somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

গুরুত্বপূর্ণ দৈনন্দিন আমল, পর্ব- দুই

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৯:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গতকালের পর ....

দ্বীনের খেদমতগার উলামায়ে হক এর গীবত শেকায়েত করা থেকে বেঁচে থাকুন

দেখতে আকার আকৃতিতে ছোট মনে হলেও গীবত এমনিতেই মস্ত বড় অপরাধ। আবার সেই অপরাধটি যদি সংঘটিত হয় আলেম উলামাদের বিরুদ্ধে তাহলে গীবতের গোনাহর সাথে আরেকটি অপরাধ যুক্ত হল। রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রেখে যাওয়া এই দ্বীনের জিম্মাদারিতে নিয়োজিত উলামায়ে হক এর অর্থহীন সমালোচনা থেকে বেঁচে থাকুন। কারণ, জেনে রাখা বিধেয়, এই কাজটিতে কোনো লাভের আশা তো করাই যায় না, বরং নিজের আমলনামা ভারী হওয়ার পাশাপাশি এতে নিজের দ্বীন এবং ঈমানের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। হ্যাঁ, তারাও যেহেতু মানুষ, ভুল ভ্রান্তি তাদেরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে থাকতেই পারে। ভুল ত্রুটি মুক্ত থাকতে হলে তো ফেরেশতা হওয়ার প্রয়োজন। তাদের কোনো ভুল যদি আপনার চোখে ধরা পড়ে, তাহলে সম্ভব হলে তাদের সাথে সাক্ষাত করে বিনীতভাবে তাকে বিষয়টি অবহিত করুন। আপনার পরামর্শ তাকে শোনান। যদি তা সম্ভব না হয়, মোবাইল ইন্টারনেটের এই যুগে তার নাম্বার সংগ্রহ করে তাকে ফোনে বিষয়টি জানাতে পারেন, যাতে তাদের সেসব ভুলের সংশোধন হয়ে যায়। এরকম সম্ভব আরও যেসব পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো এপ্লাই করা যেতে পারে। কেন বেহুদা গীবত শেকায়েত করে অন্যের পাপের বোঝা নিজের ঘাড়ে তুলতে যাবেন?

ইদানিংকালে অনেক লোককেই দেখা যায়, নিজে আলেম না হয়েও যত্রতত্র আলেম উলামাদের ভুল ধরে বেড়ান। তাদের শানে অকথ্য শব্দপ্রয়োগ করে তাদের সম্মানহানির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতেও পিছপা হন না। এটা খুবই গর্হিত কাজ। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, কিছু লোক যেন শুধুমাত্র আলেম উলামাদের দোষ তালাশেরই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তারা এই বিষয়ে সদা সতর্ক। অতিরঞ্জন, মিথ্যাচার, নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াসহ আলেম উলামাদের সাথে শিষ্টাচার পরিপন্থী ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে তারা কি সত্যিই অন্যের ভুল সংশোধনের ইচ্ছে পোষন করছেন? না কি নিজেদেরই বিপথগামীদের কাতারে যুক্ত করে নিচ্ছেন? ইদানিং এমনটাও লক্ষনীয়, অনেকে নিজের ইচ্ছের মাপকাঠিতে উলামায়ে কেরামের ভুল ধরতে চান। যদিও ইসলাম ধর্মের নিয়মানুসারে কোনটা যে ভুল আর কোনটা সঠিক তা-ও তার জানা নেই। জানা না থাকলেই কি? একা একা গবেষণা করেই কিংবা আল্লাহওয়ালাদের সুহবত-সাহচর্য বঞ্চিত দলছুট তথাকথিত আধুনিকমনা টেডি টাইপের শর্টকাট লাইনের মিডিয়াপ্রিয় ইসলামী চিন্তাবিদদের অনুসরণ করে দীনদার হতে চান। এই পথ সঠিক পথ নয়। এই পথ মদিনার পথ নয়। এই পথ স্পষ্টতই গোমরাহী ও বিপথগামীতার। তাই হকপন্থী আলেম উলামাদের সুহবত-সাহচর্য-সান্নিধ্য পরিহার করে দ্বীনের শেকড় কাটা নব্য কোনো ফিরকার ফাঁদে পা দেয়ার আগে আপনাকে ভাবতে হবে শতবার।

