somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপন ভূমিকা

০৭ ই জানুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[গাঢ়]এক.[/গাঢ়]
মোনা হঠাৎ বলে উঠল 'রাজু তুই এত ভালো, তোকে আদর করতে ইচ্ছে করছে রে'। আমি 'থ' মেরে যাই। এই মেয়ে বলে কি! ও জানেনা বিশের যুবক যুবতি পরস্পরকে আদর করলে সে আদর কবিতা হয়ে যায়। মুখে কথা আসে না, পিট পিট করে তাকাই মোনা'র দিকে। মোনা হাসে, খিল, খিল,। গড়পড়তা বালিকার মতো মুখে অাঁচল নিয়ে হাসি থামায়। হাসি থামতে চায় না। বলে যায় মোনা। 'এই এমন তাকিয়ে আছিস কেন! তুই কি ভেবেছিস পুরুষ ভেবে তোকে আদর করব! আরে তুই আবার পুরুষ নাকি? দেখতে কেমন বাচ্চা লাগে!'
আমি ঘোৎ করে উঠি 'মোনা কোন কাজটা করলে আমার ব্যাটাত্ব প্রমাণ হবে?' সে থেমে যায়। অনেকন হাসলে চোখের কোনো পানি জমে। তার দু-চোখের কোনো কুয়াশার মতো পানি।
হাঁটতে থাকি। রাস্তার পাশে দাঁড়ানো চকচকে গাড়ি। আয়নায় চেহারাটা দেখে নেই। ঠিক আছে সব কানের লতি পর্যন্ত জুলপি, গোঁফ, মাথাভর্তি কুকড়ানো ছেলেচুল।


[গাঢ়]দুই.[/গাঢ়]
হাসান মিয়ার চায়ের দোকানে আমার দুর্দান্ত বন্ধুরা দাঁড়িয়ে। দেখেই হাঁক ছাড়ে 'আও ইয়ার, তুমি আজ আমাদের হিরো। এখন থেকে এই রাস্তায় যত মোয়ে যাবে সব তোমার।' অস্বস্থি নিয়ে ওদের পাশে দাঁড়াই। প্রথম রিকশা যায় আমি তাকাতে পারিনা। ওরা হাসে। দ্বিতীয়টা যায়... পা দিয়ে রাস্তায় অদৃশ্য আলপনা অাঁকি। তৃতীয়টা চলে গেলে জাকি টেনে টেনে বলে, 'কী গুরু ম্যান্দা মেরে গেলে নাকি, ব্যাটা হও গুরু, ব্যাটা হও।' দাদাজানের পেতলের গ্লাসটা মেঝেতে পড়লে যেমন ধাতব শব্দ হয়, তেমন ঝনাৎ করে উঠে আমার মাথার ভেতর, ব্যাটা হও... ব্যাটা হও... তখনই আসে রিকশাটা। অনেকদূর থেকেও চিনতে পারি মোনা।
আমার ভেতরে ব্যাটাত্ব প্রমাণের মহড়া শুরু হয়। টান হয়ে দাঁড়েই। মোনা কি আমায় দেখতে পেয়েছে? ওই মুখে যেন এক চিলতে হাসি। অবজ্ঞার হাসি? আমি জেগে উঠি পুরোপুরি। নাগালে আসতেই হাঁক দেই, 'ওই মেয়ে, তোর...


[গাঢ়]তিন.[/গাঢ়]
সাতদিন সময় কি অনেক? হয়ত হঁ্যা হয়ত না। বসি গোল হয়ে। মোরশেদ, ফয়সল, শাহানা, রোকন, মোনা, আমি। কথা বলি সবাই, কথা বলি একা। সবাই বক্তা, কেউ নেই শ্রোতা। ফিস্ ফিস্ করে বলি, 'মোনা বিশ্বাস কর হঠাৎ কেমন হয়ে গেলাম, মাথাটা ঠিক ছিলনা...' 'থাম্ রাজু, এমনতো কতই হয়।' বলার ভঙ্গি বরফ শীতল, কথা বলিনা। চোখের কোন দিয়ে তাকাই। গম্ভীর মোনা।


