
অতি উৎসাহ ভাল না
হাদিসের মর্ম আমলে না নিয়ে, সময়ের বিবর্তনে যুগের চাহিদার আলোকে পরিবর্তিত অবস্থা, প্রেক্ষাপট এবং বাস্তবতাকে মাথায় না রেখে 'বিদআত', 'বিদআত' বলে যারা পৃথিবীকে মাথায় তুলতে চায়, ভাল মন্দ নির্বিশেষে সকল কাজকেই যারা বিদআত আখ্যায়িত করে মজা পেতে চান, বিদআত না হওয়া সত্বেও অনেক কল্যানকর কাজকে বিদআত বলে পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান ইসলামের অঙ্গহানি করে যারা 'অপূর্নাঙ্গ ইসলামকে' বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপনের দু:স্বপ্ন দেখেন, তাদের এরকম লম্ফঝম্ফ করাও সম্ভবত: নিকৃষ্ট বিদআতেরই নামান্তর। কারন, তাদের মত 'বিদআত', 'বিদআত' বলে এরকম জিকির রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা তার আসহাব রাদিআল্লাহু তাআ'-লা আনহুমদের কারও মধ্যে ছিল বলে শোনা যায় না।
সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু না জেনে সবকিছুকে বিদআত বলা ঠিক নয়
রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা তার আসহাব রাদিআল্লাহু তাআ'-লা আনহুম বিদআতের ব্যাপারে সবচে' সতর্ক ছিলেন। কিন্তু যেহেতু তাদের থেকে এরকম ভাল মন্দ যাচাই না করে পাইকারিভাবে সকল কিছুকে বিদআত বলার প্রবনতা প্রমানিত নেই, তাই বর্তমানের কথিত ব্যক্তিরাও তা করতে পারেন না। যদি করেন, নিশ্চয়ই তা বিদআত হবে। আধুনিককালের তথাকথিত অতি ধার্মিক সেজে বসা ব্যক্তিবর্গ, যারা বিদআত ছাড়া পৃথিবীতে দুই চোখে কিছু দেখেন কি না সন্দেহ, তাদের কাছে সবিনয় নিবেদন-
১। তারা গাড়িতে, প্লেনে, ট্রেনে, রকেটে কিভাবে ওঠেন? এগুলোতে উঠলে বিদআত হয় না? রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো জীবনে এগুলোতে চড়েননি! তাহলে?
২। তারা বহুতল মসজিদে নামাজ কিভাবে আদায় করেন? এতে বিদআত হয় না? রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তাঁর জীবদ্দশায় কখনও বহুতল কোনো মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন বলে শুনিনি। তাহলে?
৩। সবকিছুতে বিদআত খুঁজে বেড়ান যারা, তারা কি ইলেকট্রিক পাখা, ফ্রিজ, এসি, মোবাইল, রাইস কুকার, মোটর সাইকেল, বাইসাইকেল, মোটর যান ইত্যাদিতে চড়েন? চড়ে থাকলে তো বিপদ। রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তাঁর জীবদ্দশায় কখনও এগুলোতে একবারের জন্যও উঠে দেখেননি। তাহলে তারা উঠলে বিদআত হবে না?
৪। হজ্জ্বব্রত পালন করতে রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তাঁর জীবদ্দশায় কখনও বিমান কিংবা গাড়ি ব্যবহার করেননি। পদব্রজে কিংবা বড়জোর উটের পিঠে চড়ে পথ অতিক্রম করেছেন তিনি। তো, আজ যারা বিমানে চড়ে হজ্জ্বে যান তারা কি বিদআতে লিপ্ত নন? ভাল মন্দ সবকিছুতে যাদের বিদআতের গন্ধ শুকে বেড়ানো মজ্জাগত স্বভাব, তারা কোন্ বাহনে হজ্জ্বে গমন করেন? বিমান দিয়ে নয়কি? তখন বিদআত হয় না? একই মুখে তাদের কত কথা! কত রূপ!
৫। পবিত্র কাবা শরিফে লিফট লাগানো হয়েছে। এই ধরনের ইলেকট্রিক লিফট রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তাঁর জীবদ্দশায় কখনও ব্যবহার করার প্রশ্ন অবান্তর। কারন, যেহেতু একথা সবাই জানেন, তখন বিদ্যুত আবিষ্কার হয়নি। কাজেই যে ইলেকট্রিক লিফট রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তাঁর জীবদ্দশায় কখনও ব্যবহার করেননি, সেটা কাবা শরিফে কিভাবে লাগানো হল? এতবড়(!) বিদআত স্বয়ং বাইতুল্লাহতে কেমন করে সংঘটিত হতে পারে?
