somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হবে না যে কারণে

০২ রা মে, ২০২৫ বিকাল ৩:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হবে না যে কারণে

ছবি কৃতিত্ব এআই।

দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র—ভারত ও পাকিস্তান—দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা, সীমান্ত সংঘর্ষ এবং অবিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা এবং কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ এখন আর আগের মতো সহজলভ্য কিংবা সম্ভাব্য নয়। আজকের বিশ্বে যুদ্ধ কেবল অস্ত্রের নয়, বরং অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জনমত এবং কৌশলগত স্বার্থের একটি জটিল সমীকরণ।

বিপুল এই বিশ্বে ভারতের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র একমাত্র ইসরায়েল, তবে এই মিত্রতা মূলত সামরিক ও প্রযুক্তি নির্ভর এবং এর আন্তর্জাতিক প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে সীমিত। রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব থাকলেও, রাশিয়া ইরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। যেহেতু ইরান পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তাই রাশিয়ার পক্ষপাত ভারতকে সামগ্রিক সমর্থন দেওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মিত্র চীন—যার সঙ্গে অর্থনৈতিক (CPEC) এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অত্যন্ত দৃঢ়। যুদ্ধের সময় চীন সরাসরি না এলেও, পাকিস্তানের পক্ষে সক্রিয় সহায়তা দেওয়া একপ্রকার নিশ্চিত।

যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় ভারসাম্য রক্ষা করতে চায়। ভারত তার অন্যতম বাণিজ্যিক ও কৌশলগত অংশীদার হলেও, পাকিস্তান আফগানিস্তান সংক্রান্ত ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে, কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষ নেবে না বরং নিরপেক্ষ অবস্থানেই থাকবে। এই নিরপেক্ষতা যুদ্ধের সম্ভাবনা হ্রাস করে। অন্যদিকে, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও মালদ্বীপ—ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো ভারতের আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী মনোভাব এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপে বিরক্ত। ফলে যুদ্ধের সময় তারা ভারতের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নেবে—বিষয়টি অনিশ্চিত। এ অবস্থান ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করে।

উভয় দেশই অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। যুদ্ধ মানে বিশাল ব্যয়, অবকাঠামো ধ্বংস এবং জনজীবনে চরম দুর্ভোগ। এছাড়া, দুই দেশের জনগণও যুদ্ধ নয়, বরং শান্তি ও উন্নয়ন চায়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও যুদ্ধ বিরোধী, বিশেষত পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনায় বিশ্বব্যাপী চাপ তৈরি হবে, যা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রবল বাধা। অন্যদিকে, ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই পরমাণু শক্তিধর দেশ। কোনো ধরনের সামরিক সংঘাত দ্রুতই বিশাল মাত্রায় বিস্তৃত হয়ে যেতে পারে। এই ভয়াবহতা উভয় পক্ষকেই কূটনৈতিক সমঝোতার পথে বাধ্য করে। যুদ্ধ মানেই আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, মানবিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক ধস—যা কেউই চায় না।

সবদিক বিবেচনায় ভারত-পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। ঐতিহাসিক বৈরিতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও আন্তর্জাতিক মিত্রতা, অর্থনৈতিক বাস্তবতা, কৌশলগত ভারসাম্য ও জনমতের কারণে দুই দেশই যুদ্ধ এড়িয়ে চলবে। কূটনৈতিক আলোচনা, সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাই হতে পারে শান্তির পথ। দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই শান্তি ও সমঝোতার উপর—যেখানে যুদ্ধ নয়, পারস্পরিক উন্নয়নই হবে মূলমন্ত্র।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২৫ বিকাল ৩:১৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষমতা ও সম্পদ বণ্টনের রাজনীতি এবং এলিট সমাজ - নির্বাচনের আগের প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



ভোটের সময় এলেই একটি অতি পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে। নির্বাচনপ্রার্থী, যিনি অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধি, সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়েছেন। গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×