দেশ এখন দু’ভাগে বিভক্ত! একদল মুক্তচিন্তকদের দলে আর অপরদল মৌলবাদের দলে। তথাকথিত মুক্তচিন্তকরা বরাবরই নিজেদেরকে বিজ্ঞানমনষ্ক বলে দাবি করে থাকেন। সেই দাবির অংশ হিসেবে তারা নারী স্বাধীনতার বুলি আওড়িয়ে থাকেন। নারী স্বাধীনতার আন্দোলন তারা বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। আর সেই লক্ষ্যে স্বামী সংসার সব ত্যাগ করে সুলতানা কামাল রোকেয়া প্রাচীরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের এই পরিশ্রমকে আমি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করি! ভিন্ন দিকে গোড়া মৌলবাদী মুসলিমরা নারীদেরকে পর্দার শিকল পরিয়ে ঘরে বন্দি করে রাখতে চায়! ইসলাম বলে নারীর জন্মই হয়ে সন্তান জন্মদান এবং লালন পালনের জন্য! নারীরাও মানুষ পুরুষরাও মানুষ! সেই দাবি থেকে তারা সমধিকার দাবি করে থাকেন! কিন্তু এই সমধিকারের বিরোধীতা জামাত শিবির হেফাজত ইসলাম সিন্ডিকেট আকারে করে আসছে! তাহলে কি ইসলাম নারীদেরকে পরোক্ষ ভাবে নির্যাতন করছে? ইসলামকে নারীদের পায়ে শিকল পরিয়ে দিচ্ছে? তাহলে কি ইসলাম মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে?
এতসব প্রশ্ন থেকে উত্তর খোঁজার জন্য মনোনিবেশ করলাম! উত্তর পেয়েও গেলাম! কিন্তু তথাকথিত মুক্তচিন্তক এবং বিজ্ঞানমনষ্ক দাবিকারকরা তো আবার মুসলিম মোল্লা বুদ্ধিজীবিদের কথাগুলো গ্রহণ করবেন না। তারা গ্রহণ করবেন কোন মার্কিনি বুদ্ধিজীবী অথবা ইহুদি বিজ্ঞানীর থিউরি।
নোবেল পুরষ্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত ফরাসী অর্থনীতিবিদ এলেক্সিস কারেল ‘একিন’ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে লিখেছেন, “ নারী ও পুরুষের মধ্যে যে বাস্তব পার্থক্য পাওয়া গেছে, তা তাদের মধ্যে যতোটা পার্থক্য অনুভুত হয়েছে , তার চেয়ে অনেক বেশি মৌলিক ধরনের। এই পার্থক্যের আসল কারণ হল, স্বয়ং টিস্যুগুলোর নির্মাণগত ব্যবধান এবং এক বিশেষ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তাদের জরায়ু থেকে তরলাকারে নির্গত হতে থাকে। এই মৌলিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত না হবার কারণে, নারী প্রগতির ধব্বজাধারীরা ভেবে বসেছে যে, নরনারীর উভয়ের দায়দায়িত্ব সমান হওয়া উচিত। আসলে নারী- পুরুষের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। তার দেহের এক একটা সেলে তার নারীত্বের সিল অংকিত রয়েছে। তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও মেরুমজ্জার অবস্থাও তদ্রুপ”।
সুইজারল্যান্ডের মননশীল লেখক ডব্লিউ রোপক বলেছেন, “ এই কাতারে নারীবাদিদের সেই উকিলও দাড়িয়ে আছে। সে তাকে পুরুষের সমান অধিকার আদায় করে দিতে চায়। কিন্তু যে রহস্যময় বিষয়গুলো এই মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে উকিল সাহেবগণ একেবারেই অজ্ঞ! বস্তুত ঐ পার্থক্যগুলোর বাস্তব কারণও রয়েছে।
পন্ডিত কোয়াল্ড স্কোয়ারস তার ‘যৌন মনস্বত্বে’ গ্রন্থে বলেছেন, “ নারীর শারীরিক বাগানের একটি বিশেষ অংশ বিশেষভাবে শুধু গর্ভধারনের জন্য নির্মিত হয়েছে। কোন নারীকে যদি তার দৈহিক ও মানসিক গঠনের দাবী পূরনে বাধা দেয়া হয় তবে সে তার জীবনী শক্তি হারিয়ে নির্জীব ও নিরানন্দ হয়ে যাবে। মাতৃত্ব দ্বারা সে একটি স্থানীয় ও তরতাজা সৌন্দর্য লাভ করে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, পুরুষের ব্যক্তিত্ব নারী থেকে সম্মূর্ণ ভিন্ন ধরনের। সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের হওয়াই যে অনিবার্য তা বুঝা কঠিন নয়। কেননা উভয়ের অস্তিত্ব পরস্পরের থেকে মৌলিকভাবে পৃথক। এই জৈবিক পার্থক্য শরীরের টিস্যুগুলো দিয়েই প্রকাশ পায়। নর-নারীর যৌনক্রিয়া একদিক থেকে বলবান করা ও অপরদিক দিয়ে ফলবান হওয়া দ্বারা এটা বাহ্যিক ও ঐন্দ্রিকভাবেই বোধগম্য”।
পন্ডিত কোয়াল্ড স্কোয়ারস তার বক্তব্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, “ আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ তার চাহিদা পূরণ করতে চায়। এই চাহিদা পূরনে বাধা দেয়া হলে সমগ্র শারীরিক ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়ে। নারীর নারীত্বের দাবি হল তার সন্তান প্রসব করা চাই। এটা শুধু তার জন্মগত মাতৃত্বের দাবিই নয়। এটা বাহিরে থেকে চাপানো কোন নৈতিক দায়িত্বের ফলশ্রুতিও নয়। বরং তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গের সমস্ত ব্যবস্থাই যখন সন্তানের প্রজননের উদ্দেশ্যে সৃষ্ট হয়েছে, তখন তার অঙ্গপ্রতঙ্গের এই দাবি পূরনে বাধা দেয়ার ফল শুভ হতে পারে না। এই বাধা দেবার পরিণাম একমাত্র এটাই হতে পারে যে, এই বঞ্জনা নারীর সমস্ত ব্যক্তিসত্তার উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করবে”।
প্রিয় নারী সমধিকার আদায়ে মুক্তমনা ব্লগারগণ! এখানে যাদের উদ্ধৃতি দিয়েছি তারা প্রত্যেকেই আপনাদের অতি প্রিয় ব্যক্তি। কারণ তারা কেউ ই নামধারী মুসলিম নয়। তারপরও কি আপনি বলবেন, এগুলো গোড়া মোল্লাদের বক্তব্য!
কুরআন যা বলে তা মানুষের মঙ্গলের জন্যই বলে! তা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল! তোমার নারী স্বাধীনতার মাধ্যমে তোমরা নারীদের উপর ডাবল কাজ চাপিয়ে দিচ্ছো! একবার বাহিরে অফিসে কলকারখানায় কাজ করতে হচ্ছে! আর একবার ঘরে ফিরে কাজ করতে হচ্ছে! তাহলে দেখা যাচ্ছে তোমাদের নারী স্বাধীনতার আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে নারীদের উপর কাজের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্চে। সেখানে ইসলাম শুধু বলে নারী সন্তান জন্ম দিবে এবং তাদের লালন পালন করবে। আর এটাই নারীদের জন্য অধিক সহজ কাজ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




