ইসলামের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাঃ চিন্তার পুণর্গঠন
পর্ব-১
.
.
আল্লামা ইকবাল তার বই The Reconstruction of Religious Thought in Islam –বইটা্র শুরুতেই বলেছেন- The Quran is the book which emphasizes ‘deed’ rather than ‘idea’. ইসলাম আপনার কাছে কাজ চায়, ইসলাম চায় আপনি মানবতাবাদী নয় মানবিক হয়ে উঠেন। কিন্তু কথা হচ্ছে আপনি কী কাজ করবেন? কীভাবে করবেন? কেন করবেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুরুতেই জানা আবশ্যিক। নইলে আপনি ভুল করতে পারেন, শুধু আবেগ দ্বারা তাড়িত হতে পারেন। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানার জন্যই চিন্তার প্রয়োজন আছে, পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে; সেটা ইসলামের ভেতর ও বাইরে উভয় দিক থেকেই।
.
মুহাম্মদ (স) ও অন্যান্য নবিরা যখন মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন, তখন তাদেরকে সত্যতার প্রমান দিতেন, কখনো সেটা যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে আবার কখনো মু’জিজার মাধ্যমে। মানুষের বিবেক (আকল) সত্য অনুধাবনে সক্ষম, তবে সে জন্য সদিচ্ছার প্রয়োজন। এ জন্যই আল্লাহ বলেছেন- ‘ইউদিল্লু বিহি কাসিরা ও ইয়াহদি বিহি কাসিরা ওমা ইউদিল্লু বিহি ইল্লাল ফাসিকুন’(বাক্বারা-২৬) অর্থাৎ, এর দ্বারা অনেকে সুপথপ্রাপ্ত হয়, অনেকে বিপথগামী হয় আর শুধুমাত্র ফাসিকরাই বিপথগামী হয়। অন্যত্র বলা হয়েছে- ‘তারা অন্তর দিয়ে অনুধাবনের চেষ্টা করেনা, তাদের শ্রবনশক্তি আছে কিন্তু শুনতে পায়না, তাদের দৃষ্টিশক্তি আছে কিন্তু দেখতে পায়না; তারা পশুর মত কিংবা তার থেকেও নিকৃষ্ট’। _এখানে দেখুন, সত্যে পৌঁছানোর জন্য আপনার বোধ-দৃষ্টি-শ্রবনশক্তিকে আরো পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। এখানেই মানুষ অন্যান্য প্রানী থেকে আলাদা। এ জন্যই মানুষের পরীক্ষা আছে। জান্নাত-জাহান্নামের প্রশ্ন আছে।
.
এই যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রশ্ন, এটা কিন্তু ইসলামের না। ইসলাম জাহেলিয়াতকে মোকাবেলা করেছে। মানুষের পুরো জীবন পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ নৈতিক ভিত্তি ও নির্দেশনা ইসলামে আছে। চ্যালেঞ্জটা মুসলিমের, সময়ের সাথে সাথে এই ভিত্তিকে প্রাসঙ্গিক করে তোলা। প্রচুর কাজও হয়েছে এ জন্য, কিন্তু আমরা মানতে পারিনি- এটা আমাদের দৈন্যতা, সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু।
.
এই যে মুসলিমদেরকে ইনফেরিওর, ব্যাকডেটেড মনে করা হচ্ছে কিংবা ইসলামকে অপ্রাসঙ্গিক ভাবা হচ্ছে। কেন হচ্ছে? কিংবা মুসলিমরাই যে উত্তরণের চিন্তা করছে, কি থেকে উত্তরণ করতে চাচ্ছে? কেন সমস্যাকে এত গভীর মনে করা হচ্ছে? এই সমস্যার দৃশ্যমান রুপটা আসলে কী_
>মুসলমানদের রাজনৈতিক সঙ্কট। বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যাটা মুসলিম তথা ইসলামের সমস্যা আকারে দেখানো হচ্ছে। রাজনীতি ক্ষমতার বৈধতা দেয়। ক্ষমতা সমাজের সর্বস্তরকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রন করে। এখানে মুসলিমরা ক্ষমতার দাস, অন্যের ঘুটি। কেউ এই সমস্যা মোকাবেলা করতে গিয়ে জঙ্গি বনে যায়। -আমরা পরবর্তিতে আলোচনা করব এখানে কার কতটুকু দায়, কীভবে এর উদ্ভব ও বিকাশ...
>অর্থনৈতিক সঙ্কট। ইসলামের সিদ্ধান্ত দিয়ে বর্তমান সমস্যাগুলো মোকাবেলা সম্ভব কি না...
>আকিদা-ইবাদতে বিভেদ। সার্বিক ঐক্যের প্রশ্ন এখানে আসছেনা। শুধু আকিদার ভিন্নতার কারনে যুদ্ধ-হামলা_ এ গুলোকে ইসলামের সমস্যা আকারে চিহ্নিত করা হচ্ছে...
>ঞ্জান-বিঞ্জানে পিছিয়ে থাকা...
>ইতিহাস-ঐতিহ্যে সঙ্কট। এটাকে আমি বড় সমস্যা আকারে দেখি। ইতিহাস জাতির দর্পন। পশ্চিমা ধারায় অভ্যস্ত আমরা যখন ইতিহাস চর্চা করতে যাই... কী রাজনীতি, কী দর্শন, কী বিঞ্জান- যেখানেই হাত দেবেন, দেখবেন ইসলাম নাই... কিভাবে এটা হলো, এটা কী সমস্যা তৈরি করছে... এর পূর্ণাঙ্গ রূপ ও সমাধান আমরা দেখার চেষ্টা করব।
>আধ্যাত্মিক সঙ্কট। আধুনিকতার উদ্ভবের সাথে সাথেই ধর্মকে মাইনাস করে দেয়া হলো। মুসলিমরাও বিশ্বাস-আচারে দুর্বল হয়ে গেল... সঙ্কটটা গোঁড়া থেকে দেখার চেষ্টা করব।
>নারী প্রশ্ন। দেখানো হল- ইসলামে নারীর কোন অধিকার নাই... এ ক্ষেত্রে মুসলিমের দায় ও অন্যদের ভুল ধারনা কীভাবে কাজ করেছে, দেখার চেষ্টা করব।
>বিচারব্যবস্থা; বিশেষ করে ‘হুদুদ’ গুলোকে অমানবিক প্রমানের চেষ্টা... বাস্তবতা কী বলে?
>আধুনিকতার সঙ্কট...
>বুদ্ধিবৃত্তিক সঙ্কট...
সঙ্কট আছে, সঙ্কটের কারণও আছে_ আছে সমাধানও। একটা গল্প দিয়ে আজ আপাতত ক্ষ্যন্ত দিচ্ছি... একবার বারাক ওবামা ও হিলারি বসে গল্প করছেন। বারাক বলছেন- চিন্তা করতাছি ইরানে হামলা করব, অন্তত দেড় লাখ মানুষকে হতাহত করব আর বাজার থেকে ঐদিন একটা ছাগল কিনব; পাশ দিয়ে বুশ হেঁটে যাচ্ছিল_ সে জিঞ্জেস করল- ক্যান, ছাগল কিনবা ক্যান? ওবামা বলল_ দেখ, মানুশের ছোট বিষয়গুলো নিয়েই বেশি কৌতুহল থাকে, সুতরাং নো টেনশন।। তাই, সাধু সাবধান! ছাগলের আগেরটা নিয়ে ভাবুন, পরেরগুলো এমনিতেই ঠিক হবে।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