৬। তাদের বাসায় কি ফ্রিজ আছে? তারা কি ফ্রিজে তাদের খাবার দাবার রেখে থাকেন? আবার ফ্রিজ থেকে বের করে প্রয়োজনমত সেগুলো ভক্ষন করে থাকেন? এটা কিভাবে তারা করেন? রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো তাঁর জীবদ্দশায় কখনও ফ্রিজ ব্যবহার করেননি। তো, না বুঝেই যারা ভাল মন্দ প্রত্যেক কর্মকে 'বিদআত' বলে সুখ পান, তাদের কি অবস্থা? তারা কি ফ্রিজ ব্যবহার বাদ দিবেন? না কি আজকে এই জানার পরেও কঠিন(!) এই বিদআতে লিপ্তই থেকে যাবেন?
৭। রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুটি খেতেন। যাতায় পেষা আটা দিয়ে তৈরি রুটি খেতেন। কখনও কলে ভাঙ্গানো আটা, যব, গমের রুটি তিনি তাঁর জীবনে খেয়ে দেখেননি। হাসানাহ, সাইয়্যিআহ যাচাই বাছাই ছাড়াই 'বিদআত', 'বিদআত' বলে চিল্লাফাল্লা যারা করেন, তাদের অবস্থা কি? তারা এই বিদআত সম্পর্কে সচেতন তো? কলে ভাঙানো আটা দিয়ে রুটি, সেই রুটি দিয়ে গোসত, তারা খান না তো? খেলে কিন্তু খবর আছে! কুল্লু বিদআতিন ফিন্না-র। সমস্ত বিদআত জাহান্নামের পথ।
এবার আসুন, বিদআতকে খোলাসা করার লক্ষ্যে কিছু কথা বলি-
বিদ‘আতের সংজ্ঞা
আভিধানিকভাবে বিদ‘আত শব্দটি البدع শব্দ হতে গৃহীত- যার অর্থ হলো পূর্ববর্তী কোনো উদাহরণ ছাড়াই কোনো কিছু সৃষ্টি বা আবিষ্কার করা। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿بَدِيعُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۖ ﴾ [البقرة: ١١٧]
“তিনিই আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিকারী।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১১৭] অর্থাৎ পূর্ববর্তী কোনো নমুনা ছাড়াই এত-দু-ভয়ের তিনি সৃষ্টিকর্তা।
আল্লাহ অন্যত্র আরো বলেন,
﴿قُلۡ مَا كُنتُ بِدۡعٗا مِّنَ ٱلرُّسُلِ﴾ [الاحقاف: ٩]
“বলুন, আমি কোনো নতুন রাসূলুল্লাহ নই।” [সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ৯] অর্থাৎ আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের প্রতি বার্তা-বাহক প্রথম রাসূল নই; বরং আমার পূর্বে আরো বহু রাসূল আগমন করেছেন। বলা হয়ে থাকে ‘অমুক ব্যক্তি একটি বিদ‘আত উদ্ভাবন করেছে’ অর্থাৎ এমন এক পন্থা প্রচলন করেছে যা তার পূর্বে আর কেউ করে নি।
বিদআতকে প্রথমত: দু’ভাগে ভাগ করা যায়
১। বিদআতে হাসানাহ: বিদআতে হাসানাহ, মানে উত্তম আবিষ্কার, কল্যানকর উদ্ভাবন। মানুষের জন্য কল্যানকর যে কোনো আবিষ্কার যা, পূর্বে ছিল না, তাকেই বিদআতে হাসানাহ বলা যায়। আধুনিক কম্পিউটার, চিকিতসা ব্যবস্থার যন্ত্রাদি ইত্যাদি সবই এই প্রকারের অন্তর্ভূক্ত।
২। বিদআতে সাইয়্যিআহ: পূর্বে ছিল না, এমন ক্ষতিকর জিনিষের উদ্ভাবনকে বিদআতে সাইয়্যিআহ বলে। যেমন: জন্মদিবস, মৃত্যুদিবস, ইত্যাদি পালন করা।
বিদআতকে প্রথাগতভাবে আবার দু’ভাগে ভাগ করা যায়
১. প্রথাগত বিদআত: যেমন আধুনিক আবিষ্কৃত বস্তুসমূহের উদ্ভাবন। এটি মুবাহ এবং জায়েয। কেননা প্রথার ক্ষেত্রে ইবাহাত তথা বৈধ হওয়াই মূলনীতি (যতক্ষণ পর্যন্ত ‘না জায়েয’ হওয়ার দলীল পাওয়া না যায়।)
