somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাকিস্তান ক্রিকেটের সঞ্জীবনি সুধা মালালা

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনাটি এখনো যাদের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি, তাদেরকে সংক্ষেপে বলছি-মেয়েটির নাম মালালা ইউসুফজাই। বয়স ১৪। তালেবানদের নৃশংসতার বিপক্ষে বিভিন্ন ব্লগে অনলবর্ষী বক্তব্য রেখে দ্রুতই আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়ে যায়। তাকে থামাতে মালালার মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে তালেবানের বুলেট। নিশ্চয়ই ভেবে কুল-কিনারা পাচ্ছেন না, ক্রিকেটের সঙ্গে এই নৃশংসতার সম্পর্ক কী?
সাদা চোখে কোন সম্পর্কই নেই। কিন্তুু অর্ন্তদৃষ্টিতে, সম্ভাবনা এন্তার !
শরৎ কেটে উঁকি দিচ্ছে শীতের আমেজ। ঋতুর এই পালাবদলের সঙ্গে পাকিস্তানও পা রাখল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটবিহীন টানা চতুর্থ ঘরোয়া মৌসুমে। ২০০৯ সালে লাহোরের সন্ত্রাসী হামলার পর টানা দুই বছর লেগেছে এ ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে। ওই সময় কোনো দেশকে নিমন্ত্রণ জানাতেও ভয় করতো পাকিস্তান। কিন্তু তৃতীয় মৌসুমে ক্ষীণ প্রভার দেখা মিললো। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে পাকিস্তান সফরে আসতে কোনোভাবে যেতে করালেন পিসিবি চেয়ারম্যান। কিন্তুু পদক্ষেপটা প্রশংসার হলেও তা ছিল অপরিপক্ক চিন্তার ফসল। তালেবানের নখদন্তে ক্রমাগত রক্তপাত হতে থাকা পাকিস্তানে বাকি ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো কেন সফর করবে- তার জবাব নেই পিসিবির কাছে। অনিবার্যভাবেই তাই বাংলাদেশের পাকিস্তান সফর আলোচনার টেবিলেই মরে গেছে।
পেটে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্ষুধা নিয়ে ঘুমোতে যাওয়া মোটেও সহজ ব্যাপার নয়। পাকিস্তানও পারেনি। দিনপঞ্জির পৃষ্ঠা উল্টেছে, দেশটির হতাশার ডালি আরো ভারী হয়েছে। খরায় মোড়ানো মৌসুমগুলোই তার রাজসাক্ষী। অথচ বছরের ঠিক এই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট পিপাসুদের নাসারন্ধ্রে সুড়সুড়ির ঢেউ তুলে যাচ্ছে ক্রিকেটের সুঘ্রাণ। স্বর্ণজ্বলা সূর্যের তাপের সঙ্গে শুকনো বাতাস-তিনকাঠির এ খেলাটির জন্য একেবারে আদর্শ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর বাতাসে এখন সে উৎসবের ধোঁয়াই উড়ছে। শ্রীলংকায় পূর্ণাঙ্গ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড। একই রেসিপি হাতে বাংলাদেশ সফরে যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইংল্যান্ড-ভারতের মর্যাদার লড়াইয়ে নিশান উড়ছে তো, সেই কবে থেকেই। শুধু একটা জায়গা এখনও ঊষর, বন্ধ্যা। সেটা, পাকিস্তান।
প্রতিভা ও প্রতিবেশীর বদলে ক্রমাগত সন্ত্রাস ও রক্তপাতকে নেমতন্ন করে চলেছে পাকিস্তান। কিন্তু বিস্ময়ে থ বনে যেতে হয় পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের হাল-হকিকত দেখে। এত দুর্বিপাকের পরও তাদের মেরুদণ্ড সোজা ! তিন বছর আগের সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত এখনও টানছে ঘরোয়া ক্রিকেট। এখনও সেই আগের মতোই, প্রাণটাকে হাতে নিয়ে টিকিটের জন্য লাইন দেয় ক্রিকেটভক্তরা। তাদের কানে প্রভাব বিস্তার করে ফেরিওয়ালার চড়া সুর। স্টেডিয়ামের প্রতিটি গেটেই থাকে তাড়াহুড়ার পদধ্বনি। টিকিট হাতে গেটে ঢোকার সময়ও সেই পুরোনো চিত্র। ভূঁড়িসর্বস্ব কিছু গোঁফওয়ালা পুলিশ অকারণেই চেষ্টা চালায় নিরাপত্তা বিধানের। সঙ্গে যাই থাকুক না কেন, তাদের হাত থেকে নিস্তার নেই। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে এরপর যদি কাঙ্ক্ষিত আসনটির দেখা পায় ক্রিকেটপিপাসুরা!
প্রায়শ্চিত্তের এই চিত্র বহির্জগতের জিভে জল আনতে যথেষ্ট। কিন্তু তাদের চাওয়াটা যখন নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান, তখন এসব 'পান্তাবুড়ি' খেলার ফুটো পয়সা মুল্যও নেই।
কিন্তুু এই দুর্ভিক্ষ কাটবে কীভাবে?
