
সময় তখন দুপুর ১টা। যোহরের নামাজ পড়ে দুপুরের খাওয়াটা সেরেই গন্তব্যের দিকে রওনা দিলাম। যে সিএনজিতে উঠেছিলাম সেটা কিছুদূর যাওয়ার পর একজন যাত্রী নামিয়ে দিল। যাত্রী ভাড়া দিতে চাইলেও চালক তার ভাড়া নিলেন নাহ। আর কিছুদূর যাওয়ার পর আরেকজন যাত্রী উঠলো এবং একটুপর সেই যাত্রীটিও নেমে গেলো। এবারো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সিএনজি চালক ওই যাত্রী থেকেও ভাড়া নিলেন নাহ। মনে মনে ভাবতেছিলাম, আহা! কি উদার সিএনজি চালক রে ভাই। যাইহোক, লোকাল বাসের ন্যায় থেমে থেমে অবশেষে সিএনজি গন্তব্যে পৌঁছল। আমি ভাড়া দিলাম। কিন্তু এইবারও চালক আমাকে অবাক করে দিয়ে আমার ভাড়াও নিবে না ভাবছিলেন? জ্বী না। তৃতীয়বারে চালক ঠিকই আমার ভাড়া নিলো। পাঠক, কেউ কি বলতে পারবেন সিএনজি চালক কেন ওই দুজন থেকে ভাড়া নেয় নি??
যাইহোক, শিরোনামের সাথে অসামঞ্জস্য একটা কাহিনী দিয়ে শুরু করে ফেললাম।এবার ভূকম্পনের উৎসের দিকে যাওয়া যাক।
স্থান: পরীক্ষার হল।
আমার অবস্থান: ১ম সারির ২য় বেঞ্চ।
পারিপার্শ্বিক অবস্থা: আমার সামনে-পিছনে-ডানে তিন দিকে তিন মহীয়সী নারী। বাংলাদেশের তিন দিকে যেমন ভারত, ঠিক সেইরকম। আর আমার বাম দিকে বঙ্গোপসাগরের ন্যায় বিস্তৃত এক দেয়াল।
মূল ঘটনা: সামনে-পিছনে কোন সমস্যা না। ওরা দুজনই আমার ডিপার্টমেন্ট এর। বামে দেয়াল আছে তাও কোন সমস্যা নাহ।সমস্যা হইলো আমার বেঞ্চের ডানদিকে যে মহামানবী বসছেন তারে নিয়া। ক্যাম্নে যে লিখে আল্লাহই ভালো জানেন। খাতায় লিখতেছে ঠিকই কিন্তু লিখার ঠেলায় পুরো বেঞ্চ কাঁপতেছে। প্রথমে ভাবছিলাম ভূমিকম্প আসছে। কিছুক্ষণ শক্ত করে বেঞ্চ চেপে ধরে কম্পন রোধ করতে চাইলাম। কিন্তু কোন লাভ হলো না। এই কম্পন যেন আর থামেনা। পরীক্ষার পুরো ৪ঘন্টা যাবৎ তার এই টেবিলকম্পন আমাকে সহ্য করতে হয়েছে।
আমি বেশ কয়েকবার এদিক সেদিক ইতস্তত করেও এই কম্পনকণ্যার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যার্থ হয়েছি। আমিও তো লিখতেছি, কই আমার লিখার সময় তো টেবিল কাঁপে নাহ। তারপর সে কিভাবে লিখতেছে সেটাও লক্ষ্য করলাম। আমি লোয়ার বেঞ্চ ঝাঁকি দিলাম। কোনদিকেই তার ভ্রুক্ষেপ নেই। অগত্যা, এই কম্পমান টেবিলেই পরীক্ষা দিলাম। আগামী পরীক্ষা গুলোতেও এই ধকল সইতে হবে। হে আল্লাহ, ইয়া মাবুদ, রক্ষা করো।
আপনাদের জ্ঞ্যাতার্থে জানিয়ে রাখিঃ
আজ আমার পরীক্ষা খুবই ভালো হয়েছে। এক্কেবারে ফুল আন্সার করছি। প্রস্তুতি ভালো ছিলো- সবই কমন পড়ছে। আর আপনাদের সকলের দোয়া তো ছিলোই। শুকরিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৭ রাত ৯:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



