আল্লাহ ইবলিসকে বললেন আদম (আঃ)-কে সিজদা করতে, অথচ আমরা জানি ইসলামে আল্লাহ বাদে অন্য কাউকে সিজদা করা শির্ক। আবার ধরেন ইসলামে বলে ভাইবোনে যৌনসম্পর্ক অনৈতিক, কিন্তু আদম (আঃ)-এর ছেলেমেয়েদের জন্য আল্লাহ এরকম সম্পর্ক জায়েজ করেছিল। তাহলে আল্লাহ প্রদত্ত নৈতিকতার মানদন্ডও একেক জায়গায় একেক রকম হচ্ছে। তাছাড়া আমরা জানি বিভিন্ন নবীর কাছে নাজিলকৃত ইসলামের মূল ভিত্তি একই হলেও নানাসময়ে তাদের জন্য আল্লাহর হুকুম-আহকামের (শরীয়তের) মধ্যে পার্থক্য ছিল, মানে নৈতিকতার মানদন্ডে এখানেও সমস্যা আছে। তারমানে শুধু ইসলামের মধ্যেই নানাসময়ে নৈতিকতার মানদন্ড ভিন্ন।
আর আমরা যদি ইসলামে সীমাবদ্ধ না থেকে সবধর্মের দিকে তাকাই, তাহলে দেখা যাবে একধর্মের নৈতিকতা একেকরকম। এমনকি একইধর্মের মধ্যেও সময়-স্থানভেদে নৈতিকতার পার্থক্য আছে। সনাতন ধর্মে একসময় সতীদাহ প্রচলিত ছিল, সেটা এখন কেউ নৈতিক মনে করেনা, বিধবা-বিবাহ অনৈতিক ছিল, সেটা এখন কমন প্র্যাক্টিস। তেমনি বৌদ্ধ ধর্ম, খ্রিস্টান ধর্ম এসবের মধ্যেও অনেককিছু একসময় নৈতিক ছিল যা এখন অনৈতিক, আবার অনেক কিছু একসময় অনৈতিক ছিল যা এখন নৈতিক। তাহলে কোনটাকে আমি নৈতিক ধরব?
আমার আগের দুই পোস্টে বলেছিলাম ধর্ম বাদ দিয়ে শুধু সেক্যুলার এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে নৈতিকতার মানদন্ড ঠিক করা সম্ভব না। অথচ দেখা যাচ্ছে ধর্মের নৈতিকতার মানদন্ডকে ধরে নিলেও আমরা একই সমস্যাই পড়ছি। এটা বেশ ভাবনার বিষয় এবং সেক্যুলার শিক্ষিত লোকদের আদি প্রশ্ন। এ পোস্টে আমি এ বিষয়ে আমার ভাবনা শেয়ার করব।
০১.
যে কোন সমস্যার মুলে রয়েছে ডেফিনিশান, আমরা যদি সংজ্ঞার ব্যাপারে পরিষ্কার হয়ে যায়, তাহলে অনেক কনফিউশানই দূর হয়ে যায়। ইসলাম মতে প্রথম মানবিক জ্ঞান হচ্ছে সংজ্ঞায়ন করতে শিখা। আদম (আঃ)-কে আল্লাহ "সংজ্ঞা" বা নাম শিখিয়েছিলেন, এবং প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলেন সংজ্ঞা নিয়ে। তেমনি দর্শনের বড় অংশ জুড়েই সংজ্ঞায়ন করার কাজ। আদতে কোন বিষয়কে খুব স্পষ্টভাবে (প্রিসাইসলি) সংজ্ঞায়ন করতে পারার মধ্যেই সে সমস্যা বুঝার সমাধান নিহিত, এজন্য আল্লাহ আদম (আঃ)-কে প্রথম সংজ্ঞার জ্ঞান দিয়েছিলেন।