কারণের ঝুলিতে তাকানো যাক - গাদ্দাফি স্টেডিয়াম থেকে হাঁটার দূরত্বে গুলিবৃষ্টির মাঝে পড়ে পাকিস্তান সফরে আসা একটি টেস্ট দল। নিহতের সংখ্যা-ছয়জন পুলিশ, দু'জন সাধারণ নাগরিক এবং পিসিবির একজন ড্রাইভার। এছাড়াও মারাত্মকভাবে আহত হন এক আম্পায়ার। আর গোটা শ্রীলংকা দল সেদিন অনুভব করে নরক গুলজার।
শুধু ক্রিকেট দিয়ে এই শাপমোচনের চিন্তা দুরাশা। ঘটনাটা কবেই তো ক্রিকেটের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সেসব ভূ-রাজনৈতিক ব্যাপার-স্যাপার। তিনকাঠির খেলাটির কম্মো নয় এসব হজম করা।
পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর ব্যাপারে গণমাধ্যমে গলা ফাটাচ্ছেন পিসিবি চেয়ারম্যান জাকা আশরাফ। বোর্ডের আরেক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রাদেশিক ক্রীড়ামন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আলি শাহও বসে নেই। সনাথ জয়াসুরিয়ার বিশ্ব একাদশকে করাচিতে দুটি টি২০ প্রদর্শনী ম্যাচ খেলার বন্দোবস্ত করেছেন তিনি। পদক্ষেপগুলো প্রশংসার। কিন্তু তাতে ঘা পুরোপুরি শুকায় না। লঘু আরাম হয়, এই আর কী ! পাকিস্তান ক্রিকেটের দুর্যোগ কাটাতে প্রয়োজন কাঠামোগত মৌলিক পরিবর্তন। এমন কিছু, যা এর আগে কখনোই ঘটেনি।
তারই পথ দেখিয়েছেন মালালা!
সোয়াত উপত্যকা থেকে ব্রিটেনের হাসপাতাল-গুলি খেয়ে মালালা যখন এই দূরত্ব পাড়ি দিচ্ছেন তখন তার জন্য একতাবদ্ধ সমগ্র পাকিস্তান। দেশের দেহকোষে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার তালেবান এবং সেই অজুহাতে বহিঃশক্তির মহাপতঙ্গ ড্রোনের নিশানা পরীক্ষার চূড়ান্ত দফারফা করতে এখন মালালার ছায়াতলে জমায়েত গোটা পাকিস্তান। সেই আঁচে তালেবান বিশেষজ্ঞ আহমেদ রাশিদ যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী নিউইয়র্কারে লেখেন- 'ওই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে মারাত্মক পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে মালালা। পাকিস্তানকে জীবাণুমক্ত করতে তা সাহায্য করবে।'
সমস্যা দূরীকরণে আর কী চাই ? প্রথমত, কাশ্মীরের আপেল ছিঁড়ে খেতে তালেবানকে সঙ্গী করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। এই ভূত তাড়াতে হবে স্থায়ীভাবে। লেহনের পররাষ্ট্রনীতিও বাদ দিতে হবে। নইলে মালালাই হয়তো এই রসিকতার সর্বশেষ বলি, যার জন্য চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে কিংবা হবে।
বিজ্ঞজনেরা বলতে পারেন, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এক কিশোরী সাহসিকার সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেটকে তুলনার হেতু কী ? তারা কি ভুলে গেছেন, পাকিস্তানের ক্রিকেটের মাজা তো সেই কবে থেকেই কবরে! এখন তওবা পাঠ চলছে। তারপরও মানতেই হবে পাকিস্তানে ক্রিকেট কোনো রসিকতার বস্তু নয়। জনগণের কাছে আজও তা অলঙ্কারস্বরূপ। ঐতিহ্য প্রদর্শনের আভরণ। জাতীয় চিন্তা-চেতনার এক সুদৃঢ় ভিত্তি। সেখানকার মানুষ আজও বিশ্বাস করে, ক্রিকেটের জার্সি গায়ে চাপানো মানে পাকিস্তানকে সেবা করা !
শান্তির সুবাতাস সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা এখন আর স্বপ্ন নয় পাকিস্তানে। মালালার বজ্রমুষ্টি যদি শতাব্দীপ্রাচীন অন্ধকার দেয়ালে ফাটল ধরাতে পারে, তাহলে পাকিস্তানের ক্রিকেটেও একসময় আলোর রেখাপাত হবে। তখন হয়তো ভারত কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো নাকউঁচু শক্তিগুলোও এই 'মৃত্যূ উপতাক্যা'র মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে নিরাপত্তার অহেতুক বুলি আওড়াবে না। সেই বিজয় কি উৎসর্গীত হবে মালালার শৌর্যে ?
একরত্তি মেয়েটি ক্রিকেটের ভক্ত কি-না তা জানা যায়নি। কিন্তু তার উদাহারণে উদ্বুদ্ধ পাকিস্তানের মাটিতে যদি আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট ফিরে আসে, তাহলে মালালাও ওই চাঁদ-তারা জার্সি পরিহিত দলটির একজন হয়ে যাবে !


তথ্যসুত্র ঃ পাকপ্যাশন ডট নেটের ক্রিকেট লিখিয়ে এবং নিউরোসার্জন ডাঃ সাদ সাফকাতের নিবন্ধ অবলম্বনে।
লিংক ঃ Click This Link
প্রকাশের তারিখ ঃ ২১ অক্টোবর, ২০১২ ।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×