সংবাদ পত্রের নিউজগুলোর মধ্যে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ‘তুরষ্কে সেনা ক্যু ব্যর্থ’! এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের দেশীয় মিডিয়াও বেশ তৎপর দেখা যাচ্ছে! তবে তাদের সংবাদের পটভূমি এবং শিরোনাম দেখে মনে হচ্ছে, সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ায় তারা বেজায় কষ্ট পেয়েছেন। যার কারণে তুরষ্ককে নিয়ে জল ঘোলা করতেও পিছপা হয় নি, আমাদের দেশের দালাল ( সাধারণ লোকে বলে থাকে ) মিডিয়াওলারা। জনতার হাতের বেল্টকে যখন বিডি নিউজ ২৪ ডট কম চাপাতি বলে চালিয়ে দেয়, তখন তাকে হলুদ সাংবাদিকতায় নোভেল প্রাইজ ধরিয়ে দিতে ইচ্ছে করে! কোমরের বেল্টকে চাপাতি বানিয়ে বিডি নিউজ আসলে কি প্রমাণ করতে চাইছেন! এরা উগ্রবাদী এরা সন্ত্রাসী এরা আইএস? মানুষকে বরাবরই ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত রাখতে বিডি নিউজ এর জুরি মেরা ভার! এবার নিজেই দেখুন।

আর তুরষ্ক নিয়ে জলঘোলা করবার একটাই কারণ ইসলাম। তুরষ্কের বর্তমান একে পার্টিই হলো আমাদের তথাকথিত দালাল মিডিয়ার চুলকানির কারণ! আমাদের মিডিয়ালারা তুরষ্কের সেনা অভ্যুত্থান নিয়ে যা নিউজ করেছে তাতে,তুরষ্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকেই স্বৈরাচার দাবি করা যায়! যেমন চ্যানেল আই অনলাইন নিউজ করেছে, গণমাধ্যমে ভর করে কর্তৃত্ববাদী এরদোগানের রক্ষা।
জনগনের ভোটে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকেও যে কতৃত্ববাদী বলা যায় তা আজ ফরিদুর রেজা সাগরের চ্যানেলের কাছ থেকে নতুন করে শিখলাম! আর কতৃত্ববাদী বলবেই বা না কেন! আমাদের দেশের মিডিয়ারা ৫ জানুয়ারীর অবৈধ নির্বাচনকে বৈধ বৈধ বলতে বলতে, এখন প্রকৃত বৈধ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকেও তারা কতৃত্ববাদী দাবি করছে! তুরষ্কের জনগন ভোট কেন্দ্রে সরজমিনে উপস্থিত হয়ে ভোট প্রদান করে এরদোগান এবং তার দলকে সরকারে বসালো! কিন্তু চ্যানেল আই বলতে চাচ্ছে, এটা কোন নির্বাচন হলো নাকি! নির্বাচন হওয়া উচিত বাংলাদেশের মত! ভোট কেন্দ্রে কোন ভোটার থাকবে না! মানুষের অভাবে ভোট কেন্দ্রের বারান্দায় শুয়ে কুকুর ঘুমাবে! নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা পুলিশ আনসাররা বসে বসে মাছি মারবে! কোন ধরনের ভোট ছাড়াই ১৫৪ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবে! তবেই না তাকে নির্বাচন বলা যাবে! তবেই না তাকে বঙ্গুবন্ধুর মেয়ে গণতন্ত্রের মানসকন্যার মত সংবেদনশীল প্রেসিডেন্ট বলা যাবে!
বাংলাদেশের আর একটি স্বনাধন্য পত্রিকা যুগান্তর তার রিপোর্টে লিখেছে ‘রক্ষণশীল গণতন্ত্রের’ কথা বললেও একেপি আসলে ইসলামঘেঁষা। তাতে কি যুগান্তরের কোন সমস্যা? তারা কি বলতে চায়, রাষ্ট্র চলবে ধর্ম ছাড়া নাকি শুধুই ইসলাম নিয়ে এলার্জি! আপাতোত মনে হচ্ছে শুধুই ইসলাম নিয়ে এলার্জি! তা নাহলে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতেও বর্তমান ক্ষমতাসীন দল, ফান্ডামেন্টালিষ্ট! অর্থাৎ তথাকথিত মৌলবাদ বা হিন্দু মৌলবাদে বিশ্বাসী! কিন্তু এই বিষয়ে যুগান্তর কোন ধরনের মন্তব্য করতে নারাজ! তা হলে কি ধরে নিবো, যুগান্তর পত্রিকাও সরাসরি ইসলাম বিরোধী!
সেই সাথে যুগান্তর উল্লেখ করেছে, মুসলিম ব্রাদাহুডের সাথেও একে পার্টির সম্পর্ক রয়েছে! তাতেও কি সমস্যা? মুসলিম ব্রাদারহুড একটি দেশের রাজনৈতিক দল! তারা দেশের মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় গিয়েছে! কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেনা অভ্যুত্থানের কারণে তারা এখন চরম নির্ঘোহের স্বীকার! একজন গনতন্ত্রকামী হিসেবে এরদোগান এবং তার সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে এটাইতো স্বাভাবিক! কিন্তু যুগান্তরের এহেন উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ কি প্রমাণ করে না, মুসলিম ব্রাদারহুড একটি ইসলামী দল বলেই তাদের এতো এলার্জি! যুগান্তরের বক্তবই প্রমাণ করে তারা গনতন্ত্রের পক্ষে নয়,সেনা শাসনের পক্ষে! আর তাদের এমন দুঃক ভরা রিপোর্ট দেখে বলে দিতে পারি, আল্লাহ না করুন তুরষ্কে সেনা ক্যু সফল হলে, বিডি নিউজ যুগান্তর এবং চ্যানেল আইরা বগল বাজাতো! আর এহেন উদ্দেশ্য প্রণোদিত রিপোর্ট প্রমাণ করে, তারা ইসলামী শাসন কায়েম হোক তা চায় না। গনতান্ত্রিক উপায়েও ইসলামী শাসন কার্যকর হোক তা চায় না। ইসলামকে প্রতিরোধে প্রয়োজনে সেনা শাসন কায়েম হোক তাতেও খুশি আমাদের দেশের দালাল মিডিয়াওলারা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

