somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
আলহামদুলিল্লাহ। যা চাইনি তার চেয়ে বেশি দিয়েছেন প্রিয়তম রব। যা পাইনি তার জন্য আফসোস নেই। সিজদাবনত শুকরিয়া। প্রত্যাশার একটি ঘর এখনও ফাঁকা কি না জানা নেই, তাঁর কাছে নি:শর্ত ক্ষমা আশা করেছিলাম। তিনি দয়া করে যদি দিতেন, শুন্য সেই ঘরটিও পূর্নতা পেত!

পবিত্র বাইতুল্লাহ এবং মসজিদে নববী আধুনিকিকরণের পেছনের অজানা গল্প-১

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাইতুল্লাহ শরিফ, ছবিঃ অন্তর্জাল।

বর্তমান মসজিদে নববী, ছবিঃ অন্তর্জাল।

পবিত্র বাইতুল্লাহ এবং মসজিদে নববী আধুনিকিকরণের পেছনের অজানা গল্প-১

হারামাইন শরিফাইন অর্থাৎ, মক্কাতুল মুকাররমা এবং মদীনাতুল মুনাওওয়ারায় অবস্থিত পবিত্র দুই মসজিদ বাইতুল্লাহ এবং মসজিদে নববীর আধুনিকিকরণ ও সম্প্রসারণের কাজ বিগত প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর যাবত ধারাবাহিকভাবে হয়ে আসছে। অবশ্য পবিত্র বাইতুল্লাহ বহু পুরাতন এবং পৃথিবীর প্রথম ইবাদতের ঘর হওয়ায় এর সংস্কার কাজ প্রিয় নবীজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের বহু পূর্ব হতেই চলে এসেছে। বর্তমানে এই দুই মহান স্থাপনার রক্ষনাবেক্ষন, সংস্কার এবং আধুনিকিকরণে সউদী আরবের সরকারের নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় কমিটি রয়েছে। মূলতঃ সউদি বাদশাহদের ইচ্ছায় মক্কাতুল মুকাররমা এবং মদীনাতুল মুনাওওয়ারায় অবস্থিত পবিত্র দুই মসজিদের প্রভূত সংস্কার কাজ করা হয়। আমরা জানি, এই দুই পবিত্র মসজিদে ব্যবহৃত পাথরের টাইলসগুলো বিশেষ তাপ শোষণ ক্ষমতাসম্পন্ন অতি দুর্লভ মার্বেল পাথর। এই বিষয়টি নিয়েই, মসজিদে নববীকে ঘিরে রয়েছে চমকপ্রদ এক অলৌকিক ঘটনা। চলুন, শুনে আসি সেই অলৌকিক ঘটনার বিবরণঃ

হারামাইন শরিফাইনের আধুনিকিকরণ ও সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক এ কাজটি করেছেন মিসরের সৌভাগ্যবান এক শতায়ু স্থপতি। যার জন্ম ১৯০৮ ইং সালে এবং যিনি ইন্তিকাল করেন ২০০৮ ইং সালে। তার জীবন যেমন বিস্ময়কর, ঠিক তেমনি দুই মসজিদের, বিশেষ করে মদীনার মসজিদে নববীর কাজও অলৌকিকতাপূর্ণ।

ইসলামের পবিত্রতম স্থান সউদি আরবের মক্কা শহরে অবস্থিত মসজিদুল হারাম। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এবং ইসমাইল আলাইহিস সালাম কর্তৃক নির্মিত বাইতুল্লাহ অভিমুখে মুসলিমরা ছুটে যান হজ্জ ও উমরার জন্য। আল্লাহ তাআ'লার নৈকট্যলাভের আশায়। হজ্জের সময় এখানে উপস্থিত হওয়া মানুষের জমায়েত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মানব সমাবেশের অন্যতম। অপরদিকে মসজিদে নববী হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ যা বর্তমান সউদি আরবের মদিনায় অবস্থিত। গুরুত্বের দিক থেকে মসজিদুল হারামের পর মসজিদে নববীর স্থান। হজরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদিনায় আসার পর এই মসজিদ নির্মিত হয়। নির্মাণের পর অনেকবার পুন-নির্মাণ কিংবা সংস্কার করা হয়েছে মুসলমানদের এই পবিত্র দু'টি মসজিদ। আর মক্কার মসজিদুল হারাম কিংবা মদিনার মসজিদে নববীর সংস্কারে একজন মিশরীয় প্রকৌশলী এবং স্থপতি অনেক ভূমিকা রেখেছেন যিনি নিজের প্রচার, প্রসার ও খ্যাতি থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। এ কারণেই হয়তো অদ্যাবদি তিনি রয়েও গেছেন অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালেই।

