অন্ধকার নেমে এসেছে অনেক আগেই। এখন অনেক রাত। ঘরে দীপ্ত’র দেখা না পেয়ে ছাদে গেল তারেক। ছাদের এককোণে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে দীপ্ত। তারেক দীপ্তর পাশে এসে দাঁড়ালো।
-কিরে আকাশের দিকে তাকিয়ে কি দেখিস...।
-এইতো ভাইয়া। আকাশের তারাগুলোকে দেখছি।
-তারাগুলোর ভিতর নতুন করে আবার কি পেলি!! তারা তো প্রত্যেকদিনই দেখতে পাইস।
দীপ্ত কোন উত্তর দেয়না। কিছু একটা খুঁজে ফেরার দৃষ্টিতে সে তখনো আকাশের দিকে তাকিয়ে। তারেক বুঝে উঠতে পারেনা,এই ছেলের আবার কি হল। কালই তো দেখলাম ডোরেমন কার্টুন নিয়ে এমন ব্যস্ত যেন টিভির ভিতর ঢুকতে পারলে বাঁচে। সে নাকি আজকে আকাশের দিকে তাকিয়ে তারা নিয়ে ভাবছে!!
দীপ্ত তারেকের দিকে তাকায়। তারেক চুপচাপ বসে আছে তার পাশে। শান্ত কণ্ঠে তারেককে কথাগুলো বলে দীপ্ত। যেন কেউ তাকে কানে কানে কথাগুলো বলে গেলো.....
‘ভাইয়া। আকাশের তারাগুলো মনে হয় রাজনীতি বুঝেনা তাইনা। ওদের কোন ধর্ম নেই,ওরা কোন দর্শনের ধারও ধারেনা। আচ্ছা ওরা কি জানে গণতন্ত্র কি,কম্যুনিজম কি বা একনায়কতন্ত্র কি??’
প্রশ্নগুলো শুনে হকচকিয়ে গেলো তারেক। বিস্ময়ের রেশ তখনো কাটেনি। কি বলবে বুঝতে পারছিলো না সে।
-তোর হঠাৎ কি হল বলতো। আর এগুলা প্রস্নই বা পাইলি কোথায়!! তারাদের আবার ধর্ম আছে নাকি। আর ওরা রাজনীতিই বা বুঝবে কিভাবে।
-হুম তাইতো। বুঝবে কিভাবে। ভাগ্যিস বুঝেনা।
তারেক দীপ্তর দিকে হা করে তাকিয়ে থাকে। দীপ্ত আরও কিছু বলবে...
‘কত কত হাজার বছর পেরিয়ে গেল,কত সভ্যতা এলো গেলো। ব্যাবিলন,মাচুপিচু,মিসরীয় সভ্যতা আরও কতকি!!! কিন্তু দেখ,ঐ দূর আকাশের তারাগুলো এখনো টিকে আছে। জ্বল-জ্বল জ্বলছে। হয়তো প্রাকৃতিক নিয়মে এরাও একদিন শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু,এদের ভিতরে কোন বিশৃঙ্খলা নেই...’
কথাগুলো বলে দীপ্ত উঠে পর। ‘ভাইয়া তুমি থাকো আমি রুমে গেলাম।’
তারেক ততক্ষণে আকাশের দিকে তাকিয়ে। দীপ্ত’র শেষ কথাটা তার কানেই গেলনা। প্রথম কথাগুলো তখনো তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আসলেই তো, আকাশের তারাগুলো মনে হয়, রাজনীতি-ক্ষমতা এগুলো বোঝেনা।
একটা বিকট শব্দে তড়াক করে লাফিয়ে ওঠে তারেক। সাথে সাথে স্লোগান ভেসে এলো।
আগামীকাল আগামীকাল... হরতাল হরতাল।
-সমাপ্ত-

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