মালফুজাতে ইলিয়াস রহ. থেকে

হজরতজি মাওলানা ইলিয়াস রহ. বলেন, একজন সাধারণ মুসলমানের প্রতিও অকারণে কুধারণা করা ধ্বংস টেনে আনে। আর আলেমদের সমালোচনা তো অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের তাবলিগের নিয়মে মুসলমানের ইজ্জত ও আলেমদের সম্মান মৌলিক বিষয়। প্রত্যেক মুসলিমকে ইসলামের কারণে সম্মান করা উচিত এবং ইলমের কারণে আলেমদের অনেক সম্মান করা উচিত। [মালফুজাতে ইলিয়াস রহ. : ৫৬]

মুবাল্লেগগণ ‘আলেম ও আহলে জিকির’ এর সোহবতে উপকৃত হবে

হজরত আরও বলেন, ইলম ও জিকিরের কাজ এখন পর্যন্ত আমাদের মুবাল্লেগদের আয়ত্তে আসেনি। এটি আমাকে অনেক চিন্তিত করে। তা অর্জনের পথ হলো, এদের আলেম ও আহলে জিকিরের কাছে পাঠাতে হবে। তাহলে এরা তাদের তত্ত্বাবধানে তাবলিগ ও করবে এবং তাদের ইলম ও সোহবতে উপকৃতও হবে। [মালফুজাতে ইলিয়াস রহ. : ৫৬]

(যেমন-আমরা ছয় সিফতের ‘ইলম ও জিকিরের সিফতের’ আলোচনায় বলি, ফাযায়েলের ইলম আমরা তালিমের হালকায় বসে শিখি আর মাসায়েলের ইলম আমরা হক্কানি আলেমদের কাছে গিয়ে শিখি।)

হাদিসে এসেছে, প্রিয় নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

‘কুন আলিমান, আও মুতাআল্লিমান, আও মুহিব্বান, আও মুত্তাবিয়ান, ওয়ালা- তাকুন খামিছান ফাতুহলাকু।' (আল মুদখাল ইলাস সুনানিল কুবরা বায়হাক্বী।

অনুবাদ: 'তুমি আলেম হও অথবা আলেমের ছাত্র হও অথবা আলেমকে মুহব্বত করো অথবা আলেমের অনুসারী হও। কিন্তু পঞ্চম ব্যক্তি হবে না, তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবে। অর্থাৎ হক্কানী আলেমের অনুসারীও যদি না হও, তবে শয়তান তোমাকে ধ্বংস করে দিবে।

হকপন্থী আলেম উলামাদের সাথে মুহাব্বত রাখা ঈমানেরও পরিচায়ক। যেহেতু আলেম উলামাগন রাসূলে পাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওয়ারিস তথা উত্তরসূরী। প্রিয় নবীজীকে যারা ভালোবাসেন আলেম উলামাদের প্রতিও তাদের রয়েছে অন্তরের গভীর মুহাব্বত। এই মুহাব্বতই কিয়ামতের কঠিন দিনে তাদেরকে রাসূলের পাশে দাড় করিয়ে দিবে ইনশাআল্লাহ।

কথায় বলে না-

যার সাথে যার মুহাব্বত ,
তার সাথে তার কিয়ামত।

এই কথাটি মূলত: একটি হাদিসেরই প্রতিধ্বনি। হাদিসখানা হচ্ছে-

'মান তাশাব্বাহা বিকওমিন ফাহুঅ মিনহুম।'

যে যার অনুসরণ অনুকরণ করবে, সে তাদের ভেতরের গন্য হবে।

ইনশাআল্লাহ চলবে .... ।

ছবি: গুগল।

প্রথম পর্ব দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন-

গুরুত্বপূর্ণ দৈনন্দিন আমল, পর্ব-এক
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮:২৯
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

উন্মাদ; নেতা না জনগন

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



১। জনগন উন্মাদ, নাকি নেতা-পাতি নেতারা !!?? যেহেতেু জনগনই ভোট দিয়ে (বাংলাদেশ ছাড়া) নেতা নির্বাচন করে; বলা যায় জনগনের উন্মাদনা-ই নেতা-পাতি নেতাদের উন্মাদনা আরও বাড়িয়ে দেয় !!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়

লিখেছেন শাহেদ শাহরিয়ার জয়, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৩

আহ সময়,
তুমি শেখাও,আমি শিখি না।
তুমি পড়াও,আমি পড়ি না,
তুমি দেখাও, আমি দেখি না।
বলেছিলে- একদিন বুঝবো,
সবকিছু হারিয়ে খুঁজবো!


তুমি ভুল!

চেয়ে দেখো-
আমি আজো বুঝি না,
আজো হা-হুতাশ নিয়ে কিছু খুঁজি না!

বি:দ্র: অনেকদিন পর!কেউ আছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×