
এ বছর এসএসসি এবং সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী ৪ লাখ ৪৭ হাজার ছেলেমেয়ে ফেল করেছে। দু'দিন যাবত এই ফেল করা শিক্ষার্থীদের একাংশের অনাহুত পরিনতির বিষয়টি মাথায় জট পাকিয়ে আছে। বরাবরই দেখা যায়, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের পরপরই (বিশেষত: এসএসসি এবং সমমান) যেন অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর একটি মিছিল শুরু হয় আমাদের দেশে। কঁচি কাচারা সামান্যতেই ভেঙ্গে পড়ে। অল্পতেই তারা নিয়ে নেয় আত্মহত্যার মত ভয়ঙ্কর এবং চরম নিন্দনীয় সিদ্ধান্ত। তাদের দেখার জগত সীমিত। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অপরিপক্ক। তাদের চিন্তার পরিধি ক্ষুদ্র।
তারা জানে না, একটু ধৈর্য্য নিয়ে এগোলে আগামিতে তাদের ভাল ফলাফল করা সম্ভব। তাদের জ্ঞানের গভীরতা অতটা নয় যে, বাবার এক আধটু ধমক কিংবা মায়ের সামান্য একটু বকুনি, অথবা ভাইয়ের এতটুকু চোখ রাঙানি তারই মঙ্গলের জন্য। এগুলোকে কেন্দ্র করেই তো বিপজ্জনক ঘটনাগুলো ঘটতে দেখা যায়। ফেল করা পরিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে তো এই ধরনের অতি সাধারন কারনগুলোই থেকে থাকে।
তারা জানে না, একাডেমিক পরিক্ষায় ফেল করা ব্যক্তিবর্গের অনেকেই বিগত দিনে বিশ্বকে আলো দিয়েছেন। আলোকিত মানুষ হয়েছেন। একাডেমিক পরিক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরিবারের নিকটজনদের কাছ থেকে এই দু:সময়ে যথার্থ আন্তরিকতা পায় না। অভিভাবকদের বিচক্ষনতা, সহনশীলতা এবং ধৈর্য্য-স্থৈর্য্যের অভাবে হারিয়ে যায় কঁচিকাচা তাজা প্রান। জীবনকে চেনার পূর্বেই পাড়ি জমিয়ে বসে অচিন দেশে। ফুল হয়ে ফোটার আগেই বৃন্তচ্যূত হয়ে যায় পুষ্প কলিগুলো।
আত্মহত্যা মহাপাপ। সন্দেহাতীতভাবে হারাম। আল্লাহ পাক কুরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَأْكُلُواْ أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلاَّ أَن تَكُونَ تِجَارَةً عَن تَرَاضٍ مِّنكُمْ وَلاَ تَقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ إِنَّ اللّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا
''হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।'' সূরা আন নিসা, আয়াত-২৯
চরম ঘৃন্য এই কর্মটিকে ইসলাম কতটা অপছন্দ করে তার প্রমান মেলে, ইসলামী শরীয়াত আত্মহত্যাকারীর জানাজা পর্যন্ত পড়াতে নিরুতসাহিত করেছে ফেমাস কোনো আলেমকে দিয়ে। নিতান্ত দায়সারাভাবে তার প্রতি পার্থিব জীবনের শেষ এই আয়োজনগুলো এই কারনে করতে বলা হয়েছে, যাতে অন্যরা শিক্ষা পেতে পারে যে, এটা কতটা ঘৃন্য কাজ।
আচ্ছা, যারা অকৃতকার্য হয় তাদের এই অনাকাঙ্খিত পরিনতিতে আমাদের করনীয় কী?
আমাদের, অভিভাবকদের উপর সন্তানদের ভাল-মন্দ নির্ভর করে। অভিভাবকের একটু অসচেতনতা মুহূর্তে ঘটিয়ে দিতে পারে অবর্ননীয় বিপদ। আপনার প্রানপ্রিয় যে সন্তানটি পাশ করতে পারেনি, তার অবুজ সবুজ মনটা এমনিতেই ভাঙ্গা। মানসিকভাবে এমনিতেই সে হতদ্যম। এ অবস্থায় তাকে তিরষ্কার না করে সাহস দিন, ভর্ৎসনা না করে উতসাহ দিন, গাল-মন্দ না করে আদর সোহাগ দিন। দেখবেন, আপনার আন্তরিক আচরন বদলে দিতে পারে তার বদ অভ্যাস পর্যন্ত। পরবর্তী বছরে আপনার এই একটু আদর, একটু ভালবাসাকে পুজি করে গড়ে উঠতে পারে নতুন স্বপ্ন। টেস্ট করে দেখুন না একবার।

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