২. ধর্মীয় ক্ষেত্রে বিদআত: তা হলো দীনের মধ্যে কোনো বিদ‘আত সৃষ্টি। এটি হারাম। কেননা দীনের ক্ষেত্রে অনুসৃত নীতি হলো, তাওকীফী অর্থাৎ পুরোপুরি কুরআন-সুন্নাহের উপর নির্ভরশীল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ، فَهُوَ رَدٌّ»
“যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনে এমন কিছু উদ্ভাবন করবে, যা দীনের অন্তর্গত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত”।
«مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ»
“কোনো ব্যক্তি যদি এমন কাজ করে যা আমাদের দীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত”।
দ্বিতীয়ত: বিদ‘আতের প্রকারভেদ
দীনের ক্ষেত্রে বিদ‘আত দু’শ্রেণিতে বিভক্ত:
প্রথম শ্রেণি: কথা ও আকীদার ক্ষেত্রে বিদ‘আত। যেমন জাহমিয়া, মুতাযিলা, রাফেযা ও যাবতীয় ভ্রান্ত ফিরকাসমূহের বক্তব্য ও আকীদা।
দ্বিতীয় শ্রেণি: ইবাদাতের ক্ষেত্রে বিদ‘আত। যেমন, এমন পন্থায় আল্লাহর ইবাদাত করা যা তিনি অনুমোদন করেন নি। এটিও কয়েক প্রকার:
প্রথম প্রকার: মৌলিক ইবাদাতের ক্ষেত্রে যে বিদ‘আত হয়ে থাকে। যেমন, এমন এক ইবাদাত সৃষ্টি করা, শরী‘আতে যার কোনো দলীল নেই। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, এমন এক সালাত উদ্ভাবন করা যা শরী‘আতে অনুমোদিত নয় কিংবা এমন রোজার প্রচলন যা আসলেই শরী‘আতে অননুমোদিত অথবা শরী‘আত সমর্থিত নয় এমন সব উৎসব যেমন জন্মোৎসব প্রভৃতি পালন করা।
দ্বিতীয় প্রকার: শরী‘আতে অনুমোদিত ইবাদাতের ক্ষেত্রে কোনো কিছু সংযোজন ও বৃদ্ধি করা। যেমন, যোহর কিংবা আসর সালাতে এক রাকাত বাড়িয়ে পাঁচ রাকাত আদায় করা।
তৃতীয় প্রকার: শরী‘আত সিদ্ধ ইবাদাত আদায়ের পদ্ধতিতে যে বিদ‘আত হয়ে থাকে। যেমন শরী‘আত সিদ্ধ নয় এমন পন্থায় তা আদায় করা। এর উদাহরণ হলো: শরী‘আত অনুমোদিত যিকির এ দো‘আ ইজতেমায়ীভাবে একই তালে ও সুরে পাঠ করা। অনুরূপভাবে ইবাদাতের ক্ষেত্রে নিজের উপর এমন কঠোরতা আরোপ করা যদ্বরুণ সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত থেকে বের হয়ে যায়।
চতুর্থ প্রকার: শরী‘আত সিদ্ধ ইবাদাতের জন্য শরী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত নয়, এমন সময় নির্ধারণের মাধ্যমে যে বিদ‘আত করা হয়। যেমন, শা’বান মাসের ১৫ তারিখের দিন সাওমের জন্য নির্ধারিত করা। কেননা সাওম তো শরী‘আতসিদ্ধ; কিন্তু তাকে কোনো এক সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য দলীল থাকা চাই।
তৃতীয়ত: সকল শ্রেণি বিভাগসহ দীনের ক্ষেত্রে বিদ‘আতের হুকুম
দীনের ক্ষেত্রে সকল বিদ‘আতই হারাম ও ভ্রষ্টতা। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ، فَإِنَّ كُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ»
“নতুন নতুন বিষয় থেকে তোমরা বেঁচে থাক। কেননা প্রত্যেক নতুন বিষয়ই বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আত ভ্রষ্টতা”।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন,
«مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ فِيهِ، فَهُوَ رَدٌّ»
“যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনে এমন কিছু উদ্ভাবন করবে যা সে দীনের অন্তর্গত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত”।
« مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ »
“কোনো ব্যক্তি যদি এমন কাজ করে যা আমাদের দীনের অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত”।
হাদীস দু’টি দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, দীনের ক্ষেত্রে নব উদ্ভাবিত সকল পন্থাই বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আত ভ্রষ্টতা ও প্রত্যাখ্যাত। এ কথার অর্থ বিদ‘আত হারাম। তবে বিদ‘আতের শ্রেণি বিভাগ অনুযায়ী হারাম হওয়ার ব্যাপারটি বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। কেননা এর মধ্যে কিছু হল স্পষ্ট কুফুরী। যেমন, কবরবাসীদের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে কবরের চারপাশে তাওয়াফ করা এবং জবেহ করা ও মান্নত করা। কবরবাসীদের কাছে দো‘আ করা ও সাহায্য চাওয়া। অনুরূপভাবে এতে চরমপন্থী-জাহমিয়া ও মুতাযিলাদের বিভিন্ন বক্তব্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিদ‘আতের মধ্যে রয়েছে যা আকীদাগত ফাসেকী বলে পরিগণিত। যেমন, কথা ও আকীদার ক্ষেত্রে খারেজী, কাদরিয়া এবং মুরজিয়াদের বিদ‘আত যা শরী‘আতের দলীলসমূহের সরাসরি পরিপন্থী।
কিছু বিদ‘আত এমন রয়েছে যা গুনাহ বলে বিবেচিত। যেমন, দুনিয়াত্যাগী হওয়ার বিদ‘আত, রোদে দাঁড়িয়ে সাওম রাখা এবং যৌনকামনা দমনের জন্য অপারেশন করার বিদ‘আত।
বিদআত থেকে বাঁচতে আমাদের করনীয়
সহীহ হাদিসের নামে কুরআন ছেড়ে দেয়ার দু:সাহস দেখাব না। ইজমা এবং কিয়াস তথা, উম্মতের স্বর্নযুগ তথা, রাসূলে মাকবুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটবর্তী যুগগুলোর শীর্ষ স্কলার, যারা কুরআন হাদিস সুসমন্বিত করার পেছনে নিজেদের জীবন প্রান উতসর্গ করেছেন, অত:পর যাদের অতুলনীয় আত্মত্যাগ, অসামান্য কুরবানীর বদৌলতে আমরা দ্বীনের আলোয় আলোকিত করতে পারছি নিজেদের, তাদের সম্মিলিত মতামতকে অগ্রাহ্য করার ধৃষ্টতাও প্রদর্শন করব না। বরং কুরআন, হাদিস, ইজমা এবং কিয়াসের সমন্বয়ে গঠিত ইসলামী শরিয়াতের পরিপূর্ন অনুসরন করতে সচেষ্ট হব। বাতিলের সাথে কখনও আপোসে যাব না। হকপন্থী উলামায়ে কিরামকে নিজেদের পথপ্রদর্শক জ্ঞান করে তাদের থেকে জীবনের প্রয়োজনী পাথেয় কুড়িয়ে নেব।
আল্লাহ পাক আমাদের বিদআত থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। পাইকারিভাবে সকল কিছুকে বিদআত সাব্যস্তকারীদের খপ্পড় থেকেও আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন। সুন্নাত আঁকড়ে থাকার সৌভাগ্য নসীব করুন।

না বলা কথা: এই পোস্টটি সনেট কবি খ্যাত প্রখ্যাত ব্লগার জনাব ফরিদ আহমদ চৌধুরীকে উৎসর্গ করছি। মূলত: বিদআত নিয়ে তার সুন্দর একটি পোস্ট দেখেই এই পোস্ট লেখার অনুভূতি লাভ করি। তার জন্য শুভকামনা। সামু পরিবারের সকলকে রমাদানুল মুবারাকের আগাম শুভেচ্ছা। সকলেই ভাল থাকুন।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



