যে বিষয়টি নিয়ে লিখতে যাচ্ছি, তা নিয়ে আমার চিন্তার সাথে অনেকের চিন্তাই মিলবে না। অনেকেই হয়তো অনেকটা লাঠি হাতে আমাকে তাড়া করার মতো তাড়া করবেন।না হোক মনে মনে কিছু কঠিন ঝাড়ি দেবেন। আমি এসএসসি-এইচএসসি 2005 এবং 2007 এ।এরপর স্বাভাবিকভাবেই কয়েকবছর জিপিএ 5 কমজন পেল খোঁজ রেখেছি এবং একসময় ছেড়ে দিয়েছি।সঠিক সংখ্যাটা মনে করা বলা আমার জন্য বেশ কঠিন। 2016 তে সংখ্যাটি এসএসসিতে লাখ ছাড়ানো। আর এইচএসসিতে সম্ভবত অর্ধ লাখের উপর। এ সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। যতদূর মনে পড়ে 2001 এ জিপিএর সংখ্যা বোধহয় 100 ও ছিল না। 15 বছরে জাতির মেধা বেড়েছে বহুগুণে। ক্ষতি ছিল না। আনন্দই পেতাম। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এ বিপর্যয়টা না দেখতাম। ভর্তি পরীক্ষায় পাশ নম্বরটা পাওয়া কিন্তু খুব কঠিন কাজ নয়। বিশেষত যারা সব বিষয়ে 80 করে পেয়েছেন তাদের জন্য 40/50 এর গন্ডি পেড়োনো তো নস্যি। কিন্তু তা হচ্ছে না। যেখানে এসএসসি-এইচএসসি তে পাশের হার 90 শতাংশেরে ঘরে, সেখানে ভর্তি পরীক্ষায় তা 20 এর ঘরেও পৌঁছে না।এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। মেধা যাচাই এর মুখে এ যেন সপাটে একটি চড়। ফাঁস হয়ে যাওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে মেধা তালিকার শীর্ষে পৌঁছে যাচ্ছে শিক্ষার্থী।
প্রশ্ন হলো এদের হাতে জাতির ভবিষ্যত কি? পরবর্তী প্রজন্ম কিসের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে? জাতি কেমন চিকিৎসক, প্রকৌশলী, অর্থনীতিবিদ, পরিবেশবিদ, শিক্ষক পেতে যাচ্ছে? সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের নৈতিকতা বোধটাই বা কোথায় যাচ্ছে? যেখানে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন লাখ লাখ টাকায় কিনে দম্ভ ভরে বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেলের শিক্ষার্থী হয়ে উঠছে অনেকে?
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ দুপুর ২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




