somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নবজাতকের কানে আজান; অন্যরকম ভাবনার একটি বিষয়

২১ শে মে, ২০১৯ সকাল ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নবজাতকের কানে আজান; অন্যরকম ভাবনার একটি বিষয়:
সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রথম কাজ হলো নবজাতকের ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামাত দেয়া। হজরত আবু রাফে রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘ফাতিমা রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহার ঘরে হাসান ইবনে আলি রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহুমা ভূমিষ্ঠ হলে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার কানে আজান দিতে দেখেছি।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

নবজাতকের ডান কানে আজান আর বাম কানে ইকামত দেয়া হয়। পৃথিবীতে প্রচলিত বিধান হচ্ছে, নামাজ আদায়ের জন্য আজান এবং ইকামতের প্রয়োজন হয়। আজান এবং ইকামত দেয়া সম্পন্ন হয়ে গেলে বাকি থেকে যায় শুধু নামাজ। তো প্রশ্ন আসতেই পারে, জন্মের পরপরই নবজাতকের কানে এই যে আজান কিংবা ইকামত দেয়া হল, এই আজান অথবা ইকামতের বিপরীতে কোনো নামাজ কি নেই? আর থেকে থাকলে সে নামাজ কখন আদায় করা হবে? আসলে এই প্রশ্নের উত্তর আমার নিকট মনে হচ্ছে, জন্মের পরপরই নবজাতকের কানে যে আজান কিংবা ইকামত দেয়া হয়ে থাকে, সেটারও নামাজ রয়েছে। নবজাতকের কানে আজান দেয়ার পরে সামান্য সময় অপেক্ষা করতে হয় আমাদের এবং একসময় অভিনব একটি নামাজের দৃশ্য আমরা ঠিকই প্রত্যক্ষ করি, যাকে বলা হয়- 'সলাতুল জানাযাহ' বা 'জানাজার নামাজ'। বেলাশেষে, জীবনাবসানের অব্যবহিত পরে অন্যদের এই 'সলাতুল জানাযাহ' বা 'জানাজার নামাজ' আদায় করার মাধ্যমে মূলত: জন্মের পরপরই কানে কানে শুনিয়ে দেয়া সেই আজান কিংবা ইকামতের জবাবটিই দেয়া হয়ে থাকে। আহ! ভাবনার বিষয়, জ্ঞানীদের জন্য শিক্ষারও বিষয় বিচিত্র এই নিয়মের মাঝে- জন্মের পরপরই কানে আজানের একত্ববাদের সুমহান বানী শুনিয়ে দেয়া হয়েছিল যার, তার জীবদ্দশায় সে নামাজটি পড়ার সুযোগ তার আর থাকে না। সে নামাজ পড়ে নিতে হয় তাকে ছাড়াই। অন্যদের। কাছের জনদের। তারই জন্য অন্যরা সে নামাজ আদায় করেন। তাকে সামনে রেখেই। মাইয়্যিতের খাটে শুইয়ে রেখে।

আহ! মসজিদের কোনে রক্ষিত খাটিয়ায় শুইয়ে দিয়ে কবরে রেখে আসার পূর্বক্ষনে জীবনাবসানের পরে শেষ পার্থিব নামাজের অপূর্ব দৃশ্য! কি অদ্ভূত ভাবনার বিষয়! কি দারুন চিন্তার বিষয়! কি বুঝা যায় এ থেকে? আমাদের বুঝে নিতে হবে, আজান ইকামত তো হয়ে গেল, এখন বাকি রয়েছে নামাজের জন্য সকলের একত্রিত হওয়া এবং জামাআতের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হওয়া। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য আজান দেয়া হয়। অাজানের পরে কিছুক্ষন সময় দেয়া হয় মুসল্লীদের একত্রিত হওয়ার জন্য। যা খুবই সামান্য সময়। নবজাতকের বেলায়ও একইরকম মনে হয় বিষয়টি। তার ক্ষেত্রেও সময়ের পরিমান খুবই অল্প। এ সময়ের কোনো টাইম লিমিট নেই। নির্ধারণ করে কিছুই জানিয়ে দেয়া হয় না কাউকে। ৫, ১০ বা ২০, ৩০ কিংবা ৪০, ৫০ অথবা ৮০, ১০০ বছরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু সময়ের সমষ্টি। মাত্র এই সামান্য সময়ের অপেক্ষা। অতি ক্ষুদ্র প্রতীক্ষার সময়ের জীবন। তারপরেই জামাআতে দাঁড়িয়ে যাবেন মুসল্লীগন।