[গাঢ়]চার.[/গাঢ়]
হাসান মিয়ার চায়ের দোকানটা কেমন যেন হয়ে গেছে। সবসময় জমজমাট, অথচ ফাঁকা। হাসান মিয়া বসে থাকে মরা মানুষের মতো। জাকি আসেনা। অনেকদিন। কাঁটাছেড়া শেষে তাকে রেখে দেয়া হয়েছে মাটির অন্ধকারে। বান্টি মোটা বুট সমেত পা-জোড়া একটা টেবিল তুলে দুধ চিনি বেশি দিয়ে চা গিলে আর ঝিমোয়। দেখলেই হাঁক ছাড়ে, 'রাজু আয় বাপ, একটা কবিতা শুনিয়ে যা।' বান্টির অনেক টাকা। না চাইতেই চা খাওয়ায়। হরদম জ্বালিয়ে দেয় নামি ব্রাণ্ডের সিগারেট। আমি বসে সিগারেট টানি। রিকশা গুনি। পুলিশ আসে, আবার চলেও যায়। চায়ের দোকানটার বয়স বাড়ে, বিশ বছর একদিন... দুইদিন... তিনদিন... মানুষ বিশবছরে যুবক হয়। চায়ের দোকান যুবক হয় কত বছরে...


[গাঢ়]পাঁচ.[/গাঢ়]
শাহানা এসেছে চারমাস পর। পাক্কা তিনমাস আগে ওর বিয়ে হয়েছে। একমাস হলো শাহানার স্বামী রুটি সেঁকার জন্য আবার চলে গেছে ইউরোপ। কিছুদিন পর যাবে শাহানা। উৎপাদিত পণ্য নিয়ে যদি ফেরত আসে নিশ্চয়ই নাক উঁচু করে বলবে, 'এত ডার্টি, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।' শাহানা বসে মোনার পাশে। আগে পাশাপাশি বসত রোকন আর শাহানা। রোকন আসেনি আজ। বেশ কিছুদিন ধরেই আসছেনা, হয়ত আর আসবেও না। কোন চালের দোকানদারই এসময় দোকান ছেড়ে উঠেতে চায় না। মোনা'কে একটা কথা বলব। কিন্তু ও তাকায় না। আমি বসে থাকি। অপো করি তার দৃষ্টির।


[গাঢ়]ছয়.[/গাঢ়]
সিগারেটে টানটা দিয়েছি সবে। বান্টি ওয়াক করে ওঠে। তাড়াতাড়ি করে ধরি। সিগারেটটা পড়ে যায়। বমিতে ভেসে যায় বান্টি। ভেসে যায় হাসান মিয়ার চেয়ার টেবিল। ধরাধরি করে বান্টিকে একটা টেবিলে শুইয়ে দিই। মেঝেতে চোখ পড়তেই দেখি সিগারেট ডুবে আছে। খেয়াল হয় শার্টে বমি লেগেছে।


[গাঢ়]সাত.[/গাঢ়]
ঘরে পা রাখতেই চমকে উঠি। মোনা বসে আছি, পাশ জড়সড় শাহানা। ভূমিকা ছাড়াই একটা খাম এগিয়ে দেয় মোনা।... একটা ছবি... শাহানার বর... সোনালী চুলের মহিলা... পুতুলের মতো একটা বাচ্চা শাহানা মোনা কেউ কোনো কথা বলছে না...।


[গাঢ়]আট.[/গাঢ়]
সব শালারাই বুঝি রুচি বদল করার জন্য বার বার ফিরে আসে।


[ইটালিক] এই লেখাটি পথ নামের একটি সাহিত্যপত্রে ছাপা হয় 2001 সালের ফেব্রুয়ারীতে। কয়েকটা শব্দ বদলে পোস্ট করলাম।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭১টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×