
প্রখ্যাত সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপিয়র রচিত রোমিও আর জুলিয়েটের ভালবাসার কাহিনি সকলেই জানেন। বাস্তবজীবনে তাদের মিলন হল না বলে তারা দুজনেই বেছে নিয়েছিল মৃত্যুর পথ। মৃত্যুর মধ্য দিয়েই মিলন হয়েছিল তাদের। কিন্তু প্রশ্ন হল, রোমিও এবং জুলিয়েট বলে কি বাস্তবে কেউ ছিল?
বাস্তবে থাকুক আর না থাকুক কারো কারো ভালোবাসার গভীরাতা বুঝাতে টেনে আনা হয় রোমিও জুলিয়েট কাহিনী। তেমনই এক রোমিও জুলিয়েটের সন্ধান পাওয়া গেল ফেনী শহরে।
আমি প্রতিদিনই প্রাইভেটে যাওয়ার পথে উনাদের দেখি রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে বেড়াচ্ছেন।ফেনী শহরে ওদের পরিচয় রোমিও-জুলিয়েট। নিজেদের কোন ঘর নেই। খোলা আকাশের নিচেই বসবাস। খেয়ে না খেয়ে তাদের জীবন কাটে। তবুও একজন আরেকজনকে ছেড়ে যান না এক মূহুর্তের জন্যও। মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও তাদের প্রেম যেন জগতের আর সবার প্রেমকে হার মানায়। আজ একটি স্থানীয় পত্রিকায় উনাদের নিয়ে নিউজটি দেখি। পুরো নিউজটি এখানে হুবহু তুলে ধরছি-
ময়লা-কর্দমাক্ত জামা, আউলা-ঝাউলা চুল। থাকার ঘর নেই, বিভিন্ন দোকানের অতিরিক্ত ছাউনি তাদের ঘর। তারা রোমিও-জুলিয়েট হিসেবে পরিচিত। দুইজনই মানসিক-ভারসাম্যহীন, দুই বছর ধরে বসবাস করছে ফেনী শহরে।
কোলে এক কন্যা সন্তান নিয়ে দু’জন ফেনিতে আসে। সেই সন্তান পরে চুরি হয়ে যায়। তাদের কখনো রাস্তার মাঝে, কখনো দোকানের সামনে ঘুমাতে দেখা যেত। ফেনীর মানুষের কাছে তারা এখন খুবই পরিচিত মুখ। দুইজনকে কখনো অভিন্ন দেখা যায় না।
সোমবার সন্ধ্যায় ফেনী শহরের শিশু নিকেতনের সামনে মানুষের জটলা দেখে এগিয়ে গেলেন এই প্রতিবেদক। মাঝখানে কন্যা সন্তানটি রেখে দু’পাশে বসে আছেন মা-বাবা। মাকে যথেষ্ট সুস্থ মনে হয়েছিল। দু’জনের চেহারাই হাস্যোজ্বল।
প্রসব বেদনা উঠলে প্রসূতিকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন আত্মীয়-স্বজন। তাদের প্রতি রাখেন বাড়তি নজর। কিন্তু জুলিয়েটের ভাগ্যে সেরকম জোটেনি। সোমবার (১৫ মে) ভোর রাতে তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান।
রোমিও’র সাথে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, ‘আগের মেয়েটি চুরি করে নিয়ে গেছে। এটারে নিতে দিব না। এর নাম রাখবো রাণী।’
তিনি জানালেন, সোমবার ভোর রাতে রাস্তার পাশে রাণী ভূমিষ্ট হয়। ধাত্রী ছিলেন তিনি। এরপর আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি রোমিও। এবার জুলিয়েটের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে জানালেন কয়টা টাকা দেন।
উপস্থিত উৎসুখ জনতা কেউ জামা কিনে দিলেন আবার কেউ টাকা দিলেন। অনেকে রসিকতা করে বলছে ‘যদি কোনো প্রাইভেট হাসপাতাল আর কোনো গাইনি ডাক্তারের চোখে পড়তো তাহলে নিশ্চিত সিজার করেই ছাড়তো। হাসপাতাল আর ডাক্তাররা এত বেশী সিজারিয়ানে আসক্ত যে এও হয়তো রেহাই প্পপপেত না।
জুলিয়েট ভালো পুষ্টিকর খাবার খায়নি, ভালো জায়গায় ঘুমায়নি, ডাক্তার পরীক্ষা করেনি, ডেলিভারির জন্য ধাত্রী লাগেনি। অথচ নবজাতক-প্রসূতি দু’জনই সুস্থ।
এসময় দেখতে আসা জনতা জানান, এখন ঝড়-বৃষ্টির রাত। এই নবজাতকের জন্য আমাদের সমাজের-রাষ্ট্রের কী কিছু করণীয় নেই। রাতে শিশুটি কীভাবে থাকবে। তাদের সহযোগিতার জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসা উচিত।

ছবিঃ (সংগৃহীত)
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মে, ২০১৭ রাত ১০:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