আমার কেন যেন বারবার মনে হয়, নবজাতকের কানে এই যে আজান ইকামত দেয়ার অভিনব সুন্দর পদ্ধতি, এই আজান ইকামতের মাধ্যামে, আজানের শুরুতে এবং শেষে 'আল্লাহু আকবার' তথা 'আল্লাহ মহান' শব্দ এই নতুন অতিথির কানে কানে বলে দিয়ে তাকে যেন স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে, 'হে নবাগত! তোমাকে যিনি জীবন দিলেন সেই স্রষ্টাই মহান! তাঁর চেয়ে বড় আর কেউ নেই। পার্থিব জীবনে লোভ লালসায় পড়ে তাকে ভুলে যেয়ো না। তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ো না। আর যে পার্থিব জীবনে প্রবেশ করতে চলেছো তুমি, মনে রেখো, তা বড়ই প্রলুব্ধকর, বড়ই প্রবঞ্চনাকর, বড়ই বিপদসঙ্কুল, সুতরাং ভুলে যেয়ো না তোমার আসল পথ, আসল ঠিকানা, আসল আবাস। লোভের বশিভূত হয়ে বিপথে চলে বিপদে পড়ো না। এই অল্প সময়ে, এই ক্ষুদ্রতম সময়ে প্রস্তুতি নাও দীর্ঘ-দীঘল অচেনা পারকালীন অন্তহীন পথের সফরের।'

আমরা কি পেরেছি, আমাদের জীবনের ক্ষুদ্রতা এবং সংক্ষিপ্ততা অনুমান-অনুধাবন করতে? পেরেছি কি প্রস্তুতি নিতে অন্তহীন পরকালের সফরের যাত্রী হতে?

ছবি: অন্তর্জাল।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৯
১১টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাতৃভূমিকে ছোট করে প্রতিবেশী দেশকে মহান দেখানোর উদ্দেশ্য কি?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



বহুদিন ব্লগে ঘোরাঘুরি করা হয় না। গত সপ্তাহে কি মনে হলো, ভাবলাম একটু ঘোরাঘুরি করি। তো ঘুরতে ঘুরতে কিছু পোষ্ট পড়লাম; কিছু মন্তব্যও নজরে আসলো, বিশেষভাবে দুইটা মন্তব্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ নিত্য তোমার অন্বেষণে

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:২২

জানি,
তুমি ছড়িয়ে আছো চতুর্দিকেই,
তবুও,
মন খারাপে তাকাই আমি আকাশপানেই
দিনে তাকাই, রাতেও তাকাই,
আলোয় তাকাই , কালোয় তাকাই,
তাকাই মানে তোমায় খুঁজি,
খুঁজতে খুঁজতে চোখ বুঁজি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



আর্জেন্টিনা দুই গোল খেয়ে গেছে!
মেসি পেনাল্টি মিস করেছে। এদিকে খেলা অর্ধেক শেষ। তখনও আমি বলেছি, আর্জেন্টিনা জিতবে। কোনো চিন্তা নাই। প্যারা নাই। চিল। হ্যা আমার কথাই সত্য হয়েছে। আর্জেন্টিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেরকে না রুখলে চড়া মূল্য দিতে হবে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৬



মাহবুব আজিজ, আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম, শাওন, মঞ্জুরুল পান্না, শম্পা রেজা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট ফরিদুর রেজা শাইখ সিরাজ এদেরকে এখনই বন্ধ করতে হবে না হলে বাংলাদেশকে চড়া মূল্য দিতে হবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দোষ গাজী সাহেবের!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৯ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



ধরেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। শেখ হাসিনা সংসদ ভবনের সামনে ভারতের স্বাধীনতা দিবস জাঁকজমক করে পালন করলেন। ভারতের শীর্ষ নেতা এলেন, ভারতের পতাকা উড়ল...

এখন চুপ করে থাকা পাকিস্থানপন্থীরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×