somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বর্তমান আ.লীগকে দেখলে বঙ্গবন্ধু গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করতেন(!)

১৬ ই আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক আগে একটা গল্প শুনেছিলাম। একদেশে এক স্বৈরাচারি রাজা ছিল। তার নিত্যনতুন পোশাকের প্রতি প্রচন্ড আকর্ষণ কাজ করতো। নিজে সেই পোশাক পরতো এবং দেশের মানুষকেও সেই পোশাক পরাতে বাধ্য করতো। নিত্যনতুন পোশাকের পরিকল্পনা করার জন্য সে উজির নিয়োগ দিয়েছিল। সেই উজির চিন্তাভাবনা করে বিভিন্ন পোশাকের ডিজাইন রাজার সামনে পেশ করতো। রাজার যেটা ভাল লাগতো সেটাকে অনুমোদন দিত এবং দর্জিরা দ্রুত সেই পোশাক তৈরী করতো। পোশাক বিষয়ক সেই উজির দির্ঘদিন নানা ডিজাইন পেশ করার পর নতুন কোন ডিজাইন খুজে পাচ্ছিল না। এদিকে রাজারও নতুন পোশাক পরার সময় হয়ে গেছে। পোশাকের ডিজাইন দিতে না পারলে তো গর্দানটাই যাবে হয়তো। তখন উজির ভাবল, রাজাতো নিজের প্রশংসা শুনতে ভীষন পছন্দ করে,তেল মেরে কথা বললেও রাজা বুঝতে পারে না! অতএব সেই তেলবাজির দিকেই এগুতে হবে। উজির রাজাকে প্রশংসায় ভাসিয়ে তেল মাখানো প্রশংসা বাণী শুনিয়ে প্রথমেই মন জয় করে নিলেন। তারপর রাজার কাছে নতুন পোশাকের ডিজাইন তুলে ধরলেন। সেই ডিজাইনে দেখা গেল,সেখানে কোন পোশাক নেই। পোশাকহীনতাই নতুন পোশাক। উজির বললেন, আলামপনা! বিশ্বের আর কোন রাজা এমন পোশাক জীবনে পরেনি! আপনি এবং আপনার দেশের মানুষকে এই পোশাক পরালে দেশ ধন্য হবে! আমরা গর্বিত জাতিতে পরিলত হবো। উজিরের এমন তেলবাজিতে রাজা উলঙ্গ পোশাক পরলেন সেই সাথে দেশবাসীকেও উলঙ্গ হতে বাধ্য করলেন।

আজকে আওয়ামিলীগ সরকারের অবস্থা হয়েছে উলঙ্গ রাজার মত। প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে তেলবাজি এবং কানপড়া দেবার মানুষের অভাব নেই। যার কারণে পিতার শোকদিবসকে আনন্দ দিবসে রূপান্তর করেও দেশনেত্রীর বোধদয় হয়নি। তার মা বাবা ভাই বোনদের মৃত্যু দিবসে সারা দেশে চললো বিরিয়ানী পার্টি এবং ভুড়িভোজ। ১৪ আগস্ট ঢাকা শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। প্রায় প্রতিটি এলাকাতে একটি করে প্যান্ডেল সাজানো এবং সেই প্যান্ডেলের নিচে একটি করে গরু বাঁধা! ১৫ আগস্ট সকালে যে চিত্র দেখলাম তাতে কারো মনে শোক ছিল বলে মনে হয় না! গান বাজনা এবং ঢোলের শব্দে মনে হচ্ছিল বিশেষ কোন আনন্দ আয়োজন। এতো গেল শুধু খাওয়া! তেলবাজির আরও অনেক কিছুই বাকি আছে।

