somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

'কি' এবং 'কী'-এর মধ্যকার পার্থক্য ও শব্দ দু'টির ব্যবহার

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
'কি' এবং 'কী'-এর মধ্যকার পার্থক্য ও শব্দ দু'টির ব্যবহার

ছবি কৃতজ্ঞতা: অন্তর্জাল।

'কি' এবং 'কী' বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত একটি মাত্র অক্ষরের দু'টি শব্দ। বাংলা ভাষায় এমন এক অক্ষরের শব্দ অনেক রয়েছে। অন্য ভাষায়ও রয়েছে। যেমন- ইংরেজিতে I (আই) মানে আমি, a (এ) মানে একটি ইত্যাদি।

তো, আলোচ্য 'কি' শব্দটি ক্রিয়াবিশেষণ (অব্যয়) এবং 'কী' সর্বনাম পদ হিসেবে কাজ করে। উভয়টিই প্রশ্নবোধক বা বিস্ময়সূচক বাক্যে ব্যবহৃত হয়। সমোচ্চারিত শব্দ হওয়ায় প্রায়শই লেখা ও পড়ার সময় এই শব্দদ্বয়ের বানান ও অর্থ নিয়ে ব্যবহারকারীদের সমস্যায় পড়তে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যার গভীরে গিয়ে এর সমাধানের পরিবর্তে অনেককেই দেখা যায়, তারা সকল ক্ষেত্রে কেবল 'কি' অথবা 'কী' যে কোন একটি শব্দই ব্যবহার করেন। মূলতঃ এই শব্দ দু'টির পার্থক্য না জানার কারণেই এমন প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়, যা প্রকৃতপক্ষে সঠিক নয়। 'কি' এবং 'কী'-এর ভুল ব্যবহার বা প্রয়োগের ফলে বাক্যের সঠিক অর্থও অনেক সময় প্রদান করে না। চলুন, আজ জেনে নিই 'কি' এবং 'কী' এর পার্থক্য এবং এর সঠিক প্রয়োগ।

‘কি’ এর ব্যবহার:

সংক্ষেপে বললে যেসব প্রশ্নের উত্তর ঘাড় অথবা মাথা নেড়ে এককথায়ই দেয়া যায়, অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ এর মাধ্যমে দেয়া সম্ভব, সেসব প্রশ্ন করতে ‘কি’ শব্দটির ব্যবহার বিধেয়। যেমন- একজন যখন কাউকে এই প্রশ্ন করে যে, 'তুমি কি ভাত খেয়েছো?' এর উত্তর স্বাভাবিকভাবে 'হ্যাঁ' অথবা 'না' বলেই দেয়া সম্ভব। এরকম উদাহরণ আরও অনেক দেয়া যায়, যেমন-

আপনি কি কাল সেখানে গিয়েছিলেন?

এর উত্তরেও 'হ্যাঁ' কিংবা 'না' বলাই যথেষ্ট।

আবার, যদি প্রশ্ন করা হয়, তুমি কি বাজারে যাবে?

এর উত্তরেও 'হ্যাঁ' কিংবা 'না' বললেই হয়ে যায়।

‘কী’ এর ব্যবহার:

পক্ষান্তরে যেসব প্রশ্নের উত্তর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ দিয়ে দেয়া যায় না বরং অতিরিক্ত কিছু কথা বা ব্যাখ্যা যোগ করে তবেই দিতে হয়, সেসব প্রশ্ন করতে সাধারণতঃ ‘কী’ শব্দটি ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ, আরও বিস্তারিতভাবে বললে, প্রশ্নবোধক বাক্যের উত্তর যদি বিশদ বিবরণ দ্বারা দিতে হয়, তাহলে এমন বাক্যে ‘কী’ ব্যবহার করা উচিত। যেমন- কেউ একজন যখন প্রশ্ন করে যে, তোমার নাম কী? এর উত্তর কিন্তু শুধুমাত্র 'হ্যা' বা 'না' বলে দেয়ার সুযোগ থাকে না বরং 'হ্যা' বা 'না' -এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট একটি নাম উচ্চারণ করেই দিতে হয়। যেমন- এর উত্তর এভাবে দেয়া যায় যে, 'আমার নাম মাহমুদ', অথবা শুধু 'মাহমুদ' বললেও বলতে হয়। চলুন, এর আরও কয়েকটি উদাহরণ দেখি-

তুমি কি বলতে পারো, সেখানে গেলে আমি কী দেখতে পাবো?

বাক্যটিতে এই 'দেখতে পাবো' -এর পূর্বে থাকা 'কী' -এর উত্তরও কিন্তু এককথায় দেয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ, এই 'কী' -এর উত্তরও দিতে হবে বর্ণনামূলক কথার দ্বারা।

তুমি কী খাবে?

উদাহরণতঃ এর উত্তরে বলা যেতে পারে, আমি ডাল ভাত খাব। এই উত্তরটিও বর্ণনামূলক কথা দ্বারা দেওয়া হয়েছে।

হর্ষ, বিষাদ এবং বিস্ময়সূচক বাক্যেও ব্যবহৃত হয় 'কী'

এছাড়া, বিস্ময়সূচক বাক্য, হর্ষ, বিষাদ, ক্রিয়া বিশেষণ, বিশেষণ ও বিশেষণের বিশেষণ বাক্যেও ‘কী’ ব্যবহৃত হয়। যেমন-

কী সুন্দর কথা বলেছে!
কী মধুর কন্ঠের তিলাওয়াত!
কী অসাধারণ দৃশ্য!
কী নয়নাভিরাম ঝর্ণাধারা!

পরিশেষে আশা করা যাচ্ছে যে, এতক্ষণে 'কি' এবং 'কী' শব্দ দু'টির পার্থক্য এবং সঠিক প্রয়োগস্থল সম্পর্কে আমরা একটি স্পষ্ট ধারণা লাভে সক্ষম হয়েছি। আজ থেকে এই শব্দ দু'টির প্রয়োগে আমরা সচেতনতার পরিচয় দিব ইনশাআল্লাহ।

ধৈর্য্যধারণ করে লেখাটি পাঠে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

লেখাটি প্রণয়নে সহায়তা গ্রহণের জন্য বাংলা উইকিপিডিয়া ও বাংলা কোরার প্রতি কৃতজ্ঞতা।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০২২ বিকাল ৪:০৮
১৮টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমুদ

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

আমুদ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সে এক রাজ্যে রাজার রাজকন্যা
তাঁর রূপ, লাবণ্য, গড়নে মুগ্ধ!
সে বিকশিত গুণবতী
তাকে দেখে জাগে মনে প্রীতি!

তাঁর খুব রাগ কিন্তু মায়াবতী
তাকে দেখলে উদ্ভূত হয় প্রেম রাতারাতি।
সে উড়ে নীল আকাশে
আমি কাতর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×