somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নতুন নকিব
নিজেকে লেখক বলে পরিচয় দিতে সংকোচ হয়; লেখালেখি ইবাদতসদৃশ সাধনা বলেই লিখি। নিজেকে জানা, বিশ্বকে অনুধাবন করা এবং সর্বোপরি মহান স্রষ্টার পরিচয় অন্বেষণই আমার নীরব যাত্রার পাথেয়। দূরে সরিয়ে দেওয়া নয়-সৃষ্টিকূলকে ভালোবাসায় আগলে রাখার শিক্ষাই ইসলামের মূল বাণী।

পুতুলের জন্য একগুচ্ছ শোকগাঁথা!

১২ ই জুলাই, ২০২৫ বিকাল ৫:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পুতুলের জন্য একগুচ্ছ শোকগাঁথা!

আহ্! কী দুঃখ, কী শোক, কী তীব্র হৃদয়ব্যথা! ১১ জুলাই, ২০২৫—এই দিনটি যদি ক্যালেন্ডারে না থাকতো! এই দিনটিতেই চার মাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে! ইচ্ছে হয়, ক্যালেন্ডার থেকে তারিখটাকে একটানে ঘ্যাচাং করে কেটে ফেলতে! কিন্তু তা কি আর পারা যায়? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতো একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, যেটিকে মনে করা হতো মানবতা ও নৈতিকতার বাতিঘর (!), সেই সংস্থাটি কীভাবে এমন অন্যায় সিদ্ধান্ত নিতে পারলো?

আমরা ভেবেছিলাম, WHO মানে “We Help Others”! কিন্তু কাজকাম দেখেশুনে এখন বুঝতে আর বাকি নেই, আসলে ওদের মানে "We Humiliate Ours"! এই সংস্থারই মহাপরিচালক তেদরোস সাহেব এক ই-মেইলে ঘোষণা দিয়েছেন—সায়মা ওয়াজেদ পুতুল চার মাসের ছুটিতে! আহা পুতুল! তুমি তো আমাদের গর্ব, আমাদের আশা আকাঙ্খার ছবি, এদেশের একমাত্র পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী তনয়া! WHO-এর চেয়ার ছিল তোমার জন্য একটি গদি নয়, ছিল মহতী দায়িত্বের আলয়!

তোমার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা? এটাও বুঝি একটা কারণ? দুদকই কি শেষ সত্য? ওরা বলছে, তুমি জাল সার্টিফিকেট দিয়েছো! হায়, যদি দিয়েও থাকো, ওটাও তো তোমার ‘Creative Portfolio’—আজকাল তো সবাই বলে, "Fake it till you make it!" তাহলে পুতুল Fake করলে দোষটা কোথায়? আর সাবেক বিএসএমএমইউতে তোমার সেই অনারারি পদের কথা? বিশ্ববিদ্যালয় না চিনলেও—আমরা তো তোমাকে পুরোপুরি চিনি, এই মাটি তোমাকে চেনে, ভারতমাতার আকাশ-বাতাসও তো তোমাকে ঠিকই চিনে কোলে টেনে নিয়েছে! ঠিক যেমন টেনে নিয়েছে তোমার বিদূষী মাতাকে!

বিএসএমএমইউ চাক বা না চাক, মানুক কিংবা না মানুক, পুতুল তুমি ওখানে বাস্তবে না থাকলেও ‘মনের দিক থেকে’ তো ঠিকই ছিলে! এটাও কি কম কথা? এতটুকু গভীরে চিন্তা করতে পারলো না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা! এটাকে বিশ্ব সংস্থা না বলে গ্রাম্য সংস্থা উচিত নয় কি? পুতুল, তোমার বিরুদ্ধে বলা হচ্ছে, তুমি না কি ৩৩ কোটি টাকা সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে উদরস্ত করেছ! তো, কী হয়েছে তাতে? আহা, ব্যাংকগুলো তো টাকা দিয়েছে তোমাকে দেখেই, পুতুল ফাউন্ডেশন করেছেন বলেই তো ব্যাংকগুলো টাকা দেওয়ার জন্য হুমরি খেয়ে পড়েছিল! ওসব টাকা কোথায় গেছে—এটাও কি WHO-র দেখার বিষয়?

আর ব্যাংকগুলো যদি এই সামান্য পরিমান টাকা হারিয়েও থাকে, বড়জোড় টাকাই তো হারিয়েছে, এতে মানুষ তো আর মরেনি! কিন্তু WHO সেটা বোঝে না। বরং বেম নামের এক ‘অজানা বেমারি’ এনে বসিয়ে দিল তোমার চেয়ারটাতে! কী সাংঘাতিক নির্মমতা! কী নিষ্ঠুর অবিচার! আচ্ছা, পুতুল এখন কোথায়? আমরা তো কিছুই জানি না। তবে আমাদের কল্পনায় তিনি নিশ্চয়ই কোনো সমুদ্রসৈকতে বসে বিশ্ব মানবতার কান্না গুনছেন, আর দেখছেন—“নতুন কোনো ফাউন্ডেশন গড়ার স্বপ্ন!” ঠিক, সূচনা ফাউন্ডেশনের মত করেই!

আমরা, পুতুলের ভক্তরা, দিল্লীর প্রশ্রয়ে তার পলাতক মায়ের অন্ধ ভক্তবৃন্দ তাকে ছুটিতে পাঠানোর তীব্র প্রতিবাদ করছি! আমরা সচেতনভাবে অনুভব করছি, তার এই ছুটি আসলে ছুটি নয়—এটা চরিত্রহনণের অপচেষ্টা! এই চার মাসের ছুটি, আসলে চারশো বছরের ষড়যন্ত্রের ফসল! তেদরোস সাহেব, আপনি আসলেই ত্যাদর আছেন! আপনি কি জানেন, আপনি কত বড় সর্বনাশটা করেছেন, আমাদের!?
এমন এক সময়ে আপনি এই মিসাইলটা ছুঁড়ে মারলেন, যখন স্বয়ং আমাদের নেত্রী নিজেই পলাতক! দলের অধিকাংশ নেতা নেত্রীগণ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত, দেশছাড়া, ছন্নছাড়া! এমনকি, সুদূর বিলেতে থাকা নেত্রীর বোনের কণ্যাও মন্ত্রিত্বচ্যূত!

আপনি শুনুন, আপনি দেখুন—আপনার এই ই-মেইল আমাদের হৃদয়ে মেইল করে দিয়েছে ‘দুঃখ-ডেলিভারি’! আপনার সিদ্ধান্ত WHO-কে না কাঁদালেও আমাদের কাঁদিয়েছে! দুদক যেহেতু পুতুলকে স্বাগত জানানোর জন্য ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ওয়ারেন্ট জারির আবেদন পর্যন্তু করে রেখেছে! সেহেতু আমরা বলি—আমাদের পুতুলকে আমাদের দেশে ফেরত দেওয়া হোক! না হলে, আমরা কাঁদবো, শোক জানাবো, প্রতিবাদ করবো, আন্তর্জাতিক আদালতের দুয়ারে ধর্না দেব—ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুলাই, ২০২৫ বিকাল ৫:১৭
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×