somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

★আমাদের ক্রিকেটীয় বাস্তবতা★

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




ক্রিকেট খেলাটিকে অপছন্দ করবে এরকম মানুষ নিত্যন্তই কম পাওয়া যাবে বাংলাদেশে । বাংলাদেশ জিতলে মানুষ আনন্দে আপ্লুত হয়ে যায়, আমিও কম যায়না। তবে একটু কাটছাড় বিশ্লেষণ করে দেখা যাক ক্রিকেটের এপিট ওপিঠ। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।
.
বাংলাদেশের পত্রিকা গুলা নিয়মিত অনলাইনে স্ক্রল করতেই থাকি।বরাবরই পছন্দবসত বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে কৌতুহল থাকে, কিন্তু অবস্থা এমন হয় যে, কোন সিরিজ/ টুর্নামেন্ট শুরু হলে আর কোন নিউজ খুজে পাওয়া যায়না। অথচ আন্তর্জাতিক খেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনই ঢাকা পড়ে যায় এর আড়ালে অবডালে। আর মিডিয়ার কথা না হয় বাদ দিলাম, ইনারা ত রীতিমত নাচানাচি করে চরমভাবে উৎফুল্ল হয়ে থাকেন।
.
দর্শকরাই খেলার প্রধান প্রেরনার বস্তু।আপনি খেয়াল করবেন ইউরোপ ক্রিকেটে মাঠের দর্শকরা কতটা ভদ্রতার সাথে উপভোগ করে খেলা, এমনকি তারা সফরকারী দলকেও হাততালি দিয়ে বাহবা দিয়ে অনুপ্রেরণা দেই।
আর বাংলাদেশের দর্শকের খেয়াল করুন, তাদের গলাফাটা চিৎকার,স্লেজিং, উন্মাদীয় আবেগ একটা খেলার সৌন্দর্যকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যায় তার বিবেচনার ভার আপনাদের উপরই দিয়ে গেলাম।
এরা বাউন্ডারি লাইনের সফরকারী দলের খেলোয়াড়দের গালিগালাজ কিংবা ভুয়া বলে তিরস্কার করে, এমনকি নিজ দেশের খেলোয়াড়দেরও রেহাই দেইনা। এজন্যই ভাগ্যিস লোহার গ্রিল দিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে দর্শকদের নিরাপদ দুরুত্ব বজায় রাখেন কতৃপক্ষরা।পার্থক্য টা এখানেই ইউরোপদের সাথে।
.
প্রতিটা খেলোয়াড়ের দুর্দান্ত ক্রিকেটিয় প্রতিভা থাকলেও তাদের থেকে ব্যক্তিগত জীবন থাকে। এটাই স্বাভাবিক, আমাদের মতও তাদের পরিবার/ বউ সংসার থাকে। নানা অঙ্গনে কেও সমালোচিত হলেও,আমরা গনহারে সবার ব্যক্তিগত লাইফ নিয়ে মুখিয়ে থাকি।একটু টু পেলেই অশ্লীল প্রলাপ কিংবা ট্রল করে ধুয়ে দেই। আমরা বুঝিইনা যে তারাও আমাদের মত মানুষ। আমরা তাদের বউ/গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ট্রল করতে মহাব্যস্ত থাকি। কষ্টি পাথরে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে থাকি তাদের লাইফ স্টাইল। কি নিচু মন মানসিকতা আমাদের.?
.
একটা চিরন্তন সত্য হলো, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে কোন প্লেয়ার ঢুকে তখন তিনি স্বরুপে জ্বলে উঠেন, কিন্তু ধারাবাহিক হতে পারেননা। নানা কারনে পিছিয়ে যান সবুজ মাঠের প্রতিযোগীদের। খেয়াল করবেন আমাদের ক্রিকেট টিমে পঞ্চপান্ডব (তামিম, মুশফিক,সাকিব,মাশরাফি, মাহমুদউল্লাহ) ছাড়া কেও ধারাবাহিক হতে পারেননি। কেও তার ক্যারিয়ারকে ১০ বছর লম্বা করতে পারেননি, যেখানে অন্য দেশের ক্রিকেট প্লেয়াররা অনায়াসে একযুগ পার করে তাদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায়।
.
বিগত একযুগ ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে উন্নতি তা নিঃসন্দেহে প্রসংশার দাবী রাখে,প্রতিটা প্লেয়ারের অদ্ভুত কম্বিনেশন, Ranking এর উন্নতি,,বাঘা বাঘা টিমকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে হারানো কিংবা প্রতিপক্ষের আতংকের নামে পরিনত হওয়া এটা আমাদের অবশ্যই গৌরবের। বলা যায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম গর্বের সাথে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে।
.
শিরোনামের বাইরে বাংলাদেশের "ফুটবল" নিয়ে কিছু বলি, এখন মোটামুটি বাংলাদেশ ফুটবল দলের Ranking ১৯৫, শেষ ৫ বছরে মনে হয় এ জায়গা থেকে কখনো নড়েনি ফুটবল দল। পরিকল্পনাহীন দলের কম্বিনেশনের ঘাটতি, ঘরোয়া লীগ গুলোর বেহাল দশা, অপরিকল্পিত মাঠ, পারফরম্যান্সের ঘাটতি, নিম্নমানের কোচ এসব কিছুই কাল হয়ে দাড়িয়েছে বাংলাদেশের ফুটবলের। যেখানে পার্শ্ববর্তী গরীব দেশের ফুটবল টিমগুলো আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত সব দিক দিয়ে।
আর ফুটবল প্লেয়ারদের ফিটনিস নিয়ে একটু বলব, একবার কলকাতায় একটি লীগের ফাইনাল খেলায় নির্ধারিত ৯০ মিনিট পার হয়ে যায়, ত বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা সে সময় ঠিকমত ফুটবলে প্রেসিং করতে পারছিলনাহ। তাহলে বুঝুন তাদের ফিটনেস ?
যেখানে ক্রিকেট নিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে, সেখানে ফুটবলীয় প্রতিভা নিয়ে লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়।
.
আমরা বাঙ্গালী। আমাদের আবেগ আকাশচুম্বী। একবার বাংলাদেশ ক্রিকেট একটি ম্যাচে হেরে যাওয়ার কারনে আমার পাশের বাসার আঙ্কেল রাগে আছাড় দিয়ে মোবাইল ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। আরও কত দুঃখ দুঃসময়ের সাক্ষী আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেটের দর্শকরা তা না হয় এখানে ঠাই না দেয়াটা সমীচীন মনে করলাম।

অনেক সময় আবেগীয় অভিব্যক্তি বিবেগকে বিসর্জন দেই তা চিরন্তন সত্য।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:১৫
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঘুমিয়ে আছে কারা

লিখেছেন আরমান আরজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৩৫




এখানে ঘুমিয়ে আছে কে?
আমি তো দেখছি সবাই জেগে
চাঁদ সূর্য হতে শুরু করে এ্যমাজন বনের অদ্ভুত প্রজাপতিটিও
ভিনগ্রহের শত বছর আয়ুর বাসিন্দারা
প্রতিটি ধূলিকণা এমনকি অদৃশ্য পবনও
গভীর সায়রের মৎস্যকন্যা হতে শুরু করে বিস্তৃত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জলরেখার নীচে

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫১

পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।

আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×