somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাকশাল কায়েম হবার আর কত দেরি??

০৮ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘বাংলামেইল’ এর সম্পাদকসহ তিন সাংবাদিক গ্রেফতারের ঘটনা শুনে বিখ্যাত জার্মান কবি নায়মোলারের কথা মনে পড়ে গেল। আপনারা “নায়মোলারের অনুশোচনা” নামক এই প্রবন্ধটি অনেকেই পড়ে থাকতে পারেন। এই জার্মান চিন্তাবিদের পুরো নাম মার্টিন নায়মোলার। নায়মোলার প্রথম মহাযুদ্ধে দুর্ধর্ষ ইউ কোট (সাবমেরিন) ক্যাপ্টেন ছিলেন। পরবর্তি সময়ে তিনি নাৎসি ডিক্টেরশিপের কঠোর সমালোচক হয়ে উঠেন। সে জন্য ১৯৩৭ সালের ১ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাকে নাম মাত্র শাস্তি দিয়ে মুক্তি দিলেও,হিটলার তাকে সহজে ছাড়েননি। হিটলার তার ব্যক্তিগত নির্দেশনায় নায়মোলার কে গৃহবন্দি করে রাখেন। যুদ্ধের পুরোটা সময় জুড়ে নায়মোলার কে একাকী নিঃসঙ্গ অবস্থায় বন্দি থাকতে হয়। জার্মানির বুদ্ধিজীবীদের নিস্ত্রিয়তা ও সাহসের অভাবে কিভাবে নিজেদের এবং বিশ্বের সর্বনাশ করেছেন,সে কথাই নায়মোলার তাঁর গ্রন্ধে উল্লেখ করেছেন।

নায়মোলার অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় লিখেছেন, “প্রথমে নাৎসিরা এসেছিল কমিউনিষ্টদের ধরতে,আমি প্রতিবাদ করিনি।-কারন আমি কমিউনিষ্ট ছিলাম না।
তারপর তারা এলো ট্রেড ইউনিয়ন পন্থিদের ধরতে আমি প্রতিবাদ করিনি।-কারন আমি ট্রেড ইউনিয়ন পন্থি ছিলাম না।
তারপর তারা এলো ইহুদিদের ধরতে,তখনও আমি প্রতিবাদ করিনি।-কারন আমি ইহুদি নই।
তারপর ওরা আমাকে ধরতে এলো,তখন আর আমার হয়ে প্রতিবাদ করবার অবশিষ্ঠ কেউ ছিল না”।


বর্তমান সরকারের সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা মূলত আমারদেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে দিয়েই শুরু হয়। সাংবাদিকদের মাঝে একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে যে, সাংবাদিক হবে বাম আদর্শের! কিন্তু এই মাহমুদুর রহমান বাম আদর্শের ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন ধর্মভীরু মানুষ। আর ধর্মভীরুতার কারণে বাংলাদেশের জাতীয় পত্রিকাগুলোর সম্পাদকরা কোন প্রতিবাদ করেন নি। কারণ মাহমুদুর রহমান তাদের বাম আদর্শের জ্ঞাতি ভাই ছিলেন না। সেই সময় অনেককেই বগল বাজাতে দেখেছি। আর এখনো কেউ কেউ সরকারকে পুরনো কাসুন্দি মনে করিয়ে দিয়ে বগল বাজিয়ে সরকারের নেক নজর আদায় করেন।

এরপর আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে গ্রেফতার করা হল। কিন্তু বরাবরেই মতই আমাদের পত্রিকার সম্পাদকরা নিশ্চুপ থেকেছেন। সরকারের সমস্ত কাজে নীরব সম্মতি জানানোর মত মাহমুদুর রহমান মান্নার বেলাতেও তারা নীরব ভূমিকা পালন করেন। বিশিষ্ঠ সাংবাদিক শওকত মাহমুদ কিছুদিন আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। কিন্তু তার আগে ছয় মাস জেল খাটতে হলো। প্রেসক্লাবের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে গ্রেফতার করা হলো তারপরো কোন সাংবাদিক কিংবা সম্পাদক জোরালো প্রতিবাদ জানালেন না।

আর এইতো সেদিন, বিশিষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার করা হলো। তিনি নাকি বাংলাদেশে বসে নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রধানমন্ত্রী পুত্রকে হত্যার পরিকল্পনার করেছেন। এরকম এ্কটি ঠুন্ক অভিযোগে এই প্রবাীণ সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হলেও কোন পত্রিকা থেকে প্রতিবাদ করা হয় নি। সাংবাদিকদের মাঝ থেকে প্রতিবাদ করা হয় নি। চলমান সপ্তাহেই কোন কারণ ছাড়াই ৩৫ টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বন্ধ করে দেয়া হল।

