বাংলার নায়াগ্রাঃ পুকুরপাড়া
কার সঙ্গে তুলনা করব? বাংলাদেশের কোন ঝরনাকেই এর সংগে তুলনা করা যায় না। নায়াগ্রা দেখার সৌভাগ্য হয়নি। তবে এই ঝরনাটিকে দেখে আমার নায়াগ্রা দেখার স্বাদ মিটে গেছে। পুকুরপাড়া থেকে ঝরনাটির কাছে পৌছতে আমাদের সময় লেগেছিল এক ঘন্টা। জোঁক বাছতে বাছতে যখন আমরা ঝরনাটির সামনে এসে দাঁড়ালাম তখন আমর বিশ্বাসই হচ্ছিল না বাংলাদেশে আছি। অবিশ্বাস্য মনমাতানো এ ঝরনাটির আমার দেশের ভাবতেই যেন অবাক লাগে। প্রশস্ততায় ঝরনাটি প্রায় 100 মিটার হবে। আর দৈর্ঘ্য 300 মিটার হবে। এ ঝরনাটি একটু ব্যতিক্রমধমর্ী। উঁচু পাহাড় থেকে এর স্রোতধারা ঝরে পড়ছে না পুরো ঝরনাটি পাহাড়ের খাড়া ঢালে নদীর মতো প্রবাহিত হচ্ছে। পাথুরে মাটির উঁচু-নিচু খাঁজ এক অভাবনীয় দৃশ্যপট সৃষ্টি করেছে। যা চোছে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। পানিতে অস্বাভাবিক স্রোত, পা ফেলা যাচ্ছিল না বলে দু-তিনজন লাঠি ধরে পার হ্িচ্ছলাম। একা পার হতে গিয়ে পা পিছলে আমাদের গাইড সুজন ত্রিপুরা পড়ে গেলেন। প্রায় 15-20 মিটার জলে একটা জলজ্যান্ত মানুষের ভেসে যাওয়া দৃশ্য আমরা সবাই দেখতে লাগলাম। ভয়ে নিঃস্তব্দতা ভঙ্গ করে চিৎকার করতে লাগলাম, বাঁচাতে গেলেই অন্যজনকেও ভাসতে হবে। হঠাৎ সুজন পাথরের খাজে আটকে গেল পরে বাঁশের সাহয্যে তাকে উদ্ধার করা হলো। ভয়ঙ্কর এ ঝরনাটিতে 10 বছর আগেএকজন পাহাড়ির মৃতু্য হয়েছিল। সুজনের ভাগ্য সুপ্রসন্ন, সে বেঁচে গেছে। ভয় বেড়ে গেল আমাদের প্রচন্ড সতর্কতার সাঙ্গে গাছের শিকড় ধরে ধরে একজন অন্যজনের বাঁশ ধরে ধরে ঝরনা দেখা শেষ করলাম
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



