somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

হ্যাকাররা যে পাঁচটি বিষয় কাউকে জানাতে চায় না

৩০ শে জুন, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

View this link

ব্যক্তিগত কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজ করে হ্যাকাররা। আর আপনার
নানা বিষয় হ্যাক করার জন্য তাদের রয়েছে বিচিত্র সব কৌশল। এসব কৌশলের সবগুলো আবার অনলাইনে করা হয় না। তাই হ্যাকার ঠেকাতে হলে অনলাইনের পাশাপাশি সতর্ক হতে হবে অফলাইনেও। এ ধরনের কিছু বিষয় তুলে ধরেছে আইএনসি। আর হ্যাকারদের এমন পাঁচটি বিষয় নিয়েই এবারের লেখা-
১. অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও সতর্ক হোন
আপনার অনলাইন নিরাপত্তায় যে কোনো অপরিচিত উৎস থেকে আসা লিংকে ক্লিক না করা সহ বেশকিছু সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, অফলাইনে আপনি নিরাপদ। বহু প্রতিষ্ঠানে হ্যাকাররা অনলাইনে সুবিধা করতে না পারলে অফলাইনের আশ্রয় নেয়। এর মধ্যে থাকতে পারে আপনার অনুপস্থিতিতে অফিসে কোনো ব্যক্তিকে পাঠিয়ে তথ্য চুরি করা। ধরুন আপনি একটি মিটিংয়ে অফিসের বাইরে আছেন, কিংবা সামান্য কাজে বাইরে গেছেন। এ সময়টি হতে পারে হ্যাকারের জন্য সুবর্ণ সুযোগ।
এ কারণে যদি অফিসে মূল্যবান তথ্য থাকে তাহলে দুপুরে খাওয়ার সময় কিংবা কোনো কারণে বাইরে গেলে অন্য কোনো ব্যক্তির প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করুন। আপনাকে সামান্য পরিচিত বা অপরিচিত কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে যে, ‘আপনি এখন কোথায়?’ তবে তার উত্তরে নিরাপত্তার খাতিরে সঠিক তথ্য দেওয়া এড়িয়ে যান। অনেক সময় আপনার অবস্থান জেনে হ্যাকাররা অফিসে কোনো মানুষ পাঠাতে পারে। যে কিনা আপনার অনুপস্থিতিতে চুরি করে নেবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
২. তারা অলস মানুষ পছন্দ করে
যারা অনলাইন নিরাপত্তায় আলস্যের কারণে শক্ত পদক্ষেপ নিতে পারেন না, তারা হ্যাকারদের প্রিয়। অনেকেই কঠিন শব্দ দিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করতে আলসেমি করেন। তার বদলে সহজ কোনো শব্দ রাখেন, যার নিরাপত্তা সহজেই ভেঙে ফেলা যায়। অনেকে আবার পাসওয়ার্ড মুখস্ত না করে কম্পিউটারেরই কোনো প্রোগ্রামের ভেতর লিখে রাখেন। তারা ভুলে যান যে, পাসওয়ার্ড নিরাপদ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তা মুখস্ত করে নেওয়া।
কম্পিউটারে পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে রাখার আরেকটি দুর্বল উপায় হলো পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার। এ ধরনের একটি সফটওয়্যার হলো ‘লাস্টপাস’। কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ ধরনের সফটওয়্যারগুলো যেন কোনোক্রমেই অনলাইনে বা ক্লাউডে ফাইল সংরক্ষণ না করে এটা দেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে আপনাকেই
কথা বলা ও শোনার ক্ষেত্রে কিছু কৌশল ব্যবহার করে আপনার কাছ থেকে তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে হ্যাকাররা। এক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে আপনাকে কথা বলতে উৎসাহিত করবে। আর এ কাজে ব্যবহৃত হতে পারে আপনার আবেগ।
বিপজ্জনক হ্যাকাররা জানে, কীভাবে আপনার আবেগ ব্যবহার করে আপনার কাছ থেকে তথ্য বের করে নিতে হয়। আর এসব তথ্যের মধ্যে প্রকাশিত হয়ে যেতে পারে আপনার পাসওয়ার্ড কিংবা গোপন নানা তথ্য।
আর নিরাপত্তার স্বার্থে যে কোনো স্থানে এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য কোনো পরিচিত কিংবা অপরিচিত ব্যক্তিকে দেওয়া উচিত নয়। আপনার এসব তথ্য ব্যবহার করে কখন কোন হ্যাকিং হয়ে যাবে, তা আপনি বুঝতেও পারবেন না।
৪. অনলাইনে যত বেশি তথ্য, তত ঝুঁকি
আপনার নানা প্রয়োজনে অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। এসবের মধ্যে রয়েছে ইমেইল ও সোশ্যাল মিডিয়ার মতো অ্যাকাউন্ট। এসব অ্যাকাউন্টে আপনি যত বেশি তথ্য দেবেন আপনার হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি তত বেড়ে যাবে। অনেকেই অনলাইনে নানা অ্যাকাউন্ট খুলে পরে সেখানে আর যান না। কিন্তু এসব অ্যাকাউন্ট থেকে আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে তা অন্য অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করতে পারে হ্যাকাররা।
এসব কারণে ইমেইলের অ্যাকাউন্ট কিংবা সোশ্যাল নেটওয়ার্কে যতটা সম্ভব কম তথ্য দিতে হবে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। অতিরিক্ত তথ্য কখনোই দেওয়া যাবে না। অনলাইনে কোনো তথ্য দেওয়ার পর তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোথাও না কোথাও থেকে যায়। এমনকি আপনার অনুসন্ধানের বিষয়গুলোও সংরক্ষণ করা হয়।
৫. আপনি অদৃশ্য নন
আপনি কোনো ভুল না করলেও হ্যাকারের হাতে পড়তে পারেন। বহু হ্যাকারের উদ্দেশ্য থাকে স্বল্পমেয়াদী নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী লাভ করা। আপনার ক্রেডিট কার্ড নম্বরই শুধু হ্যাকারের জন্য লোভনীয় নয় বরং আরও বহু বিষয় আছে, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদী লাভ করতে পারে হ্যাকাররা। আপনি অনলাইনে গোপনীয়তা বজায় রাখলেও বেহাত হতে পারে আপনার তথ্য। আর এতে চুরি হয়ে যেতে পারে অনলাইনে আপনার সম্পূর্ণ পরিচয়ও।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×