আজকে বঙ্গবন্ধুর কথা খুব মনে পড়ছে। তার কথাগুলো যেন আজ কানে বাজতেছে। তিনি যথার্থই নেতা ছিলেন। তিনি হিসেবে তার দলের কর্মীদের যাবতীয় অভ্যাসের কথা বলে দিতে পারতেন। যেমন তিনি স্বাধীনতার পরে পরেই বলেছিলেন, “৭ কোটি মানুষের ৭ কোটি কম্বল আনলাম। কিন্তু আমার কম্বলটি গেল কোথায়? সবাই পায় সোনার খনি আর আমি পাই চোরের খনি”।
ভাববেন না, বঙ্গবন্ধু চলে যাবার সাথে সাথেই আওয়ামিলীগের এই চোররা সুবোধ বালকে পরিণত হয়েছে। বরঞ্জ সেই ৭১ এর পর তারা আরো পাকা চোর বনে গেছে। এখন তারা অনেক বেশি পরিণত। ৭১ এর আগে পূর্ব পাকিস্তানকে লুটেপুটে খেত পশ্চিম পাকিস্তানীরা। দেশ স্বাধীন হবার পর লুটেপুটে খাবার সেই একচ্ছত্র অধিকার চলে গেল আওয়ামিলীগের হাতে। ৭৫ পর্যন্ত তা প্রায় বিনা বাধায় চলল। বর্তমান সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যখন দেশের প্রধানের আসন অলংকৃত করে বসে আছেন, ঠিক তখনই আওয়ামিলীগের সেই চুরি চামারির স্বভাব দেশবাসীর কাছে আরো একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল। কয়লা ধুইলে যেমন ময়লা যায় না আওয়ামিলীগও তেমনি তাদের চুরির স্বভাব ছাড়তে পারে না।
২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতিহারে আওয়ামিলীগ ঘোষনা দিয়েছিল, তারা ক্ষমতায় আসলে দেশের মানুষকে ১০ টাকার কেজিতে চাল খাওয়াবে। কৃষকদের বিনামূল্যে সার প্রদান করা হবে। পরবর্তিতে আওয়ামিলীগ এই কথাগুলো অস্বীকার করলেও ৫ জানুয়ারীর ক্যাংগারু নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় দফা ক্ষমতায় বসে ১০ টাকা কেজিতে চাল প্রদানের ঘোষনা দিল শেখ হাসিনার খাদ্য মন্ত্রনালয়। কিন্তু তা শুধুই গরীব মানুষদের জন্য। সেই লক্ষ্যে খাদ্য অধিদপ্তর ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠালেন। আপনার এলাকার গরীব মানুষদের নামের তালিকা করুন। তাদেরকে ১০ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে।
ইউপি চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ এলাকায় তালিক তৈরী করলেন। কিন্তু সেই তালিকা হাতে পাওয়ার পর দেখা গেল অধিকাংশ তালিকাভুক্তরাই অবস্থাসম্পন্ন মানুষ। আর এই অবস্থাসম্পন্ন মানুষরাও আওয়ামিলীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কয়েকদিন আগে ফেসবুকে দেখলাম, কোন এক এলাকায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় কেন্দ্রীক একটি অদ্ভুদ মাইকিং করা হচ্ছে। ‘যারা যারা কার্ড নিয়েছেন তারা দয়া করে নিজ নিজ ইউপি পরিষদে জমা দিয়ে যান”। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম, সেখানে টাকার বিনিময়ে এইসকল কার্ড বিতরন করা হয়েছে। আর এই কার্ড বিক্রির কাজটিও করেছে আওয়ামিলীগ যুবলীগের নেতা কর্মীরা।

উপরের ঘটনাটি ঘটেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জে। স্বয়ং গোপাল গঞ্জের গোপালীরা যেখানে লুটে পুটে খাওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি লাগিয়েছে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারী কি কোন কাজে আসবে? প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বললেন, এই চাল নিয়ে যারা চালবাজি করবে তাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ার বাণী যেন সেই ন্যাকা বাণীর মত শোনায়, ‘এই দুষ্ট ছেলেরা তোমরা এসব কর না”। তা না হলে প্রধানমন্ত্রী এবং খাদ্য মন্ত্রীর বকর বকর স্বত্বেও আওয়ামিলীগের নেতা কর্মীরা কালোবাজারে এই চাল বিক্রি করতে পারতো না।

দেশের মানুষ কতটা কষ্টে আছে তা রাতের আধারে ঢাকা শহরের ফুটপাতগুলোর দিকে তাকালেই স্পষ্ট বোঝা যায়। ফুটপাতগুলো উদ্বাস্তুদের রাত্রি বেলা ঘুমানোর একমাত্র জায়গা। তারা পেটের জ্বালা মেটাতে কাজের আশায় ঢাকা শহরে ভীড় করছে। কিন্তু কাজ কোথায় আর ভাত কোথায়? ভাত এখন আওয়ামিলীগের নেতা কর্মীদের ঘরে।

এখন সত্য কথা বললেই সবাই রাজাকার হয়ে যায়। যেমন করে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে কথা বলার কারণে আনু মুহাম্মাদ রাজাকার হয়ে যান। তেমনি আওয়ামিলীগের চুরিচামারি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমিও কোন না কোন ভাবে রাজাকার। এই রাজাকারের সারিতে আছে প্রথম আলোর মত পত্রিকাও। তারা রিপোর্ট করেছে, চাল বিতরনে ১০ টি অনিয়ম।

আসুন দেখে নেই সেই ১০টি অনিয়মগুলো কি কি?
১. গরিবের বদলে ধনীরা পাচ্ছেন
২. কোথাও ওজনে কম দেওয়া
৩. ৩০ কেজি চাল দেওয়ার টিপসই নিয়ে ১০–২০ কেজি দেওয়া
৪. তালিকা অনুমোদনের আগেই অনেক জায়গায় চাল বিতরণ শুরু
৫. অনেক এলাকায় হতদরিদ্রের নাম তালিকায় আসেনি
৬. চাল বিতরণে অনভিজ্ঞ দলীয় নেতা-কর্মীদের ডিলার নিয়োগ
৭. তালিকায় সরকারি চাকরিজীবী, স্কুলশিক্ষক ও ইউপি সদস্যের নাম
৮. খাদ্য বিভাগ থেকে নিম্নমানের চাল বিতরণ
৯. খোলাবাজারে বিক্রির ঘটনা
১০. নির্দিষ্ট সময়ে চাল বিক্রি হচ্ছে না
কিন্তু তারপরও বলতে হবে দেশ এগিয়ে চলছে দুর্বার গতিতে। সাধারণ মানুষের পেটে ভাত থাকুক আর নাই থাকুক বলতে হবে, দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। দেশের মানুষ এখন স্বাবলম্বী। কিন্তু বাস্তবতা হল, দেশের মানুষের মধ্যে যারা আওয়ামিলীগ করে শুধুমাত্র তারাই স্বাবলম্বী। কারণ তাদের চুরিচামারি করবার মত পর্যাপ্ত সুযোগ আছে। যা আপনার আমার এবং বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




