somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১০ টাকার চাল নিয়ে আওয়ামিলীগের চালবাজি।

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে বঙ্গবন্ধুর কথা খুব মনে পড়ছে। তার কথাগুলো যেন আজ কানে বাজতেছে। তিনি যথার্থই নেতা ছিলেন। তিনি হিসেবে তার দলের কর্মীদের যাবতীয় অভ্যাসের কথা বলে দিতে পারতেন। যেমন তিনি স্বাধীনতার পরে পরেই বলেছিলেন, “৭ কোটি মানুষের ৭ কোটি কম্বল আনলাম। কিন্তু আমার কম্বলটি গেল কোথায়? সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পাই চোরের খনি”।

ভাববেন না, বঙ্গবন্ধু চলে যাবার সাথে সাথেই আওয়ামিলীগের এই চোররা সুবোধ বালকে পরিণত হয়েছে। বরঞ্জ সেই ৭১ এর পর তারা আরো পাকা চোর বনে গেছে। এখন তারা অনেক বেশি পরিণত। ৭১ এর আগে পূর্ব পাকিস্তানকে লুটেপুটে খেত পশ্চিম পাকিস্তানীরা। দেশ স্বাধীন হবার পর লুটেপুটে খাবার সেই একচ্ছত্র অধিকার চলে গেল আওয়ামিলীগের হাতে। ৭৫ পর্যন্ত তা প্রায় বিনা বাধায় চলল। বর্তমান সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখন দেশের প্রধানের আসন অলংকৃত করে বসে আছেন, ঠিক তখনই আওয়ামিলীগের সেই চুরি চামারির স্বভাব দেশবাসীর কাছে আরো একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল। কয়লা ধুইলে যেমন ময়লা যায় না আওয়ামিলীগও তেমনি তাদের চুরির স্বভাব ছাড়তে পারে না।

২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতিহারে আওয়ামিলীগ ঘোষনা দিয়েছিল, তারা ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষকে ১০ টাকার কেজিতে চাল খাওয়াবে। কৃষকদের বিনামূল্যে সার প্রদান করা হবে। পরবর্তিতে আওয়ামিলীগ এই কথাগুলো অস্বীকার করলেও ৫ জানুয়ারীর ক্যাংগারু নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় বসে ১০ টাকা কেজিতে চাল প্রদানের ঘোষনা দিল শেখ হাসিনার খাদ্য মন্ত্রনালয়। কিন্তু তা শুধুই গরীব মানুষদের জন্য। সেই লক্ষ্যে খাদ্য অধিদপ্তর ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠালেন। আপনার এলাকার গরীব মানুষদের নামের তালিকা করুন। তাদেরকে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে।

ইউপি চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ এলাকায় তালিক তৈরী করলেন। কিন্তু সেই তালিকা হাতে পাওয়ার পর দেখা গেল অধিকাংশ তালিকাভুক্তরাই অবস্থাসম্পন্ন মানুষ। আর এই অবস্থাসম্পন্ন মানুষরাও আওয়ামিলীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কয়েকদিন আগে ফেসবুকে দেখলাম, কোন এক এলাকায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় কেন্দ্রীক একটি অদ্ভুদ মাইকিং করা হচ্ছে। ‘যারা যারা কার্ড নিয়েছেন তারা দয়া করে নিজ নিজ ইউপি পরিষদে জমা দিয়ে যান”। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, সেখানে টাকার বিনিময়ে এইসকল কার্ড বিতরন করা হয়েছে। আর এই কার্ড বিক্রির কাজটিও করেছে আওয়ামিলীগ যুবলীগের নেতা কর্মীরা।



উপরের ঘটনাটি ঘটেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জে। স্বয়ং গোপাল গঞ্জের গোপালীরা যেখানে লুটে পুটে খাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি লাগিয়েছে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারী কি কোন কাজে আসবে? প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন, এই চাল নিয়ে যারা চালবাজি করবে তাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ার বাণী যেন সেই ন্যাকা বাণীর মত শোনায়, ‘এই দুষ্ট ছেলেরা তোমরা এসব কর না”। তা না হলে প্রধানমন্ত্রী এবং খাদ্য মন্ত্রীর বকর বকর স্বত্বেও আওয়ামিলীগের নেতা কর্মীরা কালোবাজারে এই চাল বিক্রি করতে পারতো না।



দেশের মানুষ কতটা কষ্টে আছে তা রাতের আধারে ঢাকা শহরের ফুটপাতগুলোর দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়। ফুটপাতগুলো উদ্বাস্তুদের রাত্রি বেলা ঘুমানোর একমাত্র জায়গা। তারা পেটের জ্বালা মেটাতে কাজের আশায় ঢাকা শহরে ভীড় করছে। কিন্তু কাজ কোথায় আর ভাত কোথায়? ভাত এখন আওয়ামিলীগের নেতা কর্মীদের ঘরে।



এখন সত্য কথা বললেই সবাই রাজাকার হয়ে যায়। যেমন করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কথা বলার কারণে আনু মুহাম্মাদ রাজাকার হয়ে যান। তেমনি আওয়ামিলীগের চুরিচামারি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমিও কোন না কোন ভাবে রাজাকার। এই রাজাকারের সারিতে আছে প্রথম আলোর মত পত্রিকাও। তারা রিপোর্ট করেছে, চাল বিতরনে ১০ টি অনিয়ম।



আসুন দেখে নেই সেই ১০টি অনিয়মগুলো কি কি?

১. গরিবের বদলে ধনীরা পাচ্ছেন

২. কোথাও ওজনে কম দেওয়া

৩. ৩০ কেজি চাল দেওয়ার টিপসই নিয়ে ১০–২০ কেজি দেওয়া

৪. তালিকা অনুমোদনের আগেই অনেক জায়গায় চাল বিতরণ শুরু

৫. অনেক এলাকায় হতদরিদ্রের নাম তালিকায় আসেনি

৬. চাল বিতরণে অনভিজ্ঞ দলীয় নেতা-কর্মীদের ডিলার নিয়োগ

৭. তালিকায় সরকারি চাকরিজীবী, স্কুলশিক্ষক ও ইউপি সদস্যের নাম

৮. খাদ্য বিভাগ থেকে নিম্নমানের চাল বিতরণ

৯. খোলাবাজারে বিক্রির ঘটনা

১০. নির্দিষ্ট সময়ে চাল বিক্রি হচ্ছে না

কিন্তু তারপরও বলতে হবে দেশ এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। সাধারণ মানুষের পেটে ভাত থাকুক আর নাই থাকুক বলতে হবে, দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষ এখন স্বাবলম্বী। কিন্তু বাস্তবতা হল, দেশের মানুষের মধ্যে যারা আওয়ামিলীগ করে শুধুমাত্র তারাই স্বাবলম্বী। কারণ তাদের চুরিচামারি করবার মত পর্যাপ্ত সুযোগ আছে। যা আপনার আমার এবং বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৫৩
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×