আমি এখন নৈতিকতাকে সংজ্ঞায়িত করব: সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব স্বীকার করে নিয়ে, তিনি যেসময়ে যেটা করতে বলেন সেটাই নৈতিক, আর যেসময়ে যেটা করতে নিষেধ করেন সেটাই অনৈতিক। কেননা শুধু তিনিই অবজেকটিভ রিয়ালিটি, অন্যসবই সাব্জেক্টিভ। তাই সৃষ্টিকর্তার আদেশ/নিষেধই নৈতিকতা, এবং নৈতিকতা মীমাংসার এটাই একমাত্র অব্জেকিভ মানদন্ড।
এই ডেফিনিশান অনুসারে ইবলিসের উপর আল্লাহর আদেশ ছিল আদম (আঃ)-কে সিজদা করা, তাই সেটাই সে অবস্থায় তার জন্য নৈতিক ছিল। আমাদেরকে আল্লাহ বলেছেন আল্লাহ ব্যতিত কাউকে সিজদা না করতে, সেজন্য আদম (আঃ) বা এমনকি মুহম্মদ (সাঃ)-কেও আমরা সিজদা করাটা অনৈতিক। আবার মুসলমানদের জন্য শুকরের মাংশ খাওয়া নাজায়েজ, কিন্তু কারো কোন রোগের জন্য যদি পর্ক খেলে রোগ সারে তখন তার জন্য সেটা খাওয়া নৈতিক। এখানে একই সময়েও দুজন ভিন্ন মুসলমানের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত নৈতিকতা অবস্থাভেদে ভিন্ন, কিন্তু সেটা আমি/আপনি ঠিক করছি না, ঠিক করছেন সৃষ্টিকর্তা। তেমনি আদম (আঃ) সন্তানরা জোড়া জোড়া হয়েছিল, এক ছেলে আর এক মেয়ে, এক জোড়ার ছেলেকে অন্য জোড়ার মেয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছিল, সেটা ছাড়া বংশবৃদ্ধির কোন ন্যাচারেল উপায় ছিল না। সেটা আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত কমান্ড, তাই সেটাই আদম (আঃ)-এর সন্তানের জন্য নৈতিকতা। পরবর্তীতে এরকম সম্পর্ককে আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন, তাই সেটা অনৈতিক হয়ে গেল।
ধর্মের সংজ্ঞায়িত নৈতিকতার মানদন্ডে ধার্মিক মানুষ অনৈতিক কাজ করতে পারে, আবার নাস্তিক মানুষও নৈতিক কাজ করতে পারে। কিন্তু সেই বিচারে যাওয়ার জন্যও আপনার ধর্মপ্রদত্ত নৈতিকতার সংজ্ঞা লাগবে, সেক্যুলার কোন সংজ্ঞা দিয়ে আপনি সে বিচার করতে পারবেন না। যেমন অনেক ধর্মের অনুসারীরা ওপনিবেশবাদ, গণহত্যা, লুন্টন এসবে জড়িত ছিল, কিন্তু এসবকে যদি খারাপ বলেন সেটাও ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকেই শুধু বলা সম্ভব, সেক্যুলার কোন মানদন্ড থেকে না। ধর্মের মানদন্ডে ধার্মিক/নিধার্মিক সবাইকেই বিচার করা যায়, সেক্যুলার মানদন্ডে সেক্যুলার/ধার্মিক কাউকেই বিচার করা যায় না।
০২.
এখানে আরেকটা সমস্যা হচ্ছে স্বষ্টিকর্তার সংজ্ঞায়িত নৈতিকতার মানদন্ডকে আমরা কিভাবে জানব? বিশেষ করে অনেক ধর্মই তো বলে তারা সৃষ্টিকর্তার সংজ্ঞায়িত নৈতিকতার মানদন্ডকেই মানদন্ড হিসেবে নেয়। হাজার হাজার ধর্মের মধ্যে কোন ধর্মের মানদন্ড সঠিক?