১৫ আগস্ট উপলক্ষ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ একটি মানবন্ধন করে। সেই মানববন্ধনের ব্যানারে, ১৫ আগষ্টের হত্যাকান্ডের জন্য শেখ মুজিব বেগম ফজিলাতুন্নেছা সহ পলাতক খুনীদের বিচার দাবি করতে দেখা গেছে! চাটুকারীরও একটা সীমা আছে! যে বঙ্গুবন্ধুর হত্যাকান্ড তাদের হৃদয়ে কিংবা চেতনাবোধে নেই সেই হত্যাকান্ড নিয়ে এমনই ভুল হবার কথা! বঙ্গবন্ধুকেই স্বয়ং হত্যাকারী বানিয়ে দিল! এ দৃশ্য দেখলে বঙ্গবন্ধু হয়তো নিজেই আত্নহত্যা করতেন।



১৫ আগস্ট উপলক্ষ্যে আওয়ামিলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে বিভিন্ন পোস্ট এবং পোস্টার আফলোড করা হয়েছে। সেই পেজ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলার নবী বলে দাবি করা হয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ) আমরাতো জানি মুসলিমদের শেষ নবী হযর মুহাম্মাদ (সঃ) । তাহলে আওয়ামিলীগরা মুসলিম নয়? তারাও কি কাদিয়ানীদের মত ভিন্ন একটি খারেজী দল। যারা আল্লাহ ও কুরআনের আয়াত কে অস্বীকার করে বঙ্গবন্ধুকে নবী দাবি করছে।



দলবাজিরও একটা সীমা থাকা উচিত। কিন্তু যে আওয়ামিলীগ সব সময় সেক্যুলারিজমের কথা বলে আসছে, যারা বলে আসছে ধর্ম এবং রাজনীতি এক জিনিষ নয়! তারাই কিনা বঙ্গবন্ধুর ছবিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সাজিয়ে রেখেছে। তারাই কিনা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে! তারাই কিনা মোল্লা হুজুরদের মত ধর্মীয় ব্যক্তিদের স্বরনাপন্ন হচ্ছে! এক মুখে দুই কথা শুনলে কেমন বেঈমান বেঈমান গন্ধ পাওয়া যায়! তাহলে কি স্বাধীনতার স্বপক্ষের এই শক্তিও বেঈমান। তারা মসজিদেও আজ বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙ্গিয়ে প্রোগ্রাম করছে!


হায় সেক্যুলারিজম! হায় রাজনীতি!

মাঝে মাঝে মনে হয় আওয়ামিলীগ কি গাজা খেয়ে এসব উল্টাপাল্টা কাজ করছে! তখন আমাদের দেশের পত্রিকাগুলোর মাধ্যমে সেই উত্তর পেয়ে যাই! জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুলের টবে গাজার গাছ চাষের অপরাধে দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিঃষ্কার করা হয়েছে!



তাই তো বলি, ছাত্রলীগ এবং আওয়ামিলীগের নেতা কর্মীরা এতো উল্টা পাল্টা কাজ করে কিভাবে! আওয়ামিলীগ এদিকে গাজার নেশায় বুঁদ হয়ে আছে! ভিন্নদিকে নেত্রীর আশেপাশের তেলবাজ লোকরা নেত্রীকে উলঙ্গ করে দিচ্ছে আর নেত্রীও দেশবাসীকে উলঙ্গ করে দিচ্ছে! সর্বশেষে একথা বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি, বর্তমান আওয়ামিলীগের সার্বিক অবস্থা বঙ্গবন্ধু যদি সরোজমিনে দেখার সুযোগ পেতেন নির্ঘাত গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করতেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:০৩
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মরীচিকা

লিখেছেন সামিয়া, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:২৮


তোমার চোখে আমি প্রতিবার দেখি ঝড়ের ঘূর্ণি। সেই ঘূর্ণির ভেতরে জমে থাকে এমন এক শঙ্কা, যার কাছে পৌঁছাতে গেলেই আমার নিজের বুকের ভেতরটাও কেমন অস্থির হয়ে ওঠে। তবু আমি প্রতিদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×