সেই মহান ব্যক্তির নাম ড. মুহাম্মদ কামাল ইসমাঈল। তিনি মিশরের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ হিসাবে উচ্চ বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত ব্যক্তি। এবং রয়েল স্কুল অফ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়া এবং স্নাতক অর্জন করা সবচেয়ে কম বয়সী ব্যক্তিও ছিলেন তিনি। সবচেয়ে কম বয়সে ইসলামী আর্কিটেকচারে তিনটি ডক্টরেট ডিগ্রিপ্রাপ্তির জন্য ইউরোপে গিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি রাজার কাছ থেকে নীলে স্কার্ফ এবং আয়রন র‌্যাঙ্কপ্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। এছাড়াও তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনিই প্রথম প্রকৌশলী যিনি মক্কা ও মদীনা মসজিদ সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিলেন।

বাদশাহ ফাহাদ এবং বিন লাদেন কোম্পানির প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি তার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইন এবং স্থাপত্যকর্ম তদারকির জন্য কোনো প্রকার অর্থ গ্রহণ করতে রাজি হননি। তাদের লাখ লাখ টাকার চেক ফিরিয়ে দিয়ে বাকের বিন লাদেনকে তিনি বলেন, আমি কেন পবিত্র দুটি মসজিদে আমার কাজের জন্য অর্থ গ্রহণ করব? তাহলে আমি কীভাবে বিচার দিবসে আল্লাহকে মুখ দেখাব? তিনি ৪৪ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন। তার স্ত্রী একটি পুত্রের জন্ম দিয়ে মারা যান। এরপর তিনি আর বিয়ে করেননি এবং তার মৃৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আল্লাহর ইবাদতে পূর্ণ সময় নিবেদিত করেছিলেন। তিনি গণমাধ্যমের যশ, খ্যাতি এবং অর্থের মোহ থেকে দূরে থেকে তিনি তার সময়কে দুই পবিত্র মসজিদের সেবায় ব্যয় করেছিলেন।

মার্বেল পাথরের সেই গল্পে ফিরে যাই চলুন। এই প্রতিভাবান ব্যক্তির ঐকান্তিক ইচ্ছে ছিল- তিনি তাওয়াফকারিদের জন্য মসজিদুল হারাম অর্থাৎ, কাবা শরিফের মেঝেটি এমন একটি মূল্যবান পাথর দিয়ে ঢাকবেন যেটি সহজে গরম হবে না। যার কারণে তাওয়াফকারী এবং ইবাদতে রত ব্যক্তিবর্গের সুবিধা হয়। এ ব্যাপারে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে খোঁজ খবর নিয়ে অবশেষে তিনি জানতে পারলেন যে, এই বিশেষ তাপ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন মার্বেল কেবল গ্রীসের একটি ছোট পর্বতেই পাওয়া যেত। এ খবর জানার পরে তিনি গ্রীস ভ্রমণ করেন এবং মসজিদুল হারামের জন্য প্রায় উক্ত পাহাড়ের অর্ধেকাংশ পরিমাণে মার্বেল কেনার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। আশ্চর্য্য বিষয় হচ্ছে, তিনি উক্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পরে মক্কার দিকে ফিরে আসতেই সাদা মার্বেল চলে এসেছিল এবং অতি অল্প সময়ে মক্কার পবিত্র মসজিদের মেঝেতে সফলতার সাথে উক্ত মার্বেল স্থাপন সমাপ্ত হয়েছিল।