উল্লেখ্য ধর্মবিহীন মানদন্ডের চেয়ে ধর্মের মানদন্ড অনেক বেশি নৈর্ব্যক্তিক। কেননা সেক্যুলার মানদন্ড হবে জোর যার মুল্লুক তার, যার শক্তি আছে সেই ঠিক করবে দুর্বলের কি নৈতিকতা হবে। কোন ধর্মেই কিন্তু এরকম স্বৈরাচারি মানদন্ড স্বীকার করেনা। ধর্মগুলোর মধ্যে কমন অনেক বেশি, আনকমনের চেয়ে। তাই বিশ্বের সবগুলো ধর্মই বলে সত্য বলতে, অন্যের সেবা করতে, দূর্বলকে রক্ষা করতে। এই সহজ-সাধারণ কমন নৈতিকতাও কিন্তু আপনি সেক্যুলার নৈতিকতার মানদন্ড দিয়ে নির্ণয় করতে পারবেন না। তাই আপনি যদি কোন ধর্ম সঠিক সেটা বুঝতেও নাও পারেন, যে কোন ধর্ম অনুসরন করা সেক্যুলার/নাস্তিক হওয়ার চেয়ে নৈতিকতার দৃষ্টিতে শ্রেয়।
এখন কোন ধর্মের নৈতিকতার মানদন্ড সঠিক সেটা বুঝার জন্য আমাদের নৈতিকতার ডেফিনিশানে ফিরে যেতে হবে। যেহেতু সৃষ্টিকর্তার আদেশ/নিষেধই নৈতিকতা, সেহেতু যে ধর্ম সৃষ্টিকর্তার হুকুমকে যত বেশি ধারণ করে সেটার মানদন্ড তত বেশি সঠিক।
এই মীমাংসার অনেকগুলো আস্পেক্ট আছে। প্রথমত, ক্যান্ডিডেট ধর্মের একটা কথ্য/লেখ্য ধর্মগ্রন্থ থাকতে হবে, ধর্মগ্রন্থ না থাকলে সেখানে যে কেউ যা ইচ্ছে তাই ঢুকাতে পারে এবং সেটাকেই সৃষ্টিকর্তার বাণী হিসেবে দাবি করতে পারে। দ্বিতীয়ত, সে ধর্মগ্রন্থ নিজেই দাবি করতে হবে যে এটা সৃষ্টিকর্তার আদেশ/নিষেধ ধারণ করে। যদি সেটা না করে, তাহলে সেরকম ধর্মগ্রন্থকে সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত মনে করার কোন কারন নেই। তৃতীয়ত, যে ধর্মগ্রন্থ আমাদের কাছে তার আদিরূপ থেকে যত বেশি অপরিবর্তিত অবস্থায় এসেছে, সে ধর্মগ্রন্থই সৃষ্টিকর্তার প্রদত্ত নৈতিকতাকে ততবেশি ধারণ করে। কোন ধর্মগ্রন্থে যদি মানুষ পরিবর্তন/পরিবর্ধন করে থাকে, তাহলে সে গ্রন্থে কোনটা আল্লাহর আর কোনটা স্বার্থান্বেষী মানুষের সেটা বুঝা মুশকিল। চতুর্থত, যদি ধর্মগ্রন্থ কোন ব্যক্তির কাছে এসে থাকে স্রষ্ঠার কাছ থেকে, তখন সে ব্যক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা/সিনসিয়ারিটি কতটুকু সেটা নির্ণয় করতে হবে। এরকম ব্যক্তি যদি মিথ্যাবাদী হয় বা ধর্মের মাধ্যমে নিজের দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল করে, তাহলে সেটা আল্লাহর ধর্ম মানা কঠিন। সে ব্যক্তি তার বর্ণিত ধর্মের জন্য কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে রাজি সেটা দেখতে হবে, উক্ত ব্যক্তি কি তার ধর্মের জন্য জীবন দিতে রাজি আছে? শেষে, ধর্মগ্রন্থের মধ্যে কোন দাবি থাকলে সে দাবিসমূহ নৈর্ব্যক্তিক উপায়ে প্রমাণ/খন্ডন করা যায় কিনা সেটা দেখতে হবে। এই কয়েকটি টেস্টের মাধ্যমে আসলে সঠিক ধর্মের মানদন্ডে উপনীত হওয়া কঠিন না। এরপরে আরো অনেক ক্রাইটেরিয়া আছে যেসবের মাধ্যমে খুব রেশনাল উপায়ে মানুষকে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে সঠিক ধর্ম বেছে নেওয়া কঠিন কিছু না। লেখার আয়তন না বাড়ানোর জন্য আর সেখানে যাচ্ছিনা।
মুলকথা এখানেই শেষ। নীচে ইসলামিক থিয়লজিতে নৈতিকতার মানদন্ডের স্বরূপ কিরকম সেটার উপর সামান্য আলোকপাত করেছি। আগ্রহীরা পড়ে দেখতে পারেন।
০৩.
