনো নিশ্চয়তা নেই তাছাড়া তাকে বোঝানো উচিৎ সে যে ভূল করেছে এর জন্য সমাজ শাস্তির ব্যাবস্থা করে রেখেছে।
শাস্তি দেয়ার আরেকটা উদ্দেশ্য হলো দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যাতে করে আরেকজন মানুষ অপরাধী হওয়ার আগে ভয় পায়।
একই অপরাধী যাতে আরেকটা অপরাধ সংগঠনে কোনোরূপ ভূমিকা পালন করতে না পারে সেটাও শাস্তি প্রদানের আরেকটা উদ্দেশ্য,
আইন যে শাস্তি গুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে তন্মধ্যে দুইটা খুব বেশী দৃষ্টান্তমূলক একটা মৃত্যু দন্ড অপরটা কারাদণ্ড যা সশ্রম অশ্রম দুইটাই হতে পারে।
আমার দাবী সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে যে ধরনের কাজ করানো হয় সেগুলো হউক লাভ জনক।
এরকম কিছু বলছিনা সে যেহেতু অপরাধি তাকে দিয়ে কঠিন কঠিন কাজ করানো হউক।
বরং এটা বলছি কঠিন কাজটা তাকে দিয়ে সহজ ভাবে করানো হউক তবে সেটা হউক উতপাদন মূলক।
মৃত্যু দন্ডের ব্যাবস্থাটা চিরতরে বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে আমি;আমার কাছে আমৃত্যু কারাদণ্ড যা মৃত্যুদণ্ড ও তা।
বরং মৃত্যুদন্ড দেয়াটা বর্বর;সেই সাথে এখনকার সমাজ ব্যাবস্থা এতোটাই জঠিল হয়ে দাঁড়িয়েছে এখানে একজন নির্দোষ মানুষকেও অপরাধী বানানো তেমন কঠিন কিছু না।
মৃত্যু দন্ড কার্যকর করা হয়ে গেলে সে মানুষটাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব না।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মধ্য দিয়ে না হয় দেশের লাভ না দশের লাভ আর ভিকটিম পরিবারগুলোর তো কোন লাভই হয়না।
যদি এরকম করা হয় একটা কারখানা নির্মাণ করা হয়;যেখানে সাজা প্রাপ্ত কয়েদিরা কাজ করবে এবং সাধারণত একজন শ্রমিক যে মজুরি পায় সেটাও পাবে যার সবটাই তুলে দেয়া হবে ভিকটিম পরিবারের হাতে যার থেকে থেকে সরকার শতকরা হারে কিছু টাকা নিতে পারে; যখন সরকার কতৃক কারখানা স্থাপন টাকে আমরা ধরে নিতে পারি বিনিয়োগ হিসেবে।
ব্যাপারটা কিন্তু একটুও দাশ প্রথা সমর্থন করছেনা,এখানে সার্বভৌমত্বের বরাত দিয়ে আদালত একটা সমাদৃত আদেশ প্রদান করছে মাত্র;কয়েদির কাছ থেকে কোনো টাকা সে নিচ্ছে না কয়েদির শ্রম ও শোষণ করছেনা বরং তাকে সঠিক হারে মজুরি প্রদান করছে সে যেহেতু আরেকজনের অনিষ্ট সাধন করেছে সুতরাং টাকাটা ঐ মানুষটার উন্নতির স্বার্থে ব্যায় হচ্ছে যেটাকে কখনোই অনৈতিক বলা যাবেনা।
আর এই শ্রমের আদেশকে জবরদস্ত শ্রমও বলার সুযোগ নেই যদি তাই বলতে চান তবে আমি বলবো তাহলে আদালতের সকল আদেশ ই জবরদস্তিমূলক কারন ফাঁসি,কারাদণ্ড সব ধরনের শাস্তি ই আসামির অনিচ্ছায় দেয়া হয়।
আসলে এই ব্যাপারটাকে ধরা যেতে পারে এরকম যেমনটা জরিমানা;
সাধারণ জরিমানার ক্ষেত্রে আদালত বলে এই ক্ষতির কারনে আসামি পক্ষকে নির্দেশ দেয়া হলো ক্ষতিপূরণ হিসেবে বাদিপক্ষকে নির্দিষ্ট অমুক অংকের টাকা দেবেন।
এখানেও একই জিনিস ঘটেছে তফাৎ শুধু এটাই এখানে জরিমানার পরিমাণ অনির্ধারিত;
এখানে সশ্রম কারাদণ্ডটাই জরিমানা-
আরেকটা প্রশ্ন আসতে পারে এখানে যে টাকার বিষয়টা যদি এতো প্রাধান্য দেয়া হয় তাহলে ধনি পরিবারগুলো ১৪*৩৬৫*মজুরির টাকাটা এক কালীন দিয়ে মুক্তি পেতে চাইবে কিন্ত সেটা হবেনা কারণ এখানে জরিমানা+শাস্তি বলতে সশ্রম কারাদণ্ড বোঝানো হচ্ছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





