somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

না ফেরার দেশে চলে যাওয়া অরিত্রী; দু:খকাতর বর্নমালার লুকানো কিছু কান্না।

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হ্যাঁ, যাদের কারনে চলে যেতে হলো অরিত্রীকে, তাদেরকেই বলছি। এরা কি সত্যিই শিক্ষক? শিক্ষক হওয়ার নূন্যতম যোগ্যতাও কি তাদের আচরনে প্রতিফলিত হয়? ক্ষমা, উদারতা, মহত্ব, মানবিকতা না থাকলে তাদের কাছ থেকে আমাদের শিশুরাই বা কি শিখবে?

ভাবতেই আশ্চর্য লাগে, একটি শিশু পায়ে ধরে ক্ষমা চাচ্ছে! শিশুর অভিভাবক জন্মদাতা পিতা মাতা শিশুটির পক্ষে আবেদন নিবেদন করছেন! অথচ, কোনো কিছুতেই তাদের মন গলছে না, এ কেমন নিষ্ঠুরতা?

কোনো দীর্ঘসূত্রিতা নয়, ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক দ্রুত বিচার হোক।

অরিত্রি, মা, তোমাকে বলছি-

অরিত্রী, জানি, তুমি ফিরে আসবে না। চলে গেছ না ফেরার দেশে। তোমার চলে যাওয়া আমাদের কাঁদায়। আমরা নির্বাক। নিস্তব্ধ। হতবাক।

অরিত্রী, তোমাকে অপমান করেছে। তোমার বাবা মাকে অপমান করা হয়েছে। তুমি প্রতিবাদ করেছো। প্রতিবাদের বহুমাত্রিক ভাষা থাকে। প্রতিবাদের কঠিন থেকে কঠিনতর পথটিই তুমি বেছে নিয়েছো। অরিত্রী, তোমার এই প্রতিবাদটি ভিন্নতর কোনো পদ্ধতিতেও তো হতে পারতো। তোমার অবুঝ মন সে সুযোগ হয়তো দিতে চায়নি তোমাকে। অপমানের গ্লানি সইতে না পেরে জীবনের মায় ছেড়ে দিয়ে তুমি চলে গেছো দূরে, বহু দূরে।

অরিত্রী, জানি, অপমান সইতে না পেরে তুমি কেঁদেছো। কঁচি বুক তোমার ভেঙ্গে গেছে অপমানের নির্মম আঘাতে আঘাতে। তুমি ক্ষমা চেয়েছিলে। তোমাকে ক্ষমা করা হয়নি। তুমি পায়ে পড়ে কেঁদেছিলে। অভাবিত অবজ্ঞায় তোমাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

অরিত্রী, তুমি তো পারতে তাদের মত ক্ষমাহীনদের ক্ষমা করে দিতে। তুমি কেন সেটা না করে এমন নির্মম প্রতিশোধ নিতে গেলে? জানি, তুমি লজ্জা পেয়েছো। বাবা মায়ের সামনে নিজের অপমান তুমি বরদাশত করতে পারোনি। নিজের সাক্ষাতে নিজেরই জন্য বাবা মা অপমানিত হবেন এই অনুভূতি তোমাকে ক্ষমা করেনি বলে তুমিও নিজেকে ক্ষমা করতে পারোনি। নিজের অপমান না হয় মেনে নিতে পারতে। কিন্তু বাবা মায়ের অপমান? চোখের সামনে বাবা মাকে অপমান হতে দেখেছো তুমি। এই কঠিন অপমান অপদস্ততার গ্লানি তোমার সম্মানে আঘাত করেছে। তোমাকে অস্থির আকুল করে তুলেছে। তুমি সইতে পারোনি। তুমি মেনে নিতে পারোনি। তুমি নিজেকে বোঝাতে গিয়েও পারোনি। নিজের বোঝাপড়ার সাথে হেরে গেছো বারবার। অবশেষে বেছে নিয়েছো শেষ সিদ্ধান্তটি। পৃথিবীর সবচে' কঠিন সিদ্ধান্ত। না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। অরিত্রী, মা আমার, এই কঠিন সিদ্ধান্তটি তুমি কেন নিলে?

অরিত্রী, আজ কোনো শোক প্রকাশ করবো না। শোকের কোনো কথাও বলবো না। তুমি চলে গেছো, তোমাকে ফেরানোর সাধ্য আমাদের নেই। তুমি আশির্বাদ করো, তোমার চলে যাওয়ার প্রতিবাদী এই দৃশ্য দেখে আমাদের ভেতরের কলুষ কালিমাগুলো আমরা যেন দূরীভূত করতে পারি। তোমার চলে যাওয়ার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা যেন শুদ্ধ সুস্থ হতে পারি। প্রজন্মের জন্য তোমার চলে যাওয়া দৃষ্টান্ত হয়ে থেকে যাক। তুমি যা শেখাতে চাইলে এই সমাজ জাতি তা যেন অক্ষরে অক্ষরে শিখে নিতে পারে, যাতে করে ভবিষ্যতে আর কোনো অরিত্রীকে তোমার মত এভাবে চলে যেতে না হয়।

অরিত্রী, তুমি যাদের কলিজার টুকরো ছিলে, সেই অভাগা স্বজনদের প্রতি আমাদের প্রানভরা সমবেদনা। তোমার দু:খকাতর নির্বাক বাবা আর শোকাহত দু:খিনী মায়ের জন্য আমাদের হৃদয়ের গহীন গভীর থেকে শান্তনা, সমবেদনা এবং শুভকামনা।

অরিত্রীর জন্য প্রতিবাদে সরব সকলকে ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×