somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেইম! শেইম! বঙ্গবন্ধু তোমার জন্য শেইম!

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নূর হোসেন দিবস অথবা স্বৈরাচার বিরোধী দিবস। যাই বলুন না কেন গত ১০ নভেম্বর সেই দিবসটি চলে গেছে। আগের মত অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটি পালিত না হলেও মাইক বাজিয়ে জনা বিশেক মানুষের উপস্থিতিতে কয়েকটি উত্তেজনাকর বক্তব্যের মাধ্যমে অত্যন্ত ছোট পরিসরে হলেও দিনটিকে স্মরন করা হয়েছে। যারা দিনটিকে স্মরন করেছেন তাদের কাছে নূর হোসেন নিশ্চয়ই কৃতজ্ঞ থাকবেন। কারণ দেশের সরকার এবং মানুষ গণতন্ত্র কি তা বুঝতে গিয়ে স্বৈরাচার কি সেটাকেই ভুলে বসে আছে। স্বৈরাচার বিরোধী দিবস পালন তো আরও পরের কথা। তবে একটা চিত্র দেখে নূর হোসেন নিশ্চয়ই আনন্দিত হোন। তার আন্দোলনের দুই সাথী পরবর্তিতে দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সেই দুই সাথী ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে বসে কতটা গণতান্ত্রিক মনোভাব প্রদর্শন করেছেন, তা দেখলে হয়তো নূর হোসেন এর বুকে গুলি খাওয়ার প্রয়োজন ছিল না। ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ ফজলে রাব্বি হলের বট গাছটিতে স্বউদ্যোগে ঝুলে পড়তেন।



স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া এবং তার দল বিএনপি ক্ষমতার আসনটি অলংকৃত করলেন। দেশে চলল গণতন্ত্রান্ত্রিক সরকারের নামে স্বৈরাচারের আচরন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলল, বেগম জিয়ার ছাত্র সংগঠনের একছত্র আধিপত্য। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের হাতে নিহত হতে থাকে বিপরীত দলের নেতা কর্মীরা। এমন স্বৈরাচারি আচরন প্রদর্শনের পর বেগম জিয়ার ঘাড়েও এরশাদের প্রেত আত্না ভর করতে শুরু করল। তিনিও এরশাদের মত স্বৈরাচার হতে চাইলেন। স্বৈরাচার হতে গিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলেন। কিন্তু সেসময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামিলীগসহ দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে অস্বীকৃতি জানালেন। তারা জামায়াত ইসলামের তত্বকালীন আমীর যুদ্ধাপরাধের অপরাধে অভিযুক্ত অধ্যাপক গোলাম আযম এর দেখানো তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইলেন। কিন্তু বেগম জিয়া নিজের স্বৈরাচারি মনোভাবে অটল থাকলেন। রাষ্ট্রের আইন শৃঙ্খলায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীকে বিরোধীদের দমনের লক্ষ্যে লেলিয়ে দিলেন। তারপর দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করলেন। ফলাফল যা হবার কথা ছিল তাই হল। বিএনপি লোক দেখানো নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো ক্ষমতা দখল করল। কিন্তু মাত্র ১৬ দিন। হ্যা মাত্র ১৬ দিন এই স্বৈরাচারি সরকার টিকে ছিল। বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে বেগম জিয়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন। তারপর তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামিলীগ সরকার তথা শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করলেন।



এরপর মাঝখান দিয়ে কেটে গেল অনেকগুলো সময়। সেই সময়গুলোতে মনে হল বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশ থেকে স্বৈরাচারের কালো মেঘ হয়তো চিরদিনের জন্য কেটে গেছে। সেই কালো মেঘ হয়তো বাংলাদেশ এবং এই দেশের মানুষকে আর কখনো আচ্ছন্য করতে পারবে না। কিন্তু ২০০৬ সালে বাংলাদেশের ঘাড়ের উপর খাপটি মেরে বসে পড়ল মঈন এবং ফকরুদ্দীনের তত্বাবধায়ক সরকার। তারা দুই বছর নিজেদের ইচ্ছামত সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে দেশ পরিচালনা করে গেলেন।



সেই মঈন ফকরুদ্দীনের অধীনে নির্বাচনে আওয়ামিলীগ সরকার গঠন করল। সরকার প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর আসন অলংকৃত করলেন। শাসনের সময়কাল যত বাড়তে লাগল দেশের মানুষের কাছে গণতন্ত্রটি যেন ততোটাই ঝাপসা হতে লাগল। দমন নিপিড়ন চলল বিগত যেকোন সময়ের চেয়ে কয়েকগুন বেশি হারে। এই দম নিপিড়ন বাংলার মানুষের কাছে খুব একটা অপরিচিত নয়। এমন নিপিড়ন স্বাধীনতার আগেও যেমন ছিল আজও তেমনি আছে। মাঝখান থেকে শুধু শাসক বদলেছে। আগে বিদেশীরা ছিল আমাদের শাসক। আজ দেশীয় মানুষরাই শাসকের চেয়ারে বসে মুখে চাপা হাসি লাগিয়ে শোসন করে যাচ্ছে। সেই চাপা হাসির আড়ালে যে স্বৈরাচার হাসতেছে তা হয়তো নূর হোসেন প্রথম দেখাতেই বুঝতে পারতেন কিন্তু বাংলার মানুষ বুঝতে পারেন নি।







সেই স্বৈরাচাররের কালো মেঘ বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশকে আবারো অন্ধকার করে দিয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী দলীয় সরকারের অধীনে নামমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আবারো স্বৈরাচারী সরকার জেকে বসেছে। গ্রামের ভাষায় যাকে বলে জামড়ি মেরে বসা। যে বসার বলে দেয়, আমার বসবার নিয়ম আছে কিন্তু উঠবার কোন নিয়ম নাই। আমি নিয়মের ধোড়াই কেয়ার করি। আর ধোড়াই কেয়ার বোধ থেকেই নূর হোসেন এর সেদিনের স্বৈরাচার বিরোধী মিছিলের সাথী আজ কিনা এরশাদকেই পরম বন্ধু বানিয়ে ফেলেছেন। সেই স্বৈরাচার এরশাদই আজ বঙ্গবন্ধু কন্যার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

আজ বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে হয়তো তিনিও লজ্জায় মুখ লুকাতেন। যে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে স্বৈরাচারের শাসন থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়ে দেশ স্বাধীন করলেন, সেই বঙ্গবন্ধুর কন্যাই কিনা আজ স্বৈরাচারের আসনে মুখে চাপা হাসি লাগিয়ে বসে আছেন। শেইম! শেইম! বঙ্গবন্ধু তোমার জন্য শেইম!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৬ দুপুর ১:২৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×