নৈতিকতার এই সংজ্ঞাই (সৃষ্টিকর্তার আদেশ/নিষেধই নৈতিকতা) স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে যে মানুষের জ্ঞান অপরিপূর্ণ, এবং শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার জ্ঞানই পরিপূর্ণ। তাই সৃষ্টিকর্তাই জানেন, আমি-আপনি জানিনা, কোনটা মানুষের জন্য কল্যানকর, কোনটা অকল্যানকর। মানুষের না জানার সবচেয়ে বড় কারন হচ্ছে মানুষ ভবিষ্যত দেখেনা, তাই কোন কর্মের ভবিষ্যত প্রভাব তার এবং সমাজের উপর কি হবে সেটা মানুষের পক্ষে বুঝা সম্ভব না। সৃষ্টিকর্তার কাছে সময়ও সৃষ্টি, তাই তিনি অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সমানভাবে জানেন। শুধু তাই না, তিনি প্রত্যেকটা কর্মের এবং তার প্রভাবের কাউন্টারফ্যাকচুয়াল (মানে যদি এটা না হয়ে অন্য কিছু হত তখন সেটার প্রভাব কার উপর কি হত) সেটাও জানেন, মানুষের পক্ষে সেটা জানা কোনদিন সম্ভব না। নৈতিকতার সিদ্ধান্তে আমার কাজে অন্যের উপর কি প্রভাব পড়বে, আমার নিজের ভবিষ্যতের উপর কি প্রভাব পড়বে, আর আমি যদি এ সিদ্ধান্ত না নিয়ে অন্য সিদ্ধান্ত নিই, সেক্ষেত্রে সেটার প্রভাব আমার/অন্যের উপর কি হবে (কাউন্টারফ্যাকচুয়াল), এসব জানা জরুরী। এই জ্ঞান শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তার আছে, তাই সৃষ্টিকর্তার আনুগত্য মেনে নেওয়াই এবং সে অনুসারে নৈতিকতার মানদন্ড ঠিক করাই বুদ্ধিমানের লক্ষণ।
সৃষ্টিকর্তার জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নেওয়ার আরেকটা দিক আছে, সেটা হল এই মেনে নেওয়ার মধ্যে মানুষের ইগোর (আমিত্বের) বিলোপ ঘটে। দুনিয়ার সকল সমস্যার মূলে মানুষের ইগো, সেটা যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায় তবে সমস্যার সংখ্যা অনেক কমে যায়। শয়তান ইগোতে ছিল, তাই সে গুনাহ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়নি, সে মনে করেছে সে আদম থেকে ভাল, যেটা ইগোর বহিঃপ্রকাশ। আদম (আঃ)-ও ভুল করেছিলেন, কিন্তু তিনি ভুল স্বীকার করে ইগোর উপর আল্লাহ শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন, আর আল্লাহ সেজন্য ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাই ইগোকে বশে আনার জন্যও আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করতে হবে।
সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত নৈতিকতার মানদন্ডের হাকীকাত (রিয়ালিটি) আমাদের অনেক সময় বুঝে আসতে পারে, আবার নাাও আসতে পারে। যেমন ব্যভিচার, মদপান, মানবহত্যা এসব সৃষ্টিকর্তার নৈতিকতার মানদন্ড অনুসারে অনৈতিক। আমরাও বুঝি যে এসব ব্যক্তিবিশেষের জন্য আনন্দদায়ক বা লাভের হলেও, পুরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর, তাই এসব অনৈতিক হওয়াই যুক্তিযুক্ত। কিন্তু শুকরের মাংশ খাওয়ার মধ্যে বিশেষ কোন ক্ষতি আছে বলে মনে হয়না, কিন্তু আল্লাহ যেহেতু নিষেধ করেছেন, সেজন্য সেটাই নৈতিক, সেটার পেছনে হাকীকাত আমার বুঝে না আসলেও। আদম (আঃ)-কে গাছের কাছে যেতে নিষেধ করেন আল্লাহ, কিন্তু কেন সেই নিষেধ সেটা বলেননি। আদম (আঃ)-এর নিজস্ব জ্ঞান দিয়ে বুঝেছেন ফল খাওয়াটাই ভাল, কিন্তু পরে দেখলেন ফল খেলে তার বাথরুম পাচ্ছে। সেরকম আমাদেরও যেহেতু আল্লাহর অসীম জ্ঞান/প্রজ্ঞা সম্পর্কে ধারনা নেই, তাই কোন একটা হুকুমের মাহাত্ব্য বুঝে না আসলেও সেটাই মেনে নিতে হবে। ডাক্তারের কাছে গিয়ে যেমন আপনার কোন একটা অষুধের সারমর্ম, প্রস্তুত প্রক্রিয়া, কর্মপ্রক্রিয়া বুঝে না আসলেও ডাক্তারের প্রেসক্রিপশান অনুসরন করেন সেরকম। কারন ডাক্তার জানে আপনার অসুখ সম্পর্কে, আপনি জানেন না। আল্লাহই মানবসমাজের অসুখের প্রক্রিয়া জানেন, তাই তাঁর প্রেসক্রিপশানই নৈতিকতা।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ সকাল ৮:৪৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



