somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

পুরান ঢাকায় অগ্নিকান্ড, আবারও ৭০ লাশের দীর্ঘ মিছিল!

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন। পুড়ছে বাড়ি ঘরসহ সবকিছু।

অপরিকল্পিত নগরায়নের কুফল প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে আমাদের। আজ আবারও লাশের সারি আমাদের সামনে। সারি সারি লাশ। পোড়া লাশ। দগ্ধিভূত হওয়া লাশ। কয়লা হয়ে যাওয়া লাশ। ডজন ডজন লাশ দেখে আমাদের হৃদয় ভেঙে কান্নার বুদবুদ শব্দ উঠছে। আহ! কত মা তাদের সন্তানকে আর দেখতে পাবেন না! কত বাবা আদরের দুলালকে হারিয়ে আজ পাগলপ্রায়! কত সন্তান প্রিয়তম বাবা মাকে হারিয়ে নি:স্ব, অসহায়, ইয়াতিম আজ! এই দুরবস্থার শেষ কোথায়? এই পুরান ঢাকায়ই তো ২০১০ সালের কোনো এক দিন পুড়ে কয়লা হয়েছিল ১২৪ তাজা প্রাণ! কই, এত প্রাণের বিনিময়েও কি কোনো প্রতিকার আমরা করতে পেরেছি? পারিনি। পারিনি বলেই আজ আবার এই লাশের মিছিল। আজ আবার একে একে ৭০ লাশের দীর্ঘ দীঘল সারি দেখতে হচ্ছে। কানা গলি আর চিপাচুপার এই পুরান ঢাকায় আরও কত দুর্ঘটনা দেখতে হবে তাই বা কে জানে!



ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ আগুন।

শহর তো নয়, যেন মৃত্যু ফাঁদ। রাস্তা তো নয়, যেন গলি ঘুপচি। কানা গলি। শুধু অন্ধ গলি। এককালের সমৃদ্ধ এই অঞ্চলটি আজ যেন বসবাসেরই অনুপযোগী। রুচিশীল কোনো লোকের পক্ষে অত্র এলাকায় বসবাস কিংবা ব্যবসা বানিজ্য করা নিতান্ত কঠিন। অপরিকল্পিত, অব্যবস্থাপনাপ্রসূত এমন ঘিঞ্জি লোকালয়ে কল্পনা করা কঠিন। এখানে শৃঙ্খলা নেই, বাসা বাড়ির কোনো ছন্দ নেই, পরিকল্পনা নেই, রাস্তা ঘাটের কোনো আইন কানুন নেই। নিয়ম নেই। শৃঙ্খলা নেই। হদ্দ নেই। রুলস নেই। বাসা বাড়ি। তার সামনে মার্কেট। পেছনে মার্কেট। ডানে বহুতল ভবন। বামে বস্তির মত ঘিঞ্জি বসত ঘর। কোনো দিকেই আসা যাওয়ার কোনো সুব্যবস্থা নেই। বাসা বাড়িতে ঢোকার প্রশস্ত কোনো পথ নেই। মার্কেটে ঢোকারও কোনো পথ নেই। চিপা গলি দিয়ে বাঁকা হয়ে ঢুকতে হয় সে মার্কেটে। খাইবার গিরিপথ পেরোনোর অভিজ্ঞতা যেন ৫২ বাজার তিপ্পান্ন গলির এই শহরেই লাভ করার সুবন্দোবস্ত!



ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।

গতকালের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৭০ হলেও আহতাবস্থায় যাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে তাদের সংখ্যা আরও বেশি। আর কত মায়ের বুক খালি হলে কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাংবে? আর কত আদম সন্তান পুড়ে কয়লা হলে এই এলাকাটিকে পরিকল্পনা মোতাবেক বাসযোগ্য করা সম্ভব হবে? আগুনে পুড়ে মরার এই দু:স্বপ্নের হাত থেকে বাঁচার কোনো প্রতিবিধান কি কোনোভাবেই সম্ভব নয়?



ছড়িয়ে পড়ছে আগুনের লেলিহান শিখা।

যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। যারা চলে গেছেন না ফেরার দেশে, তাদের মাগফিরাত কামনা করছি। বিপদগ্রস্ত স্বজনহারাদের পাশে দাড়াক রাষ্ট্র এবং জনগন।



দূর থেকে আগুন জ্বলতে দেখা যাচ্ছে ভবনগুলোর ভেতরে।



ভয়াবহ অগ্নিশিখা।

ছবি: প্রথম আলো, যুগান্তর এবং ইত্তেফাক।

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের আরও কিছু ছবি-



আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা।



এ যেন পোড়া প্রান্তর।



পুড়ে যাওয়া ভবন।



পুড়ে যাওয়া গাড়ি।



আগুন নেভাচ্ছেন কর্মীরা।



পুড়ে যাওয়া এলাকা।



লাশের পরে পোড়া লাশ উদ্ধারের দৃশ্য দেখে বিষন্ন জীবন বাজি রেখে উদ্ধারে অংশ নেয়া ফায়ার সার্ভিস কর্মীগনও।



আহ! পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া কত মানুষের স্বপ্ন এ যে!



এমন আগুন যেন আর দেখতে না হয় আমাদের।



এম্বুলেন্সে করে লাশ নেয়া হচ্ছে হাসপাতালে।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮:১৭
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জলরেখার নীচে

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫১

পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।

আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়

লিখেছেন শাহেদ শাহরিয়ার জয়, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৩

আহ সময়,
তুমি শেখাও,আমি শিখি না।
তুমি পড়াও,আমি পড়ি না,
তুমি দেখাও, আমি দেখি না।
বলেছিলে- একদিন বুঝবো,
সবকিছু হারিয়ে খুঁজবো!


তুমি ভুল!

চেয়ে দেখো-
আমি আজো বুঝি না,
আজো হা-হুতাশ নিয়ে কিছু খুঁজি না!

বি:দ্র: অনেকদিন পর!কেউ আছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রসায়ন পরীক্ষায় রসটাই আসল :D

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:০৩

রসায়ন পরীক্ষায় রসটাই আসল। না দেখলে মিস!! =p~


সালোকসংশ্লেষণ B-)

...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা আলোচনায় থাকারই কৌশল মাত্র

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৮

চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া সাবেক স্বৈরশাসক ও বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার আগামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×