পবিত্র কাবা শরিফে বিশেষ তাপ শোষণক্ষমতাসম্পন্ন মার্বেল স্থাপনের সুদীর্ঘ ১৫ বছর পরের ঘটনা। সউদি সরকারের পক্ষ থেকে তাকে মদীনার পবিত্র মসজিদে নববীতেও অনুরূপ মার্বেল স্থাপন করতে বলা হয়। এ ব্যাপারে ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ কামাল বলেন, যখন বাদশাহ তাকে নবীজির মসজিদটিকেও একই মার্বেল দিয়ে ঢাকতে বললেন, তখন আমি খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। কারণ, এই ধরণের মার্বেল পাওয়ার জন্য পৃথিবীতে কেবলমাত্র একটিই জায়গা ছিল। এটি ছিল গ্রীস এবং আমি জানি, এরই মধ্যে তার অর্ধেকটা আমিই কিনে নিয়েছি। এবং তা-ও বিগত প্রায় ১৫ বছর পূর্বে। সুতরাং, দীর্ঘ এই ১৫ বছর পরে সেখানে গিয়ে বাকি সেই মার্বেল পাওয়া যাবে- এমনটা কিভাবে আশা করতে পারি! যদি উক্ত মার্বেল না পাওয়া যায়, প্রিয় নবীজীর স্মৃতি বিজড়িত মসজিদে নববীর কাজটি কিভাবে সম্পন্ন করবো ভেবে আমি অস্থিরতায় ডুবে গেলাম। কেবলই আল্লাহ তাআ'লার উপর ভরসা করে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগুতে থাকলাম.....

চলমান।

১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে সবুজ গম্বুজ, ছবিঃ উইকিপিডিয়া

উসমানীয় যুগে মসজিদে নববী, ১৯ শতক, ছবিঃ উইকিপিডিয়া
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:১৭
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নাইজেরিয়ায় ধর্ষকদের পুরষ্কার স্বরূপ খোজাকরণ, শিশু ধর্ষণকারীদের মৃত্যুদন্ডের বিধান; আপনি কি একে নিছকই নির্মমতা বলবেন? আমাদের দেশের ধর্ষকবৃন্দকে এমন পুরষ্কার দেয়ার পক্ষে আওয়াজ তুলুন!!!!

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:১৫

ছবি: অন্তর্জাল।

নাইজেরিয়ায় ধর্ষকদের পুরষ্কার স্বরূপ খোজাকরণ, শিশু ধর্ষণকারীদের মৃত্যুদন্ডের বিধান; আপনি কি একে নিছকই নির্মমতা বলবেন? আমাদের দেশের ধর্ষকবৃন্দকে এমন পুরষ্কার দেয়ার পক্ষে আওয়াজ তুলুন!!!!

পৃথিবী জুড়েই বারবার ধর্ষণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ নিজ বাড়ীতে বাস করে, মাসে ৪/৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১



মানুষ যাতে নিজ গ্রামে, নিজ ঘরে, নিজ পরিবারে বাস করে মাসে ৪/৫ হাজার টাকা আয় করে, কিছুটা সুস্হ পরিবেশে জীবন যাপন করতে পারেন, সেটার জন্য কি করা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সত্যবাদিতা দেশে দেশে

লিখেছেন মা.হাসান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪৬

নূর মোহাম্মদ নূরু ভাই সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের সত্য বিমুখতা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন- মিথ্যার কাছে পরাভূত সত্য (একটি শিক্ষণীয় গল্প) । ঐ পোস্টের কমেন্টে কতিপয় দেশি-বিদেশি জ্ঞানীগুণী ব্লগার তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিলেকোঠার প্রেম-৯

লিখেছেন কবিতা পড়ার প্রহর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১৩

এর ঠিক পরের দিনই কোনো এক ছুটির দিন ছিলো সেদিন। বাসাতেই ছিলাম আমরা দু'জন। সকাল থেকেই আমার ভীষন গরম গরম খিঁচুড়ি আর সেই ধোঁয়া ওঠা খিঁচুড়ির সাথে এক চামচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা ডাহুক

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৩৮



বুকের চাতালে দিনমান কিসের বাদ্যি বাজাও !
কইলজার মইধ্যে ঘাইদেয় সেই বাজন গো বাজনদার।
চোরকাঁটার মতন মাঠঘাট পার হইয়া অন্দরে সিধাও ক্যান কইতে পারো
নিজের বিছনায় ও আমার আরাম নাই।

হইলদা বনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×