গতকাল একটি হাস্যকর অভিযোগে বাংলা মেইল পত্রিকার সম্পাদক এবং সহকারী সম্পাদকসহ তিনজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের পত্রিকাওয়ালা যেমন আচরন করে এই গ্রেফতারকৃতদের বেলাতেও সেরকমই আচরন করছে। বরঞ্জ এদের বেলাতে কোন কথাই বলতে চাচ্ছে না। প্রথম আলোকে দেখলাম খুব ছোট্ট করে নিউজ করেছে। বাংলামেইল সম্পাদককে যেমন কারো বেলায় প্রতিবাদ করতে দেখিনি আজ তার জন্যও প্রতিবাদ করবার কোন মানুষ নেই। এ যনে নায়মোলারের অনুশোচনার সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু আমার সন্দেহ হয়,দালালী করা যাদের স্বভাব তাদের ভিতরে কি কোন অনুশোচনা জাগবে?

আসুন দেখি বাংলামেইল এর অপরাধ কোথায়?

গতরাতে বাংলামেইল একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এর একটি নিউজর এর স্কিনশর্ট দিয়ে বলে,বিমান দুর্ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয়ের মৃত্যুর গুজব! সেই স্কিনশর্টা দেখুন,



এমন একটি সংবাদে বাংলামেইল কোন অপরাধটা করল। বরঞ্জ তারা তো সরকার প্রধানের তোষামোদিই করতে গেছে। তারা সেই সংবাদে উল্লেখ করেছে, এমন একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষ কি করম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ফেসবুকে কে কে আনন্দ প্রকাশ করেছে তাদের নাম এবং স্ত্রীণশর্ট বাংলামেইল দিয়েছিল।



এটাও যে আর আট দশটা নিউজের মত তেলামারা রিপোর্ট ছিল তা যেকেউ বলে দিতে পারবে! এই নিউজ করে বাংলামেইল হয়তো সরকারের নেক নজর আশা করেছিল। কিন্তু তাদের উপর নজর ঠিকউ পড়ল, আর সেটা র‌্যাবের নজর। তেল মারতে গিয়ে সম্পাদক এবং সহকারী সম্পাদক সহ তিন সাংবাদিককে এখন র‌্যাবের কার্যালয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে।

যাইহোক আমরা চাই না, জাতির বিবেক এই সাংবাদিক সমাজ নিগ্রহের স্বীকার হোক। আমরা চাইনা কোন মাধ্যম সরকারের রোষানলের স্বীকার হোক। আমরা এটাও চাই না, বাংলাদেশে আবারো বাকশাল কায়েম হোক। কারণ, গণমাধ্যমের উপর এহেন নগ্ন হস্তক্ষেপ বার বার সেই বাকশালকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই আগস্ট, ২০১৬ দুপুর ১২:০৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

জজ মিয়া চিত্রনাট্য নিয়ে নির্মিত হোচ্ছে ভয়ংকর নতুন সিক‍্যুয়াল!!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৪:৪৭



বিএনপির পুলিশ এতো করিৎকর্মা যে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে । খুনের তদন্ত করে একেবারে আদালতের রায় সহ রিপোর্ট দিয়ে দেয় ! পৃথিবীর সবচেয়ে আপগ্রেডেড আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন শিলং সালাউদ্দিনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কালবেলার মুগ্ধতা থেকে নবকুমারের গ্ল্যামার দুনিয়ায়

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০



সমরেশ মজুমদার আমার বরাবরই প্রিয় লেখকদের একজন। কৈশোর আর যৌবনের এক বড় অংশ জুড়ে তিনি ছিলেন আমার মনোজগতে। বই কিনে পড়া, পাড়ার লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকার যদি ৩% হারে লোন দেয় দেশের প্রতিটি বাড়ীর ছাতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করলে বিদ্যুের কস্টের অনেকটাই কিছুটা সমাধান হইতে পারে।

লিখেছেন নতুন, ২৪ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:০৬


দেশে বর্তমানে Net Metering Guideline–2025 অনুযায়ী অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়া যায় এবং তা বিলের সঙ্গে সমন্বয় হয়। এটা খুবই ভালো একটা ব্যবস্থা, সরকারের উচিত এটাকে আরো উতসাহিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×