somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

নারীনীতি ইস্যুতে তথাকথিত চুশীলদের নিয়ে কিছু কথা

০৪ ঠা মে, ২০২৫ সকাল ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
নারীনীতি ইস্যুতে তথাকথিত চুশীলদের নিয়ে কিছু কথা



ইদানিং নারীনীতি নিয়ে দেশে নানা তর্ক-বিতর্ক চলছে। আলেম-ওলামা এবং ইসলামপন্থীরা যখন পাশ্চাত্যঘেঁষা নারীনীতির সুপারিশকে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন, তখনই মূলত এই আলোচনার বিস্তার ঘটে। অথচ এই সুযোগে কিছু তথাকথিত চুশীল বুদ্ধিজীবী এমনসব বক্তব্য দিচ্ছেন ও লেখালেখি করছেন, যা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়, বরং কখনো কখনো ইসলামের মৌলিক আদর্শের বিরুদ্ধেও চলে যাচ্ছে।

এদের অনেকে নিজেদেরকে মুসলিম দাবী করলেও তাদের বক্তব্যে কুরআন-সুন্নাহর প্রতি সম্মান প্রকাশ পায় না। তারা ইসলামপন্থী বা শরিয়াহপন্থী মানুষদের 'মৌলবাদী', 'বর্বর', 'নারীঘাতক', এমনকি 'গণতন্ত্রবিরোধী' বলতেও পিছপা হন না। অথচ তারা যে যুক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেন, তা পশ্চিমা সেক্যুলার ও নারীবাদী চিন্তাধারার অনুরণন ছাড়া কিছুই নয়। দুঃখজনকভাবে বলতে হচ্ছে, নারী অধিকারের নামে পশ্চিমা সমাজে মূলতঃ নারীকে ভোগ্যপণ্যে পরিণত করা হয়। যেখানে নারীর নিরাপত্তা ও অধিকার বলতে কিছুই থাকে না।

আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই: মুসলিম দাবিদার হলেই কি প্রকৃত মুসলিম হওয়া যায়? কেউ যদি কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশাবলিকে অস্বীকার করে, শরিয়াহর বিধানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে—তাহলে কি তার ঈমানের দাবির যথার্থতা থাকে?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
“হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সামনে এগিয়ে যেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছু শ্রবণকারী, সব কিছু জ্ঞাত।” — সূরা আল-হুজুরাত: ১

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

"لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعاً لما جئت به"
“তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা আমার আনা দীন অনুযায়ী না হয়।” — শরহুস-সুন্নাহ, ইমাম আল-আজুরি

এছাড়া কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে:

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ...
“না, আপনার প্রতিপালকের শপথ! তারা কখনোই ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না তারা আপনাকে নিজেদের মধ্যকার বিবাদের মীমাংসাকারী না মানে, এবং আপনি যে ফয়সালা করেন তাতে তারা মনে কোনো কষ্ট অনুভব না করে ও তা পূর্ণরূপে মেনে না নেয়।” — সূরা আন-নিসা: ৬৫

সুতরাং যারা কুরআন-হাদীসকে পাশ কাটিয়ে স্রেফ পশ্চিমা চিন্তা অনুসরণ করে নারী অধিকার ব্যাখ্যা করতে চান এবং ইসলামী বিধানকে 'বর্বরতা' বলে অপবাদ দেন, তারা নিজেরাই ইসলামের অপব্যাখ্যা দিচ্ছেন। ইসলাম নারীকে অধিকার দিয়েছে, মর্যাদার আসনে বসিয়েছে, নিরাপত্তা ও মর্যাদার মাঝে জীবনযাপন নিশ্চিত করেছে।

وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ
“নারীদের জন্য রয়েছে অধিকার, যেমন তাদের উপর দায়িত্ব রয়েছে—উত্তমভাবে।” — সূরা আল-বাকারা: ২২৮

এছাড়া হাদীসে এসেছে:

"النساء شقائق الرجال"
“নারীরা পুরুষদের সহধর্মিনী বা অংশ।” — আবু দাউদ: ২৩৬

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, যারা কুরআনের সুস্পষ্ট বিধান অস্বীকার করে, যারা আল্লাহ ও রাসূলের হুকুমকে পাশ কাটিয়ে তথাকথিত পাশ্চাত্যনীতি ও নাস্তিক্যবাদীদের তত্ত্ব আঁকড়ে ধরে, তারা কি আদৌ মুসলিম দাবির যোগ্য?

এই দ্বিচারিতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতারণা রুখে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। ইসলাম নারীকে অধিকার দিয়েছে, সম্মান দিয়েছে, গাইডলাইন দিয়েছে। তাই ইসলামের নামে অপপ্রচার চালানো এবং শরিয়াহর বিরুদ্ধাচরণকে "চিন্তার স্বাধীনতা" বলার মানে হলো নিজের ঈমানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।

শেষ কথা:
আমরা ইসলামবিরোধী নই, নারীবিরোধীও নই। বরং যারা ইসলামের নাম নিয়ে নারীর অপমান করে, যারা সত্যিকারের ইসলামী মূল্যবোধকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে, নিজেদেরকে ভেকধারী চুশীল সাজাতে চায়, আমরা তাদের বিরুদ্ধেই কথা বলি। আমরা চাই নারী সম্মান পাক, নারী মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপন করুক—কিন্তু সেটা যেন ইসলামের শাশ্বত মূল্যবোধ অনুসরণ করেই হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মে, ২০২৫ সকাল ৯:৩৫
১৬টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষমতা ও সম্পদ বণ্টনের রাজনীতি এবং এলিট সমাজ - নির্বাচনের আগের প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:২১



ভোটের সময় এলেই একটি অতি পরিচিত দৃশ্য চোখে পড়ে। নির্বাচনপ্রার্থী, যিনি অভিজাত শ্রেণির প্রতিনিধি, সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চাইতে গিয়েছেন। গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটছেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×